খুলনা | শনিবার | ২৫ এপ্রিল ২০২৬ | ১২ বৈশাখ ১৪৩৩

সরকারের সামনে কঠিন সংকট চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় চাই দক্ষতা

|
১২:২৫ এ.এম | ২৫ এপ্রিল ২০২৬


জ্বালানিসংকটে বিপর্যস্ত বিদ্যুৎ খাত। অসহনীয় মাত্রায় বেড়েছে লোডশেডিং। তেলের অভাবে কৃষক ক্ষেতে পানি দিতে পারছেন না, বোরো আবাদের ফলন নিয়ে দুশ্চিন্তা, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি; এর সঙ্গে যোগ হয়েছে মাত্রাতিরিক্ত গরম সব মিলিয়ে সাধারণ মানুষের জীবনে নেমে এসেছে সীমাহীন দুর্ভোগ। এসব সংকট মোকাবেলায় সরকার রয়েছে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে।
বিশেষজ্ঞমহল সতর্ক করছে, সামনে অপেক্ষা করছে আরো কঠিন পথ। চলমান জ্বালানিসংকট এখন সরাসরি আঘাত হেনেছে বিদ্যুৎ খাতে। বড় ঘাটতি দেখা দিয়েছে বিদ্যুতের চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে। গত বুধবার চলতি বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ দুই হাজার ৫০০ মেগাওয়াট লোডশেডিং ছিল, যা গত বছর একই দিনে ছিল মাত্র ১৫৭ মেগাওয়াট।
জানা গেছে, ঢাকায় যেমন-তেমন, গ্রামে-গঞ্জে কোথাও কোথাও আট থেকে ১০ ঘণ্টাও লোডশেডিং হচ্ছে। খবরে বলা হয়েছে, গাজীপুর-সাভার শিল্পাঞ্চলে দিনের বেলায় গড়ে আট ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে, যখন-তখন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে কারখানার চাকা। জ্বালানি তেলের অভাবে জেনারেটর ঠিকমতো চালানো যাচ্ছে না। ফলস্বরূপ, উৎপাদন মারাত্মক ব্যাহত হচ্ছে।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সদস্য (উৎপাদন) মোঃ জহুরুল ইসলাম জানিয়েছেন, ‘বর্তমান বিদ্যুৎ ঘাটতির প্রধান কারণ হলো আদানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যাওয়া। প্রায় ৭০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার এই ইউনিট কারিগরি সমস্যার কারণে বন্ধ আছে, যা চালু হতে আরো তিন-চার দিন লাগতে পারে।’
বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের সময়েই দেশের অর্থনীতি ছিল ভঙ্গুর অবস্থায়। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগে খরা, উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি, ব্যাংকিং খাতে তথৈবচ, সীমাহীন বেকারত্ব এত কিছুর ভার নিয়ে পথচলা শুরু করে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার। ক্ষমতা গ্রহণের কিছুদিনের মধ্যেই শুরু হয় ইরানে যুদ্ধ। এতে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে বিপর্যয় নেমে আসে। আমদানিনির্ভর দেশ হওয়ায় বাংলাদেশে এর প্রভাব তুলনামূলক বেশি দেখা দেয়। আশঙ্কা করা হচ্ছে, যুদ্ধের প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্যে আমাদের যে শ্রমবাজার রয়েছে, তাতেও টান পড়বে। অর্থাৎ দেশের অর্থনীতির প্রাণশক্তি রেমিট্যান্স প্রবাহেও ঘাটতি দেখা দিতে পারে।
বাংলাদেশ নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রাইসিস গ্র“প (আইসিজি) জানিয়েছে, সরকারের সামনে অত্যন্ত কঠিন পথ। গত বুধবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন সরকারের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে রয়েছে-অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করা, সুশাসন নিশ্চিত করা এবং ঝুঁকিপূর্ণ আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি মোকাবেলা করা। এ ছাড়া আইসিজি মনে করছে, এই সরকারের সামনে এখন ব্যাপক সংস্কারের জনপ্রত্যাশা পূরণের কঠিন চ্যালেঞ্জও রয়েছে।
আমরা মনে করি, বর্তমানে যে পরিস্থিতি চলছে, তা মোকাবেলায় সরকারের উচিত প্রথমত, জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা। বিশেষ করে বোরোক্ষেতের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলো যেন অগ্রাধিকার পায়, তা দেখতে হবে। লোডশেডিংয়ের ক্ষেত্রে শহর ও গ্রাম পর্যায়ে সমন্বয় করতে হবে। সর্বোপরি আগামী দিনে যেসব চ্যালেঞ্জ রয়েছে, তা মোকাবেলায় সরকারকে দক্ষতার পরিচয় দিতে হবে। প্রতিটি পর্যায়ে আরো জনসম্পৃক্ততা বাড়িয়ে, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করে সরকার সফলতার সঙ্গে সামনে অগ্রসর হোক-এটিই আমাদের প্রত্যাশা।

 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ