খুলনা | সোমবার | ২০ এপ্রিল ২০২৬ | ৭ বৈশাখ ১৪৩৩

হামের কারণে জরুরি অবস্থা ঘোষণার পরিস্থিতি হয়নি: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

খবর প্রতিবেদন |
০১:৩৭ পি.এম | ২০ এপ্রিল ২০২৬

 

হামের কারণে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে হবে, এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেছেন, এখন যে অবস্থা, সেটাকে মহামারি বলা যাবে না। হামে প্রথম শিশু মৃত্যুর পর পরই সরকার আইসিইউর ব্যবস্থা করেছে।

আজ সোমবার সকালে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার জিন্দা পার্কে অবস্থিত লিটল অ্যাঞ্জেল সেমিনারিতে টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠান শেষে মন্ত্রী এ মন্তব্য করেন।

গত প্রায় দুই মাসে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে দুই শতাধিকের বেশি শিশু মৃত্যুর প্রেক্ষাপটে দেশে জরুরি পরিস্থিতি ঘোষণা করা হবে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন।

স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, ‘হামের কারণে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে হবে, এমন পরিস্থিতি নেই। প্রথম বাচ্চা মারা যাওয়ার পরপরই আমরা আইসিইউর ব্যবস্থা করেছি। দেশের বিভিন্ন স্থানে ভেন্টিলেটর দিয়েছি। বিগত সরকার আমাদের হাতে ভ্যাকসিন রেখে যায়নি। আমরা দ্রুত গ্যাভি ও ইউনিসেফের মাধ্যমে টিকা নিয়েছি।’

মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এ মাসের ৫ তারিখ থেকে ১৮ জেলার ৩০টা উপজেলায় ভ্যাকসিন দেওয়া শুরু করেছি। আজকে থেকে সারাদেশে ভ্যাকসিন দেওয়া শুরু হয়েছে। আগামী ২/৩ দিনের মধ্যে হামে আক্রান্তের পরিমাণ কমে আসবে।’

এক প্রশ্নের জবাবে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘একটা দুর্যোগ থেকে কতদিনে উত্তরণ ঘটবে তা বলা কষ্টকর। তবে রোগীর সংখ্যা কমে আসছে। ইমার্জেন্সি ঘোষণা দেওয়ার কথা যারা বলে, তা কি বুঝে বলে সেটা বোধগম্য নয়। এখন যে অবস্থা, সেটাকে মহামারি বলা যাবে না।’

তিনি যুক্ত করেন, ঢাকায় হামের প্রাদুর্ভাব কম। হাসপাতালে সেসব রোগী আসছে, তারা অন্যান্য জেলা থেকে এসে ভর্তি হচ্ছে। সরকার চেষ্টা করছে ঢাকাতেও টিকা দেওয়ার পরিমাণ বৃদ্ধি করতে।

টিকাদান কর্মসূচি উদ্বোধন অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন— নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের এমপি মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, জেলা প্রশাসক রায়হান কবির, জেলা সিভিল সার্জন এএফএম মুশিউর রহমান প্রমুখ।

উল্লেখ্য, দেশব্যাপী জরুরি হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচির আওতায় ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। শুক্রবার ও সরকারি ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত সব স্থায়ী ও অস্থায়ী টিকাদান কেন্দ্রে এই টিকা দেওয়া হবে। দেশব্যাপী বিশেষ এই ক্যাম্পেইন সিটি করপোরেশন এলাকায় আগামী ২০ মে পর্যন্ত এবং দেশের অন্যান্য এলাকায় ১২ মে পর্যন্ত চলবে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ