খুলনা | সোমবার | ২০ এপ্রিল ২০২৬ | ৭ বৈশাখ ১৪৩৩

জাপানে ৮০ সেন্টিমিটার উচ্চতার সুনামির আঘাত

খবর প্রতিবেদন |
০৫:১৭ পি.এম | ২০ এপ্রিল ২০২৬

 

উত্তর জাপানে ৭ দশমিক ৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর ৮০ সেন্টিমিটারের (প্রায় ৩১.৫ ইঞ্চি) একটি সুনামি ঢেউ দেশটির ইওয়াতে প্রদেশের কুজি বন্দরে আঘাত হেনেছে বলে জানিয়েছে জাপানের আবহাওয়া সংস্থা (জেএমএ)।

জেএমএ-এর বরাতে জাপানি রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এনএইচকে জানিয়েছে, স্থানীয় সময় সোমবার বিকেল ৫টা ৩৪ মিনিটে ঢেউটি কুজি বন্দরে আঘাত হানে। একই সময়ে ইওয়াতে প্রদেশের মিয়াকো বন্দর, হোক্কাইডোর উরাকাওয়া শহর এবং আওমোরি প্রদেশের হাচিনোহে বন্দরে ৪০ সেন্টিমিটারের সুনামি আঘাত হেনেছে।

সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে জেএমএ কর্মকর্তারা বলেছেন, দ্বিতীয় ও তৃতীয় ঢেউ প্রথমটির চেয়েও বেশি শক্তিশালী হতে পারে। তারা সুনামি সতর্কতা পাওয়া বাসিন্দাদের সতর্কতা প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

সতর্কতা প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত নিরাপদে থাকার আহ্বান জানিয়ে তারা বলেছে, ‘উপকূলীয় এবং নদী তীরবর্তী এলাকাগুলো থেকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যান, যেমন—কোনো উঁচু ভূমি অথবা আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিন’।

এছাড়াও আগামী কয়েকদিনে, সর্বোচ্চ ৫ মাত্রার ভূমিকম্পের ব্যাপারে সতর্ক থাকতেও জাপানের জনগণকে পরামর্শ দিয়েছে জেএমএ।

এরআগে সেমাবার স্থানীয় সময় ৪টা ৫৩ মিনিটে দেশটির উত্তরাঞ্চলের সানকিরু উপকূলে ৭ দশমিক ৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এটি সমুদ্রের তলদেশের ১০ কিলোমিটার গভীরে সংঘটিত হয়।

ভূমিকম্পটি এতটাই শক্তিশালী যে এটি কয়েকশ কিলোমিটার দূরে রাজধানী টোকিওতেও অনুভূত হয়েছে। ভূমিকম্পের কারণে সেখানকার ওনাগাওয়া পারমাণবিক প্ল্যান্টে কোনো অস্বাভাবিকতা পরিলক্ষিত হচ্ছে কি না সেটি পরীক্ষা করা হচ্ছে।

ভূমিকম্পের পরপরই জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির কার্যালয়ের সংকট ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রে একটি টাস্ক ফোর্স গঠন করে।

টাস্ক ফোর্স জানিয়েছে, সোমবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬ টা ৪৫ পর্যন্ত হোক্কাইডো, আওমোরি, ইওয়াতে, মিয়াগি এবং ফুকুশিমা প্রিফেকচারের ৩ মিটার পর্যন্ত উঁচু সুনামির আশঙ্কা করা হচ্ছে। এসব এলাকার প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজারেরও বেশি বাসিন্দাকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, প্রায় ১২ কোটি ৫০ লাখ মানুষের আবাসস্থল এই দ্বীপরাষ্ট্র জাপানে প্রতি বছর সাধারণত প্রায় ১ হাজার ৫০০টি ভূকম্পন অনুভূত হয় এবং যা বিশ্বের মোট ভূমিকম্পের প্রায় ১৮ শতাংশ। ২০১১ সালের ৯ মাত্রার এক ভয়াবহ সমুদ্রগর্ভস্থ ভূমিকম্পের ফলে সৃষ্ট সুনামিতে প্রায় ১৮ হাজার ৫০০ মানুষ নিহত হয় এবং ফুকুশিমা পারমাণবিক কেন্দ্রে এক বিধ্বংসী বিপর্যয় ঘটে।
সূত্র: এনএইচকে

প্রিন্ট

আরও সংবাদ