খুলনা | শনিবার | ০২ মে ২০২৬ | ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩

কয়রায় প্রতিবন্ধী স্কুলের মালামাল চুরি নয় লুটের আশঙ্কায় সরিয়ে নেয় কর্তৃপক্ষ

কয়রা প্রতিনিধি |
১১:৫৯ পি.এম | ২০ এপ্রিল ২০২৬


কয়রা থানার সামনে অবস্থিত শেখ রাসেল প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের মালামাল চুরির খবরটি ভিত্তিহীন বলে জানা গেছে। স্থানীয়ভাবে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, চুরি নয় লুটপাটের আশঙ্কায় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নিজেরাই মালামাল নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছিল।
স¤প্রতি “থানার সামনে প্রতিবন্ধী স্কুলের ১৫ লাখ টাকার মালামাল চুরি” শিরোনামে কয়েকটি অনিবন্ধিত অনলাইন পোর্টাল ও একটি ফেসবুক পেইজে সংবাদ প্রকাশিত হয়। সেখানে বিদ্যালয়ের কম্পিউটার ল্যাব থেকে ১৫টি ল্যাপটপ, একটি ভ্যান ও অন্যান্য যন্ত্রাংশ চুরির দাবি করা হয়। তবে বিদ্যালয়ের কেয়ারটেকার ও স্থানীয় বাসিন্দারা এ তথ্যকে মিথ্যা বলে দাবি করেছেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, কয়রা উপজেলার শেখ রাসেল প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয়টি ২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠা করেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম বাহারুল ইসলাম। অভিযোগ রয়েছে বিদ্যালয়টি জাতীয়করণের আশ্বাস দিয়ে শিক্ষক-কর্মচারীদের কাছ থেকে কয়েক দফায় মোটা অঙ্কের অর্থ ও জমি নেওয়া হয়। কিন্তু শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন চালু না হওযায় নানা সমস্যার মুখে ২০২৩ সালের শেষদিকে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।
গত বছরের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের পর এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হলে বিক্ষুব্ধ জনতা বাহারুল ইসলামের বাড়ি ঘর ও ব্যক্তিগত অফিসে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। এ পরিস্থিতিতে বিদ্যালয়েও হামলা ও লুটপাটের আশঙ্কায় কর্তৃপক্ষ ল্যাপটপ-কম্পিউটার, চেয়রা-টেবিলসহ অন্যান্য মূল্যবান আসবাবপত্র সরিয়ে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সরিয়ে নেওয়া মালামাল বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক ও কর্মচারীর বাড়িতে সংরক্ষিত রয়েছে। তারা অভিযোগ করে বলেন পালাতক সংশ্লি¬ষ্ট নেতা শিক্ষক-কর্মচারীদের পাওনা টাকা পরিশোধ এড়াতে পরিকল্পিতভাবে কিছু অনলাইন মাধ্যমে ‘চুরির’ গুজব ছড়িয়েছে।
কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান ৫ আগস্টে গণ-অভ্যুত্থানের পরে এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনা করে স্কুল কর্তৃপক্ষ এইসব মালামাল সরিয়ে নেন। বিদ্যালয়ের কেয়ারটেকার মেহেদী হাসানসহ তিন জন একটি ভ্যান যোগে ল্যাপটপ-কম্পিউটার, চেয়ার-টেবিলসহ আসবাবপত্র মেহেদীর মামার বাড়িতে নিয়ে যায়।
অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে কেয়ারটেকার মেহেদী হাসান বলেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কমিটির সদস্যের পরামর্শে এসব মালামাল নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে মিথ্যা তথ্য দিয়ে গুজব ছড়ানোর বিষয়ে কিছু বলতে চাননি।
কয়রা কেয়য়ার ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক মোহসিন আলম বলেন, বাহারুল ইসলাম সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ করতে দলীয় কর্মীদের দিয়ে মিথ্যা গুজব ছড়িয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।”
কয়রা থানার অফিসার ইনচার্জ (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ শাহ আলম বলেন, কয়েকটি অনলাইন পোর্টালে নিউজটি দেখেছি। তবে মাঠ পর্যায়ে গিয়ে নিউজের সত্যতা পাওয়া যায়নি।

 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ