খুলনা | সোমবার | ২০ এপ্রিল ২০২৬ | ৭ বৈশাখ ১৪৩৩

অনির্বাচিত চন্দন খুলনা নৌপরিবহন মালিক গ্রুপের নিয়ন্ত্রক, সংবিধান লঙ্ঘনের মহোৎসব

নিজস্ব প্রতিবেদক |
০১:১৯ এ.এম | ২০ এপ্রিল ২০২৬


খুলনা বিভাগীয় অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন মালিক গ্রুপে সংবিধান লঙ্ঘনের মহোৎসব চলছে। সংগঠনটির নির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটিতে না থাকা সত্তে¡ও নিয়ন্ত্রকের ভূমিকায় রয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতা হাফিজুল ইসলাম চন্দন। কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় অংশগ্রহণ শুধু নয়, মালিক গ্রুপের ভবনে তার জন্য আলাদা বসার ব্যবস্থা রয়েছে। সংগঠনটির গণতন্ত্র সংশোধনসহ তিনটি সাব-কমিটিতে আওয়ামী লীগ নেতা আওয়ামী লীগ নেতা হাফিজুল ইসলাম চন্দনের নামও রাখা হয়েছে। এসব ঘটনায় মালিক গ্রুপের সদস্যদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। মালিক গ্রুপে কোনো ফ্যাসিস্ট প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করা হলে সেটা প্রতিহত করা হবে বলে বিএনপি’র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর সৈয়দ জাহিদ হোসেনকে সভাপতি এবং মফিজুর রহমানকে মহাসচিব করে খুলনা নৌপরিবহন মালিক গ্রুপের ২০ সদস্যের পরিচালনা পরিষদ গঠন হয়। মালিক গ্রুপের সংঘ স্মারক (মেমোরেন্ডাম অব এ্যাসোসিয়েশন) বা গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন করে একাধিক উপ-কমিটিতে নগরীর ২৩নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের ৬নং উপদেষ্টা হাফিজুল ইসলাম চন্দনকে একাধিক কমিটিতে রাখা নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। 
গঠনতন্ত্র অনুযায়ী,  বিভিন্ন উপ-কমিটিতে কার্যনির্বাহী পরিষদের মধ্যে থেকে একজন আহবায়ক ও প্রয়োজনীয় সংখ্যক সদস্য নিয়ে উপ-কমিটি গঠন করার নিয়ম রয়েছে। তবে এটা লঙ্ঘন করে কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য নয় এবং আওয়ামী লীগ নেতা চন্দনকে তিনটি উপ-কমিটির আহবায়ক করা হয়েছে। 
কমিটিগুলো হলো সিরিয়াল প্রথা, সর্বনিম্ন দর ও বিলম্ব মাশুল বিষয়ক, ড্যামারেজ বিল যাচাই-বাছাই চার্জ নিষ্পত্তি বিষয়ক এবং নৌপরিবহন মালিক গ্রুপের গঠনতন্ত্র সংশোধন বিষয়ক। এছাড়াও একই ভাবে গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন করে আইটি বিষয়ক সাবকমিটি এবং মহিলা বিষয়ক সাবকমিটির আহবায়ক নৌপরিবহন কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য বহির্ভূতদের নিয়ে গঠন করা হয়েছে।
সূত্র জানায়, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চাচাতো ভাই শেখ হেলাল উদ্দিন, শেখ রুবেল, নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি কেসিসি’র অব্যাহিতপ্রাপ্ত মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেকের সাথে হাফিজুল ইসলাম চন্দনের সুসম্পর্ক ছিল। এমনকি কেসিসি নির্বাচনে তিনি প্রচারণার কাজেও অংশ নিয়েছিলেন। 
সূত্র আরও জানায়, অবৈধ ব্যবসায়িক সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণে ও ফ্যাসিবাদ পুনঃপ্রতিষ্ঠায় আওয়ামী সুবিধাভোগী সৈয়দ জাহিদ হোসেন এসব সুযোগ সৃষ্টি করে দিচ্ছেন বলে অভিযোগ সংগঠনটির সাধারণ সদস্যদের। আওয়ামী আমলে রূপপুর তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে পাথর সরবরাহ, তৎকালীন মেয়রের প্রভাব খাটিয়ে মোংলা বন্দরের মূল ফটকে ব্যক্তিগত অফিস ও খুলনার সোনাডাঙ্গা আবাসিকে অনুমোদনহীন সড়ক নির্মাণ, খাদ্য পরিবহন (নৌ) সমিতিতে টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ, ডিবিসিসি এবং মেজর ক্যারিয়ারে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে খুলনার ব্যবসায়ীদের বাদ দিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে সিন্ডিকেট হড়ে তুলেছেন। এতে ক্ষতিগ্রন্ত হচ্ছেন খুলনার ব্যবসায়ীরা।
নৌ-পরিবহন মালিক গ্রুপের মহাসচিব মোঃ মফিজুর রহমান বলেন, চন্দন আওয়ামী লীগের লোক এটা আমাদের জানা নেই। দীর্ঘদিনের কার্যক্রম যেভাবে পরিচালনা করি সেইভাবে চন্দনকে উপ-কমিটির আহবায়ক করা হয়েছে।
এসব বিষয়ে হাফিজুল ইসলাম চন্দন বলেন, আমি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলাম না। এটা আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার। আওয়ামী লীগ আমলে শেখ পরিবারের সাথে সবারই ছবি ছিল। ব্যবসায়ীরা যদি আমাকে না চায় তবে আমি কোনো কমিটিতে থাকবো না।
মহানগর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন বলেন, মালিক গ্র“পে সংবিধান লঙ্ঘনের একটা বিষয় আমরা শুনেছি। যদি কেউ কোনো ভাবেই ফ্যাসিস্টদের প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করে তাহলে শক্তভাবে দমন করা হবে। এই বিষয়ে কোনো ছাড় নেই।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ