খুলনা | সোমবার | ২০ এপ্রিল ২০২৬ | ৭ বৈশাখ ১৪৩৩

বিচার বিভাগকে ‘ন্যায় ও আস্থার’ জায়গা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চায় সরকার: প্রধানমন্ত্রী

খবর প্রতিবেদন |
০২:১০ পি.এম | ২০ এপ্রিল ২০২৬

 

বর্তমান সরকার বিচার বিভাগকে দেশের মানুষের জন্য ‘ন্যায় ও আস্থার’ প্রধান স্থল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে বদ্ধপরিকর বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ সোমবার (২০ এপ্রিল) নিজ জেলা বগুড়ায় বিচার ব্যবস্থার আধুনিকায়নে ‘ই-বেইলবন্ড’ কার্যক্রমের উদ্বোধনকালে তিনি এ প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই বগুড়ায় তার প্রথম সরকারি সফর।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান এবং আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।

উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসন ও শোষণ থেকে মুক্তির পর দেশে জনগণের সরাসরি ভোটে একটি দায়বদ্ধ ও জবাবদিহিতামূলক গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। জনগণ তাদের হারানো রাজনৈতিক অধিকার ফিরে পেয়েছে। আর কোনো স্বৈরাচার যাতে জনগণের অধিকার কেড়ে নিতে না পারে, তা নিশ্চিত করাই এখন সময়ের দাবি।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘আইন, শাসন ও বিচার বিভাগের মধ্যে সমন্বয় ছাড়া গণতন্ত্রের সুফল মিলবে না। ফ্যাসিবাদী আমলে বিচার বিভাগকে দলীয় আদালতে পরিণত করা হয়েছিল। ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে দেশ অন্ধকারের শাসন থেকে মুক্তি পেয়েছে। এখন আমাদের লক্ষ্য বিচার বিভাগকে সম্পূর্ণ স্বাধীন এবং বৈষম্যহীন করা।’

বিচারপ্রার্থীদের হয়রানি কমাতে ই-বেইলবন্ড বা ইলেকট্রনিক জামিননামা পদ্ধতির গুরুত্ব তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, ‘আগে আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর জেলখানা পর্যন্ত পৌঁছাতে ১৩টি ধাপ পার হতে হতো। এখন ডিজিটাল পদ্ধতিতে কয়েক মিনিটের মধ্যেই জামিননামা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে যাবে।

এর ফলে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য এবং জামিননামা জালিয়াতি বন্ধ হবে; জামিন আদেশ পাওয়ার পর কারামুক্তিতে আর দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে হবে না; ই-বেইলবন্ড সিস্টেমকে পুলিশের সিডিএমএস, আদালতের কেস ম্যানেজমেন্ট এবং এনআইডি ভেরিফিকেশনের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে।

প্রাথমিকভাবে আজ থেকে বগুড়া, ঝিনাইদহ, যশোর, মাগুরা, রাজশাহী, নাটোর ও কুষ্টিয়া জেলায় এ কার্যক্রম শুরু হলো। পর্যায়ক্রমে এটি সারা দেশে চালু করা হবে।

বিগত আমলের ‘গায়েবি মামলা’ ও ‘ভুয়া ওয়ারেন্টের’ সংস্কৃতির কঠোর সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অনলাইনে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট, রিলিজ অর্ডার এবং থানা থেকে ওয়ারেন্ট রিকলের কাজ সম্পন্ন করা হবে। এর ফলে এক জেলার আসামিকে অন্য জেলায় গ্রেপ্তার করে আটকে রাখা বা ভুয়া ওয়ারেন্টে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করার পথ বন্ধ হবে।’

প্রধানমন্ত্রী আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, ‘কারাগারের প্রায় ৩০ শতাংশ মানুষ সামান্য অর্থের অভাবে আইনজীবী নিয়োগ করতে না পেরে বছরের পর বছর বিনা বিচারে জেল খাটছেন।’ এ বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তিনি আইনমন্ত্রীকে বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করেন।

বক্তব্যের শেষে প্রধানমন্ত্রী আইনজীবী ও বার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যদের এই আধুনিক প্রযুক্তি গ্রহণ করে বিচারপ্রার্থীদের দ্রুত সেবা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘ন্যায়বিচার কোনো দয়া নয়, এটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার। আমরা এমন এক বাংলাদেশ গড়তে চাই যেখানে প্রধানমন্ত্রী থেকে সাধারণ নাগরিক—সবার জন্য আইন ও বিচার হবে সমান।’

প্রিন্ট

আরও সংবাদ