খুলনা | সোমবার | ২০ এপ্রিল ২০২৬ | ৭ বৈশাখ ১৪৩৩

ট্রাম্প বললেন ভ্যান্স পাকিস্তান যাবেন না, হোয়াইট হাউস বলছে যাবেন

খবর প্রতিবেদন |
১১:২৯ পি.এম | ১৯ এপ্রিল ২০২৬

 

ইরানের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নিতে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সই প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস। রোববার হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা ভ্যান্সের পাকিস্তান সফরে যাওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছেন। যদিও এর কিছুক্ষণ আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কারণে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স পাকিস্তানে যাচ্ছেন না।

রোববার সকালের দিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত নিরসনে তেহরানের সঙ্গে বৈঠকের জন্য ইসলামাবাদে মার্কিন প্রতিনিধি দলকে পাঠাচ্ছেন তিনি। সোমবার সন্ধ্যার দিকে মার্কিন প্রতিনিধি দলের সদস্যরা ইসলামাবাদে পৌঁছাব্নে। ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান যুদ্ধবিরতি চুক্তির মেয়াদ ২২ এপ্রিল শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

তবে নিরাপত্তা উদ্বেগের কথা জানিয়ে ট্রাম্প বলেছিলেন, গতবার ব্যর্থ হওয়া আলোচনার নেতৃত্ব দেওয়া ভ্যান্স এবার যাচ্ছেন না। দেশটির সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজকে তিনি বলেন, এটি শুধু নিরাপত্তার কারণে। জেডি চমৎকার মানুষ।

কিন্তু এই মন্তব্যের পরপরই হোয়াইট হাউস অবস্থান পরিবর্তন করে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার এই আলোচনায় যোগ দেবেন। গত ১১-১২ এপ্রিলের বৈঠকেও এই ত্রয়ী উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে, ট্রাম্প অভিযোগ করে বলেন, শনিবার হরমুজ প্রণালিতে হামলার মাধ্যমে ইরান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ‘পুরোপুরি লঙ্ঘন’ করেছে। কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে না পারলে ইরানের সব বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতু ধ্বংস করে দেওয়া হবে বলেও হুমকি দেন তিনি।

নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প বলেন, তিনি ইরানকে একটি যুক্তিসঙ্গত চুক্তির প্রস্তাব দিচ্ছেন। তেহরান যদি তা প্রত্যাখ্যান করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের প্রতিটি বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং সেতু গুঁড়িয়ে দেবে। ভদ্র আচরণের দিন শেষ!

তিনি আরও লেখেন, সেগুলো খুব দ্রুত ও সহজেই ধ্বংস হবে। যদি তারা চুক্তি না মানে, তাহলে গত ৪৭ বছরে অন্য প্রেসিডেন্টদের যা করা উচিত ছিল, তা করা আমার জন্য সম্মানের বিষয় হবে।

জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন দূত মাইক ওয়াল্টজ এবিসি নিউজকে বলেন, নতুন দফার আলোচনার ফলাফল অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী হবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

এদিকে, ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মাঝে রোববারও হরমুজ প্রণালি বন্ধ রয়েছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথটি পুনরায় খুলে দেওয়ার একদিন পরই শনিবার ইরান এটি আবার বন্ধ ঘোষণা করে।

যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা বলেছে, শনিবার ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড ওই প্রণালিতে একটি ট্যাঙ্কারে গুলি চালিয়েছে। অন্যদিকে নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা ভ্যানগার্ড টেক বলেছে, পারস্য উপসাগর থেকে পালিয়ে যাওয়ার সময় একটি খালি প্রমোদতরী ধ্বংস করার হুমকি দিয়েছে ইরানি বাহিনী। এছাড়া অজ্ঞাত বস্তুর আঘাতে একটি জাহাজের কন্টেইনার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

আগামী বুধবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার এই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
সূত্র: এএফপি।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ