খুলনা | মঙ্গলবার | ২১ এপ্রিল ২০২৬ | ৮ বৈশাখ ১৪৩৩

আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অপরাধের মূল উৎসগুলো খুঁজে বের করা জরুরি

|
১২:৩৬ এ.এম | ২১ এপ্রিল ২০২৬


রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে খুন, ধর্ষণ, ডাকাতি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি বেড়ে যাওয়ায় জনগণ উদ্বিগ্ন। বিশেষ করে বিভিন্ন অপরাধকর্মের ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় জনমনে নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা বাড়ছে। পুলিশের পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৫ সালের প্রথম তিন মাসের তুলনায় ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসে দেশে হত্যাকান্ড বেড়েছে ১৪ শতাংশ। তবে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি বোঝার জন্য পরিসংখ্যানের প্রয়োজন হয় না, আমাদের চারপাশে ঘটে যাওয়া দৈনন্দিন ঘটনার দিকে দৃষ্টি দিলেই তা অনুধাবন করা যায়। উদাহরণস্বরূপ, রাজধানীর অপরাধপ্রবণ এলাকা বলে পরিচিত মোহাম্মদপুরে খুনখারাবি, ছিনতাই যেন স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে। এ এলাকায় সন্ধ্যার পর মানুষ চলাচল করতে ভয় পায়। রাজধানীর আরও কিছু এলাকাসহ দেশের কোনো কোনো অঞ্চলে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অধিকতর নাজুক। বস্তুত সারা দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির দিকেই সরকারের অবিলম্বে দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন। মনে রাখা দরকার, অন্য যে কোনো সমস্যার চেয়ে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি বেশি দৃশ্যমান হয়ে ওঠে। কারণ, জীবনের নিরাপত্তা মানুষের কাছে প্রধান বিবেচ্য বিষয়। আশাকরি, সরকার বিষয়টি অনুধাবন করে।
দেশে একটি নতুন রাজনৈতিক সরকার এসেছে। এ সরকার যেন সু-স্থিরভাবে তার কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে পারে, সেজন্যও একটি স্থিতিশীল আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রয়োজন। এজন্য সবার আগে অপরাধের মূল উৎসগুলো খুঁজে বের করা জরুরি। অপরাধ বৃদ্ধির কারণগুলো সঠিকভাবে চিহ্নিত করে এর ভিত্তিতে নিতে হবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা। অনেক ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে অপরাধ সংঘটিত হয়ে থাকে। এছাড়া মাদক, অবৈধঅস্ত্রের সহজলভ্যতা এবং কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতার কারণেও অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। অপরাধ যে কারণেই ঘটুক না কেন, অপরাধীর শাস্তি হওয়াটা অত্যন্ত জরুরি। এক্ষেত্রে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। কারণ, বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা অপরাধীকে উৎসাহিত করে। অপরাধী যে-ই হোক, তাকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে। এক্ষেত্রে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের বিকল্প নেই। অপরাধ দমনে সারা দেশে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা উচিত; তবে অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোয় বেশি দৃষ্টি দিতে হবে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির বিষয়টি সরকারের কাছে বিশেষ গুরুত্ব পাবে, এটাই কাম্য। অন্যথায় এ অস্থিরতা সমাজকে এক গভীর অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেবে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ