খুলনা | মঙ্গলবার | ২১ এপ্রিল ২০২৬ | ৮ বৈশাখ ১৪৩৩

চিকিৎসককে হামলা: ২০ হাজার টাকায় সন্ত্রাসী ভাড়া, নেপথ্যে টেন্ডার দ্বন্দ্ব

খবর প্রতিবেদন |
০৫:২৪ পি.এম | ২১ এপ্রিল ২০২৬

 

দুই প্রতিষ্ঠানের টেন্ডার সংক্রান্ত দ্বন্দ্বের জেরে ‎রাজধানীর মহাখালীতে জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের উপপরিচালককে ছুরিকাঘাতের ঘটনাটি ঘটে বলে জানিয়েছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। ২০ হাজার টাকায় ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের দিয়ে এ হামলা করা হয়। এ ঘটনায় আজ মঙ্গলবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড ইন্তেখাব চৌধুরী। ‎

‎তিনি বলেন, মহাখালী ক্যানসার হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের উপপরিচালক ডা. আহমদ হোসেনের (৫০) ওপর হামলার ঘটনায় পাঁচ ভাড়াটে সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ‎

‎প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, জাতীয় ক্যানসার হাসপাতালের একটি টেন্ডারকে কেন্দ্র করে দুটি গ্রুপের মধ্যে বিরোধ চলছিল। ওই দ্বন্দ্ব থেকেই ভাড়াটে সন্ত্রাসী দিয়ে এই হামলা চালানো হয়। এতে কোনো রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি বলেও জানায় র‍্যাব। ‎

‎সংবাদ সম্মেলনে ইন্তেখাব চৌধুরী আরও বলেন, টেন্ডারকে ঘিরে বিরোধে জড়িত দুটি গ্রুপের মধ্যে একটি ‘ইএমই ট্রেডার্স’ এবং অন্যটি ‘মোনায়েম গ্রুপ’। এর মধ্যে ইএম ট্রেডার্সের মালিক রুবেল মালয়েশিয়ায় অবস্থান করে এই হামলার নির্দেশ দিয়েছেন। তাঁর পক্ষে দেশে থাকা করিমসহ অন্যরা কাজটি সম্পন্ন করে। ‎

‎র‍্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, মাত্র ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের দিয়ে এই হামলা চালানো হয়। হামলার ধরন দেখে এটি হত্যার উদ্দেশ্যে নয়, বরং ভয়ভীতি প্রদর্শনের জন্য করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ‎

‎সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাব-১ এর অধিনায়ক মো. নেয়ামুল হালিম খান বলেন, ঘটনার পরপরই ভুক্তভোগী চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়, যা তদন্তে সহায়ক হয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যেই অভিযুক্তদের শনাক্ত ও গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে।

‎তিনি আরও বলেন, ঘটনার পেছনে থাকা মূল পরিকল্পনাকারী বিদেশে অবস্থান করলেও তাঁকে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

‎এদিকে এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে বনানী থানা পুলিশ। গ্রেপ্তাররা হলেন— ইউসূফ আলী ও নেছার আহমেদ। আজ মঙ্গলবার ডিএমপির গুলশান জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) শাহ মোস্তফা তারিকুজ্জামান এ তথ্য জানান। এ নিয়ে মোট সাতজনকে গ্রেপ্তারের তথ্য দিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

‎শাহ মোস্তফা তারিকুজ্জামান বলেন, রাতেই অভিযান চালিয়ে তাঁদের দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

‎এর আগে গতকাল সোমবার বিকেলে ডা. আহমদ হোসেন হাসপাতাল থেকে বাসায় যাওয়ার পথে বনানীতে এই ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহতাবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হামলায় তাঁর হাত ও পিঠে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। আহতাবস্থায় প্রথমে তাঁকে জাতীয় ক্যানসার হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

‎এ ঘটনায় হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা বাদী হয়ে রাজধানীর বনানী থানায় অজ্ঞাত ৮-১০ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন।

‎ঘটনার পরপরই গোয়েন্দা নজরদারি বাড়িয়ে তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। র‍্যাব-১ ও সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখার যৌথ অভিযানে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ