খুলনা | শনিবার | ২৫ এপ্রিল ২০২৬ | ১২ বৈশাখ ১৪৩৩

মেগা এল নিনো: খরা ও রেকর্ড ভাঙা গরমে পুড়তে পারে বিশ্ব

খবর প্রতিবেদন |
০৫:১৮ পি.এম | ২৪ এপ্রিল ২০২৬

 

জলবায়ু পরিবর্তনের চরম প্রভাবে বিশ্বজুড়ে ঘনীভূত হচ্ছে এক মহাবিপদ। বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা করছেন, ২০২৬ থেকে ২০২৭ সালের মধ্যে পৃথিবী প্রত্যক্ষ করতে পারে এক শক্তিশালী ‘মেগা এল নিনো’ (Mega El Nino) বা ‘সুপার এল নিনো’। প্রশান্ত মহাসাগরের পৃষ্ঠতলের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ২.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি বেড়ে যাওয়ার ফলে সৃষ্ট এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাবে তীব্র খরা থেকে শুরু করে বীভৎস বন্যার কবলে পড়তে পারে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত।

৫৬ কোটি মানুষের প্রাণহানির সেই ভয়াবহ স্মৃতি
ইতিহাসের পাতায় ১৮৭৭-১৮৭৮ সালের এল নিনোকে ‘মেগা’ হিসেবে গণ্য করা হয়। সেই সময় তীব্র দুর্ভিক্ষ এবং তাপপ্রবাহে তৎকালীন বিশ্বের প্রায় ৪ শতাংশ (প্রায় ৫৬ কোটি) মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। বর্তমানের জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে আবারও তেমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ৬০ শতাংশ বলে মনে করছেন আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা।

বৈশাখেই আগুনের আঁচ
বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গের জেলাগুলোতে ইতিমধ্যেই এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। এপ্রিলের তৃতীয় সপ্তাহেই তাপমাত্রা ৪০ থেকে ৪৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। আবহাওয়া বিজ্ঞানীদের মতে, এবারের পরিস্থিতি গত ১০০ বছরের রেকর্ড ওলটপালট করে দিতে পারে।

কালবৈশাখীর অভাব: এল নিনোর প্রভাবে প্রাক-বর্ষার বৃষ্টি বা কালবৈশাখী দেখা যাচ্ছে না।

হিট ডোম (Heat Dome): বায়ুমণ্ডলের ওপরের স্তরে উচ্চচাপ বলয় তৈরি হওয়ায় গরম বাতাস সমতলে আটকে থাকছে।

তীব্র আর্দ্রতা: উচ্চ আর্দ্রতার কারণে প্রকৃত অনুভূত তাপমাত্রা (Heat Index) ৫০ ডিগ্রির কাছাকাছি পৌঁছে যাচ্ছে, যা হিটস্ট্রোক ও ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।

মেগা এল নিনোর বৈশ্বিক প্রভাব
বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন যে, এই মেগা এল নিনোর প্রভাবে ২০২৭ সালের মধ্যে বিশ্বের গড় তাপমাত্রা রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছে যাবে।

১. কৃষিতে বিপর্যয়: বাংলাদেশ, ভারত, অস্ট্রেলিয়া এবং আফ্রিকার একাংশে তীব্র খরা ও মৌসুমি বায়ুর অভাবে বৃষ্টিপাতে ব্যাপক ঘাটতি দেখা দিতে পারে।

২. আবহাওয়ার বৈপরীত্য: একদিকে দক্ষিণ আমেরিকা ও যুক্তরাষ্ট্রে অতিবৃষ্টি ও ভয়াবহ বন্যার আশঙ্কা রয়েছে, অন্যদিকে এশিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে দেখা দিতে পারে চরম দাবদাহ।

৩. সামুদ্রিক বাস্তুসংস্থান: সমুদ্রের তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে মাছসহ জলজ প্রাণীর ব্যাপক মৃত্যু ঘটতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
মে মাস আসার আগেই যদি পারদ ৪৪ ডিগ্রি ছোঁয়, তবে মে-জুন মাসে তা ৪৮ ডিগ্রি ছাড়িয়ে যাওয়া অসম্ভব নয়। এই পরিস্থিতিতে দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সরাসরি রোদে বের না হতে পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। সুস্থ থাকতে প্রচুর পানি, খাবার স্যালাইন এবং প্রাকৃতিক ফলের রস পান করা জরুরি।

বঙ্গোপসাগরে কোনো বড় নিম্নচাপ বা ঘূর্ণিঝড় তৈরি না হলে ২০২৬ সাল বাংলার ইতিহাসের উষ্ণতম বছর হিসেবে নথিভুক্ত হওয়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে।

প্রিন্ট