খুলনা | শনিবার | ০২ মে ২০২৬ | ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩

শ্যামনগরে খাল উন্মুক্ত করার দাবি জানাতে গিয়ে মিথ্যে মামলার আসামি হয়ে কারাগারে দুই কৃষক

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাতক্ষীরা |
১২:৫১ এ.এম | ২২ এপ্রিল ২০২৬


সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার কুলতলী খাল উন্মুক্ত করে জলাবদ্ধতা নিরসন ও কৃষিজমি রক্ষার দাবি জানাতে গিয়ে উল্টো মামলার আসামি হয়ে কারাগারে দিন কাছে শ্যামনগরের দুই প্রান্তিক কৃষক। মিথ্যে মামালায় দুই কৃষককে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানোর ঘটনায় উপজেলার মুন্সীগঞ্জ এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত কয়েক বছর ধরে শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের ধানখালী গ্রামের প্রভাবশালী মোস্তফা সানা স্থানীয় রাজনৈতিক একটি মহলকে ম্যানেজ করে কুলতলী খালে অবৈধভাবে নেট-পাটা দিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে মাছ চাষ করে আসছিলেন। নেট-পাটা ব্যবহার করায় খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ একরকম বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে খাল দিয়ে পানি সরতে না পেরে ইউনিয়নের হাজার হাজার বিঘা কৃষি জমি তলিয়ে থাকে। এর ফলে চাষাবাদ ব্যাহত হওয়ায় চরম অর্থনৈতিক ও খাদ্য সংকটের মুখে পড়েন স্থানীয়রা।
এমন প্রেক্ষাপটে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং হতদরিদ্র মানুষের পুষ্টি চাহিদা পূরণে মাছ আহরণের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষে বিএডিসি ২০২৫ সালে কুলতলী খাল খনন করে। কিন্তু খননের পরও মোস্তফা সানা খালটি আগের মতই তার দখলে রাখেন। যে কারণে খালটি দখলমুক্ত করে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার দাবিতে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে স্থানীয় শত শত মানুষ আন্দোলন করে আসছেন। তারা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে গণস্বাক্ষর সংবলিত স্মারকলিপিও জমা দেন।
স্থানীয় কৃষক আব্দুল আল মামুন বলেন, এ বিষয়ে শ্যামনগর সদরের সাবেক চেয়ারম্যান লিয়াকাত বাবুর নেতৃত্বে শ্যামনগর উপজেলা বিএনপি’র অফিসে একটি সমঝোতা হয়েছিল। শর্ত ছিল দখলকারীরা আমাদের বিরুদ্ধে মামলা করবে না এবং আগামী বছরে দখলকৃত খাল কৃষকদের জন্য উন্মুক্ত করে দিবে। তা সত্তে¡ও গত ৮ এপ্রিল খাল উদ্ধারের দাবিতে সোচ্চার হওয়া কৃষকদের বিরুদ্ধে শ্যামনগর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় ১৭ জনের নাম উল্লেখপূর্বক আরো অনেককে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়।
এই মিথ্যে মামলায় রেহাই পাননি ৮০ বছর বয়সের বৃদ্ধরাও। ইতোমধ্যে পুলিশি অভিযানে কৃষক জালাল গাজী (৬৫) ও মতিয়ার মল্লিককে (৫৫) গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গ্রেফতার করার পর থেকে মুন্সীগঞ্জে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তারা কারাগারে থাকা দুই কৃষককে দ্রুত মুক্তি দেওয়ার দাবি জানান। 
খালের দখলদার মোস্তফা সানা জানান, আমি হরিনগরের অন্তিম বৈদ্যের কাছ থেকে হারি নিয়ে খালে মাছ চাষ করে আসছি। খালটি অন্তিম বৈদ্য সরকারের কাছ থেকে ৯৯ বছরের জন্য ইজারা নিয়েছেন। মুন্সিগঞ্জের আটির উপরের কিছু মানুষ খাল উন্মুক্তের দাবি জানিয়ে মাছ ধরে নিয়ে গেছে। এ কারণে অন্তিম বৈদ্য বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা করেছে।
শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ খালেদুর রহমান বলেন, কিছু লোকজন সরকারের কাছ থেকে ইজারা নেওয়া অন্তিম বৈদ্যের খালে অনধিকার প্রবেশ করায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা করে। মামলা হওয়ার কারণে আসামিদের গ্রেফতার করা হয়। এলাকাবাসীর দাবি, দায়েরকৃত মিথ্যে ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহার এবং কুলতলি খাল থেকে অবৈধ নেট-পাটা ও দখল উচ্ছেদ করে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক করতে হবে।

 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ