খুলনা | সোমবার | ২০ এপ্রিল ২০২৬ | ৭ বৈশাখ ১৪৩৩

দেশে বর্তমান মজুত গ্যাসে ১২ বছর সরবরাহ সম্ভব

বিদ্যুৎ খাতে ভয়াবহ সংকট, বকেয়া বিলও ঋণ ছাড়িয়েছে ৫২ হাজার কোটি টাকা : সংসদে জ্বালানিমন্ত্রী

খবর প্রতিবেদন |
০১:৩৫ এ.এম | ২০ এপ্রিল ২০২৬


দেশের বিদ্যুৎ খাতের সামগ্রিক আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর বকেয়া বিল এবং ব্যাংকের কাছে ঋণের পরিমাণ বিশাল আকার ধারণ করেছে। গত ৯ এপ্রিল পর্যন্ত বিদ্যুৎ খাতে বকেয়া বিলের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫২ হাজার ৩০০ কোটি টাকারও বেশি। এর বাইরেও ব্যাংক খাতে বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর ঋণের বোঝা রয়েছে প্রায় দেড় লাখ কোটি টাকা।
রোববার জাতীয় সংসদে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল-এর সভাপতিত্বে ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন-এর লিখিত প্রশ্নের বিদ্যুৎ খাতের এই আর্থিক পরিস্থিতি তুলে ধরেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। 
তিনি জানান, দেশের সরকারি, বেসরকারি ও বিদ্যুৎ আমদানিসহ সব বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিপরীতে গত ৯ এপ্রিল পর্যন্ত বকেয়া বিলের পরিমাণ ৫২ হাজার ৩০০ কোটি টাকার বেশি।
মন্ত্রী জানান, এই বিশাল বকেয়ার মধ্যে গ্যাস ও জ্বালানি তেলভিত্তিক আইপিপি বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর ক্যাপাসিটি ও ফুয়েল পেমেন্ট বাবদ বকেয়া ১৭,৩৫৭.৬৮ কোটি টাকা। এছাড়া জয়েন্ট ভেঞ্চার ও আইপিপি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কয়লার মূল্য ও ক্যাপাসিটি পেমেন্ট বাবদ বকেয়া রয়েছে ১৫,৪৫২.৯১ কোটি টাকা। পাশাপাশি পেট্রোবাংলার কাছে সরকারি ও বেসরকারি কোম্পানির গ্যাস বিল বকেয়া বাবদ পাওনা ১১,৬৩৪.০৬ কোটি টাকা। সরকারি কোম্পানির ক্যাপাসিটি ও ফুয়েল পেমেন্ট বাবদ বকেয়া ৫,৬২৩.০৩ কোটি টাকা এবং ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানির বকেয়া ৩,৮৯১.৫৫ কোটি টাকা। এছাড়াও হুইলিং চার্জ বাবদ বকেয়া রয়েছে ১৯৮.৯৪ কোটি টাকা।
তিনি জানান, বকেয়া বিলের পাশাপাশি বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর আর্থিক সক্ষমতা নিয়ে বড় ধরনের শঙ্কা তৈরি করেছে তাদের ব্যাংক ঋণ। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিপরীতে ব্যাংকিং খাতে মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১,৪৯,৩১১.২৬ কোটি টাকা।
দেশে বর্তমানে যে পরিমাণ প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুত রয়েছে, তা দিয়ে আগামী ১২ বছর সরবরাহ বজায় রাখা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী । জাতীয় সংসদে বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ মোশারফ হোসেনের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
মন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশে উত্তোলনযোগ্য গ্যাসের মোট মজুত ২৯ দশমিক ৭৪ ট্রিলিয়ন ঘনফুট। এর মধ্যে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ২২ দশমিক ১১ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস ইতিমধ্যে উত্তোলন করা হয়েছে। ফলে ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি পর্যন্ত অবশিষ্ট মজুতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ৬৩ ট্রিলিয়ন ঘনফুট।
তিনি উল্লেখ করেন, যদি নতুন কোনো গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত না হয় এবং বর্তমানের গড় হার অনুযায়ী দৈনিক প্রায় ১ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়, তবে এই অবশিষ্ট মজুত দিয়ে আনুমানিক ১২ বছর পর্যন্ত চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে।
গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকারের গৃহীত নানা পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, পেট্রোবাংলার কর্মপরিকল্পনার আওতায় ৫০ ও ১০০টি ক‚প খনন ও ওয়ার্কওভারের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ইতোমধ্যে ২৬টি ক‚পের কাজ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং বাকি ক‚পগুলোর খনন ও ওয়ার্কওভার কার্যক্রম বিভিন্ন পর্যায়ে চলমান রয়েছে।
জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাইসমিক সার্ভে বা ভ‚-তাত্তি¡ক জরিপ কার্যক্রমের বিস্তারিত তুলে ধরে তিনি বলেন, বাপেক্স বর্তমানে ব্লক-৭ ও ৯ এলাকায় প্রায় ৩ হাজার ৬০০ কিলোমিটার ২ডি সাইসমিক ডাটা সংগ্রহের কাজ করছে।
একই সঙ্গে, পাশাপাশি বিজিএফসিএল হবিগঞ্জ, বাখরাবাদ ও মেঘনা এলাকায় ১ হাজার ৪৫০ বর্গ কিলোমিটার জুড়ে ৩ডি সাইসমিক জরিপ শুরু করতে যাচ্ছে। এ ছাড়া ভোলার চরফ্যাশন, জামালপুর, তিতাস, নরসিংদী, কৈলাশটিলা ও ফেঞ্চুগঞ্জসহ বেশ কিছু এলাকায় ব্যাপক পরিসরে ৩ডি সাইসমিক জরিপ পরিচালনার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। সরকারের এই তৎপরতা নতুন গ্যাসক্ষেত্রের সন্ধান পাওয়ার সম্ভাবনাকে আরও উজ্জ্বল করবে বলে মন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ