খুলনা | মঙ্গলবার | ২১ এপ্রিল ২০২৬ | ৮ বৈশাখ ১৪৩৩

ক্রিকেটে নতুন কেলেঙ্কারি, বিশ্বকাপে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের নেপথ্যে ভারতীয় গ্যাংস্টার!

ক্রীড়া প্রতিবেদক |
০২:১৭ পি.এম | ২১ এপ্রিল ২০২৬


চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি-মার্চে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে কানাডা জাতীয় দলকে ঘিরে ঘিরে ফিক্সিং কেলেঙ্কারির তদন্ত শুরু করেছে আইসিসি। এর মধ্যেই সামনে এসেছে কয়েকটি শিউরে ওঠার মতো তথ্য।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতীয় গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোইর গ্যাং বিশ্বকাপে কানাডা ও নিউজিল্যান্ডের গ্রুপ পর্বের ম্যাচে সরাসরি ফিক্সিংয়ে জড়িত ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। আইসিসির অ্যান্টি-করাপশন ইউনিট বর্তমানে কানাডার অধিনায়ক দিলপ্রীত বাজওয়ার সংশ্লিষ্টতা নিয়ে তদন্ত করছে।

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে গ্রুপ ম্যাচে বাজওয়ার করা একটি ব্যয়বহুল ও অস্বাভাবিক ওভার থেকেই প্রথম সন্দেহের শুরু। স্পট-ফিক্সিংয়ের আশঙ্কায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং তার মোবাইল ফোনও তল্লাশি করা হয়।

কানাডিয়ান ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশনের (সিবিসি) এক প্রতিবেদনে সরাসরি লরেন্স বিষ্ণোইর গ্যাংয়ের নাম উঠে এসেছে। কানাডায় সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত এই সহিংস চক্রের বিরুদ্ধে গায়ক সিধু মুসেওয়ালাকে হত্যার অভিযোগও রয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বাজওয়ার হঠাৎ অধিনায়ক হয়ে ওঠার পেছনেও এই গ্যাংয়ের ভূমিকা ছিল।

সিবিসি সূত্র জানায়, ২০২৫ সালের জুলাইয়ে ব্রিটিশ কলম্বিয়ার সারে শহরের একটি রেস্টুরেন্টে প্রায় ২৫ জন ক্রিকেটার জড়ো হয়েছিলেন। সেখানে কানাডা দলের এক তারকা ক্রিকেটারের টেবিলে গিয়ে দুই ব্যক্তি নিজেদের বিষ্ণোই গ্যাংয়ের প্রতিনিধি পরিচয় দেন এবং হুমকি দেন–দিলপ্রীত বাজওয়া ও আরেক তরুণ ক্রিকেটারের উন্নতি সমর্থন না করলে তার পরিবারকে ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করতে হবে।

প্রতিবেদনে ‘নোয়া’ নামে আরেক ব্যক্তির কথাও বলা হয়েছে, যিনি একইভাবে হুমকির শিকার হন বলে দাবি করা হয়েছে।

তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, এই সিন্ডিকেট প্রশাসন ও খেলোয়াড়দের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিজেদের পছন্দের লোক বসানোর চেষ্টা করছিল। বিশেষ করে দিলপ্রীত বাজওয়াকে টি-টোয়েন্টি  বিশ্বকাপ শুরুর কয়েক সপ্তাহ আগে অধিনায়ক করার সিদ্ধান্ত ব্যাপক বিতর্ক তৈরি করে। অভিযোগ, হুমকি দিয়ে তাকে দলে রাখা হয় এবং পরে নেতৃত্বেও বসানো হয়।

‘নোয়া’ বলেন, ‘আমি বিরোধিতা করেছিলাম। ৪০ মিনিটের মধ্যে একই নম্বর থেকে একটি বার্তা পাই, যাতে একটি ছবি ছিল। সেটি আমাকে আতঙ্কিত করে দেয়।’

সিবিসির প্রতিবেদনে বর্তমান ক্রিকেট কানাডার সভাপতি অরবিন্দর খোসার নামও এসেছে। অভিযোগ, হুমকি দেওয়া ব্যক্তিদের সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল। তবে খোসা এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তার সুনাম নষ্টের চেষ্টা।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি সাবেক সভাপতি আমজাদ বাজওয়ার সঙ্গে রেস্টুরেন্টে ঘটা ঘটনার বিষয়ে কথা বলেছিলেন, যদিও আমজাদ বিষয়টি জানেন না বলে দাবি করেন।

আরও বলা হয়, সভাপতি হওয়ার আগেই বাজওয়াকে অধিনায়ক করার প্রস্তাবদাতাদের মধ্যে খোসাও ছিলেন।

‘নোয়া’ বলেন, ‘আমার ব্যক্তিগতভাবে মনে হয় তারা ম্যাচ ফিক্সিং করে অর্থ উপার্জন করতে চেয়েছিল। সে কারণেই তারা তাকে ক্ষমতায় আনতে চেয়েছিল। না হলে তাকে অধিনায়ক করতে এত দূর যাওয়ার কারণ কী?’

প্রতিবেদন আরও দাবি করেছে, কানাডার সাবেক কোচ খুররম চোহানকে আগের সভাপতি আমজাদ বাজওয়া, সিইও সালমান খান এবং বোর্ড সদস্য রানা ইমরান ম্যাচের অংশবিশেষ ফিক্স করতে বলেছিলেন।

উল্লেখ্য, দক্ষিণ এশীয় সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে চাঁদাবাজি ও গুলিবর্ষণসহ একাধিক সহিংস ঘটনার পর কানাডা সরকার লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংকে আনুষ্ঠানিকভাবে সন্ত্রাসী সংগঠন ঘোষণা করে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ