খুলনা | সোমবার | ২০ এপ্রিল ২০২৬ | ৭ বৈশাখ ১৪৩৩

বৈধ কাগজপত্র না থাকায় আটক হন তিনি

কুয়েতে জেল খেটে দেশে ফেরত বিমানবন্দরে নেমেই মৃত্যু

খবর প্রতিবেদন |
০১:৫৭ এ.এম | ২০ এপ্রিল ২০২৬


নিজের ও পরিবারের ভাগ্যবদলের স্বপ্ন নিয়ে ফেনীর পরশুরামের বাসিন্দা নুরুল ইসলাম সাগর (৩৫) ৮ মাস আগে গিয়েছিলেন মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কুয়েতে। বৈধ কাগজপত্র না থাকায় সেখানে আটক হন তিনি। বেশ কয়েক দিন কারাগারে ছিলেন। কারাভোগ শেষে তাঁকে পাঠানো হয় নিজ দেশে। শনিবার মধ্যরাতে ঢাকা বিমানবন্দরে নেমেই বুকের ব্যথায় তিনি লুটিয়ে পড়ে মাটিতে। একপর্যায়ে চিরতরে পাড়ি জমান না ফেরার দেশে। এমন মৃত্যুতে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন পরিবারের স্বজনেরা।
নুরুল ইসলাম ফেনীর পরশুরাম উপজেলার চিথলিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ শালধর গ্রামের মোঃ শাহজাহান মিয়ার ছেলে। তাঁর দুই শিশুসন্তান রয়েছে। নুরুল ইসলাম চিথলিয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ছিলেন।
নুরুল ইসলামের পরিবার সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর অনেকটা বাড়িছাড়া ছিলেন ছাত্রলীগ নেতা নুরুল ইসলাম। ২০২৫ সালের আগস্ট মাসে কর্মসংস্থানের সন্ধানে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কুয়েতে চলে যান তিনি। সেখানে যাওয়ার পর বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান শেষে পুলিশের হাতে আটক হন। পরে ১৫ দিন কারাগারে থাকেন। কারাভোগ শেষে তাঁকে দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। গতকাল দিবাগত রাত একটার দিকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামার পর হঠাৎ তাঁর বুকে ব্যথা শুরু হয়। বিমানবন্দরের দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা তাঁকে দ্রুত কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে রাত দুইটার দিকে হৃদ্যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়।
নিহত নুরুল ইসলামের বাবা মোঃ শাহজাহান জানান, রাত দুইটার দিকে পরশুরাম থানার পুলিশ তাঁদের বাড়িতে এসে জানায় যে তাঁর ছেলে ঢাকার বিমানবন্দরে মারা গেছেন। পরে তিনি দুই প্রতিবেশীকে সঙ্গে নিয়ে মরদেহ আনতে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন।
নুরুল ইসলামের ছোট বোন শেফালী আক্তার বলেন, ‘আমার ভাই বাড়িতে এলে রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করেছিলেন। এ থেকেই তিনি চাপে ছিলেন। এ অবস্থায় তিনি বিমানবন্দরে নেমে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। অতিরিক্ত মানসিক চাপে আমার ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে বলে আমি মনে করছি।’
পরশুরাম মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আশরাফুল ইসলাম বলেন, কুয়েত থেকে আসা একটি বিমানে ঢাকায় নামার পর বিমানবন্দরের ভেতরেই নুরুল ইসলাম বুকে ব্যথা অনুভব করে পড়ে যান। পরে পুলিশ তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর সঙ্গে থাকা পাসপোর্টের ঠিকানা অনুযায়ী বিষয়টি বিমানবন্দর থানা থেকে পরশুরাম থানাকে জানানো হলে পুলিশ রাতেই পরিবারকে খবর দেয়। সে অনুযায়ী বিমানবন্দর থেকে স্বজনেরা মরদেহ সংগ্রহ করেছেন।
নিহত নুরুল ইসলাম সাগরের বিরুদ্ধে পরশুরাম থানায় কোনো মামলা আছে কি না, এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি বলেন, প্রাথমিকভাবে খোঁজ নিয়ে তিনি জেনেছেন যে নুরুল ইসলাম সাগরের বিরুদ্ধে থানায় কোনো মামলা নেই।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ