খুলনা | শুক্রবার | ২৪ এপ্রিল ২০২৬ | ১১ বৈশাখ ১৪৩৩

গরু ব্যবসার দ্বন্দ্বে ছাত্রদল নেতা খুন, দাঁত উপড়ে রগ কেটে দেওয়া হয় যুবদল কর্মীর

খবর প্রতিবেদন |
০২:৫০ এ.এম | ২৪ এপ্রিল ২০২৬


চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে দুর্বৃত্তের হামলায় গুরুতর আহত শাহরিয়ার আহমেদ (২৩) নামের এক ছাত্রদল নেতা বৃহস্পতিবার দুপুরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। তিনি ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ফটিকছড়ির হেয়াকো বনানী ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন। 
এর আগে গত শনিবার রাতে গরু ব্যবসার দ্ব›দ্ব থেকে স্থানীয় বিএনপির আরেকটি পক্ষ উপজেলার ভবানী এলাকায় কুপিয়ে গুরুতর আহত করে ছাত্রদল নেতা শাহরিয়ারকে । ওই সময় তাঁর সঙ্গে থাকা যুবদল কর্মী মোঃ সবুজের ওপরও হামলা হয়। তাঁর হাতের রগ কেটে দেওয়ার পাশাপাশি চারটি দাঁত উপড়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। আহত যুবদল কর্মী মোঃ সবুজ বর্তমানে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। 
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হত্যার এ ঘটনায় স্থানীয় বিএনপির একটি পক্ষ জড়িত। নিহত শাহরিয়ারের বাবা আবদুল আলীমও বিএনপি’র রাজনীতিতে সক্রিয়। মূলত তাঁর সঙ্গে বিরোধের জের ধরেই তাঁর ছেলের ওপর হামলা হয়েছে।
শাহরিয়ারের বাবা আবদুল আলীম বলেন, শনিবার রাত ১১টার দিকে তিনি জোরারগঞ্জ থানায় একটি সালিস  বৈঠক শেষে বাড়ি ফেরেন। এ সময় স্থানীয় গরু ব্যবসায়ী আবদুর রহিম তাঁকে মুঠোফোনে কল করে ভবানী এলাকায় যাওয়ার জন্য বলেন। আবদুর রহিম তাঁকে জানান, ওই এলাকায় কয়েকজন গরু ব্যবসায়ী তাঁর দুই পিকআপ গরু আটকে রেখেছেন। তিনি আবদুল আলীমকে গিয়ে বিষয়টি মীমাংসা করার জন্য অনুরোধ করেন। পরে আবদুল আলীম তাঁর ছেলে শাহরিয়ারকে ওই এলাকায় পাঠান। মোঃ সবুজ ওই এলাকায় আগে থেকেই ছিলেন।
আবদুল আলীমের অভিযোগ, শাহরিয়ার ওই এলাকায় যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিএনপি’র কর্মী সিরাজুল ইসলাম ও তাঁর সহযোগীরা তাঁদের ওপর আক্রমণ শুরু করেন। শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে ফটিকছড়ি উপজেলার দাঁতমারা ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর এলাকায় একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে গুরুতর আহত অবস্থায় শাহরিয়ারকে পাওয়া যায়। পরে তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। আর মোঃ সবুজকে পরের দিন বিকেলে কয়লার বাজার এলাকায় সড়কের পাশে পাওয়া যায়। তাঁর দাঁত ওপড়ানো ও হাতের রগ কাটা ছিল।
আবদুল আলীম বলেন, ‘বদ্ধ ভবানী এলাকার সিরাজুল ইসলাম সীমান্ত পথে ভারত থেকে গরু পাচারের সঙ্গে জড়িত। বাধা দেওয়ায় এ নিয়ে তার সঙ্গে আমার বিরোধ হয়। আমি ও আমার ছেলেকে লক্ষ্যবস্তু করেছিল সিরাজুল। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।’
জানতে চাইলে করেরহাট ইউনিয়ন বিএনপি’র সদস্যসচিব (স্থগিত কমিটি) ইয়াসিন মিজান বলেন, ‘উপজেলাসহ ইউনিয়ন পর্যায়ের সব কমিটি স্থগিত থাকায় সিরাজুল ইসলামের এখন দলীয় পদ নেই। কিছুদিন আগে অবৈধ ব্যবসাসহ স্থানীয় নানা ঝামেলার বিষয়ে দলীয় বৈঠক করলে সেখানে সিরাজুল ইসলামের সঙ্গে আবদুল আলীমের বাগ্বিতণ্ডা হয়। আমরা তাৎক্ষণিক সেটি সমাধান করে দিই। শাহরিয়ার হত্যার ঘটনার সিরাজুল ইসলাম জড়িত থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক। আমরা এ হত্যাকাণ্ডের সঠিক বিচার চাই।’
ঘটনার পরপরই সিরাজুল ইসলাম এলাকা ছেড়েছেন। এ কারণে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। জানতে চাইলে জোরারগঞ্জ থানার অফিসার ইনচাজ (ওসি) কাজী নাজমুল হক বলেন, এ ঘটনায় ২২ এপ্রিল রাতে একটি মামলা হয়েছে। শাহরিয়ারের মৃত্যুর পর এটি হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হবে। আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশ কাজ করছে।
এদিকে শাহরিয়ারের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেফতার বারইয়ারহাট-খাগড়াছড়ি সড়ক এলাকায় রাস্তা অবরোধ করেন বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। আজ বেলা দেড়টার দিকে কয়লা বাজার এলাকায় এ কর্মসূচি পালিত হয়। পরে পুলিশ গিয়ে আশ্বাস দিলে তাঁরা সড়ক ছেড়ে যান।
 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ