খুলনা | রবিবার | ১৯ এপ্রিল ২০২৬ | ৬ বৈশাখ ১৪৩৩

হেরাজ মার্কেট মসজিদের ইমামের বিরুদ্ধে অশ্লীলতার অভিযোগ

ইমাম নিয়োগ নিয়ে বিরোধের জের মসজিদে দু’গ্রুপের সংঘর্ষ

নিজস্ব প্রতিবেদক |
০১:১১ এ.এম | ১৯ এপ্রিল ২০২৬


নগরীর হেরাজ মার্কেট মসজিদের ইমামকে নিয়ে বিরোধের জের ধরে দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে। গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় মসজিদের অভ্যন্তরে এ ঘটনা ঘটে।  
মার্কেট কমিটির নেতারা জানান, শুক্রবার তারা জানতে পারেন ইমাম পরিষদ মসজিদে আজ (শনিবার) একটি মিটিং করবে। তাৎক্ষণিক তারা খুলনা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। সদর থানা পুলিশের ওসি ইমাম পরিষদের নেতাদের সাথে কথা বলে মিটিং স্থগিত করে দেন। তারাও সেটা মেনে নেন। কিন্তু আজ (শনিবার) আসরের নামাজের সময় তারা মসজিদে প্রবেশ করে এবং নামাজ শেষে সেই বিষয়গুলো উত্থাপনের চেষ্টা করেন। তখন হেরাজ মার্কেট ওষুধ ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক নাজমুস সাকিব পিন্টু জানান এটাতো প্রশাসন থেকে নিষেধ করা আছে। তাহলে এখানে কেন করছেন। এ কথা বলার সঙ্গে সঙ্গে ইমাম পরিষদের সঙ্গে আসা কিছু বহিরাগতরা সাধারণ সম্পাদকের উপরে হামলা করেছে। তিনি আহত হয়েছেন। তিনিসহ মার্কেটের অনেকেই আহত হয়েছেন। তারা চিকিৎসা নিচ্ছেন। এ ব্যাপারে সুষ্ঠু বিচারের জন্য আমরা থানায় এসেছি।
নগরীর হেরাজ মার্কেট ওষুধ ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক নাজমুস সাকিব পিন্টু বলেন, বৃহত্তর হেরাজ মার্কেট মসজিদের ইমামের বিরুদ্ধে নারী কেলেঙ্কারি সংক্রান্ত ভিডিও প্রকাশিত হয়। এ ঘটনায় মামলাও হয়েছে। আমরা বলেছি আইন আইনের প্রক্রিয়ায় চলুক। যেহেতু উনি বিতর্কিত হয়েছে, নামাজ না পড়াক। মুসল্লিরা নামাজ পড়বে না, তবুও উনি নামাজ পড়াবেন। ইমাম পরিষদকে পরিকল্পতভাবে ম্যানেজ করে নিয়ে আসতে উনি মাগরিবের নামাজ পড়াবেন। মিটিং করবে এমন বিষয় মসজিদ কমিটি এবং মার্কেট কমিটিকে জানায়নি। সকালেও আমাদের বলা হয়েছে মিটিং করবে না। আসরের সময় দেখলাম কিছু লোক এনে মসজিদ ভরে দিল। নামাজ পড়ার পরে ইমামকে বসানোর জন্য মিটিং শুরু করলো। নিষেধ করার পর আমাদের উপর হামলা চালায়। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত গতকাল রাতে মসজিদের ইমাম আবুল কালাম আজাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) মোহাম্মাদ তাজুল ইসলাম বলেন, খুলনা হেরাজ মার্কেটের ইমামের বিরুদ্ধে গত ৫ মাস আগে আদালতে একটি ধর্ষণ মামলা হয়েছিল। আদালত সেটিকে তদন্ত করার জন্য পিবিআইকে তদন্তে নির্দেশ দিয়েছিল। মার্কেট কমিটির নেতৃবৃন্দ মসজিদে নতুন ইমাম নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করে।
অপর দিকে এ মামলা নিয়ে ইমাম পরিষদের সন্দেহ রয়েছে। তাদের ভাষ্য ইমামের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণ করলে আমাদের কোনো অভিযোগ থাকবে না। ইমাম পরিষদ ওই ইমামকে মসজিদে রাখার কথা বললেও মসজিদ কমিটির নেতৃবৃন্দ জানায় তারা মসজিদের মুয়াজ্জিনে পেছনে নামাজ পড়লেও তার পেছনে নামাজ পড়বে না। সন্ধ্যায় ইমাম মসজিদে গেলে মার্কেট কমিটির সদস্যরা তাকে ঘিরে ফেলে। এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে হাতাহাতি হয়। পরে ইমামকে উদ্ধার করে থানায় আনা হয়। এরআগে আমরা উভয় পক্ষকে নিয়ে বসার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু তারা প্রশাসনের কোনো কথা মানতে চায়নি। সন্ধ্যায় হাতাহাতি হয়েছে। উভয়পক্ষকে শান্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ