খুলনা | রবিবার | ১৯ এপ্রিল ২০২৬ | ৬ বৈশাখ ১৪৩৩

দেশে বর্তমান মজুত গ্যাসে ১২ বছর সরবরাহ সম্ভব: জ্বালানিমন্ত্রী

খবর প্রতিবেদন |
০৫:৩৫ পি.এম | ১৯ এপ্রিল ২০২৬

 

দেশে বর্তমানে যে পরিমাণ প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুত রয়েছে, তা দিয়ে আগামী ১২ বছর সরবরাহ বজায় রাখা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।

জাতীয় সংসদে বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোশারফ হোসেনের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

মন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশে উত্তোলনযোগ্য গ্যাসের মোট মজুত ২৯ দশমিক ৭৪ ট্রিলিয়ন ঘনফুট। এর মধ্যে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ২২ দশমিক ১১ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস ইতিমধ্যে উত্তোলন করা হয়েছে। ফলে ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি পর্যন্ত অবশিষ্ট মজুতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ৬৩ ট্রিলিয়ন ঘনফুট।

তিনি উল্লেখ করেন, যদি নতুন কোনো গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত না হয় এবং বর্তমানের গড় হার অনুযায়ী দৈনিক প্রায় ১ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়, তবে এই অবশিষ্ট মজুত দিয়ে আনুমানিক ১২ বছর পর্যন্ত চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে।

গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকারের গৃহীত নানা পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, পেট্রবাংলার কর্মপরিকল্পনার আওতায় ৫০ ও ১০০টি কূপ খনন ও ওয়ার্কওভারের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ইতোমধ্যে ২৬টি কূপের কাজ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং বাকি কূপগুলোর খনন ও ওয়ার্কওভার কার্যক্রম বিভিন্ন পর্যায়ে চলমান রয়েছে।

জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাইসমিক সার্ভে বা ভূ-তাত্ত্বিক জরিপ কার্যক্রমের বিস্তারিত তুলে ধরে তিনি বলেন, বাপেক্স বর্তমানে ব্লক-৭ ও ৯ এলাকায় প্রায় ৩ হাজার ৬০০ কিলোমিটার ২ডি সাইসমিক ডাটা সংগ্রহের কাজ করছে।

একই সঙ্গে, পাশাপাশি বিজিএফসিএল হবিগঞ্জ, বাখরাবাদ ও মেঘনা এলাকায় ১ হাজার ৪৫০ বর্গ কিলোমিটার জুড়ে ৩ডি সাইসমিক জরিপ শুরু করতে যাচ্ছে। এ ছাড়া ভোলার চরফ্যাশন, জামালপুর, তিতাস, নরসিংদী, কৈলাশটিলা ও ফেঞ্চুগঞ্জসহ বেশ কিছু এলাকায় ব্যাপক পরিসরে ৩ডি সাইসমিক জরিপ পরিচালনার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

সরকারের এই তৎপরতা নতুন গ্যাসক্ষেত্রের সন্ধান পাওয়ার সম্ভাবনাকে আরও উজ্জ্বল করবে বলে মন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ