খুলনা | শনিবার | ২৫ এপ্রিল ২০২৬ | ১২ বৈশাখ ১৪৩৩

বিয়ের পরিকল্পনা করেছিলেন লিমন-বৃষ্টি, তার আগেই মর্মান্তিক মৃত্যু

খবর প্রতিবেদন |
০৪:৩১ পি.এম | ২৫ এপ্রিল ২০২৬


যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় পিএইচডি বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নিহত জামিল আহমেদ লিমনের সঙ্গে আরেক শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তারা শিগগিরই বিয়ের বিষয়ে আলোচনা করেছেন।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে এ তথ্য জানিয়েছেন নিহত লিমনের বড় ভাই জুবায়ের আহমেদ।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে পরিবারের সঙ্গে কথা বলার সময় বৃষ্টির খুব প্রশংসা করতেন লিমন। সে বৃষ্টিকে প্রেম নিবেদন করেছেন এবং তারা দুজন বিয়ের বিষয়েও ভাবছেন।

জুবায়ের বলেন, ‘লিমন বলত, সে খুবই ভালো মেয়ে, তার অনেক প্রতিভা আছে; যেমন তার গানের গলা ভালো, তেমনি রান্নাও করতে পারে।’

তিনি বলেন, লিমন গত দুই বছর ধরে তার থিসিস নিয়ে কঠোর পরিশ্রম করে আসছিল। দক্ষিণ ফ্লোরিডার ক্রমশ সংকুচিত হয়ে আসা জলাভূমি পর্যবেক্ষণের জন্য জেনারেটিভ এআই ব্যবহার করার উপায় নিয়ে গবেষণা করছেলিন।

জুবায়ের বলেন, ‘আমার ভাই খুবই ভদ্র এবং খুবই সাধারণ একজন মানুষ ছিল। তার মুখে সব সময় হাসি লেগে থাকত। পিএইচডি শেষ করে তার বাংলাদেশে ফিরে আসার ইচ্ছা ছিল, কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে কাজ করার ইচ্ছা ছিল।’

প্রায় ১০ দিন নিখোঁজ থাকার পর শুক্রবার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে লিমনের রুমমেট হিশাম আবুঘরবেহকে (২৬) গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

জামিল আহমেদ লিমন এবং নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি দুজনই ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার পিএইচডির শিক্ষার্থী। জামিল ইউএসএফের ভূগোল, পরিবেশবিজ্ঞান ও নীতি বিষয়ে পিএইচডির শিক্ষার্থী। আর নাহিদা কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারং এর শিক্ষার্থী। তাদের দুজনকে সবশেষ ১৬ এপ্রিল দেখা গিয়েছিল।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে বৃষ্টির ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি লেখেন, আমার বোন আর আমাদের সঙ্গে নেই, ইন্না লিল্লাহি ও ইন্না ইলাহি রাজিউন। তবে নাহিদার মৃত্যুর বিষয়ে মার্কিন পুলিশ এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেয়নি।

সংবাদমাধ্যম বিবিসি বাংলাকে প্রান্ত বলেন, ‘পুলিশ আমাকে ফোন করে মৃত্যুর খবর জানায়। তারা জানান, বাসার ভেতরে রক্তের মধ্যে পাওয়া মৃতদেহের একটি অংশের সঙ্গে ডিএনএ মিল পাওয়া গেছে। তবে পূর্ণাঙ্গ মরদেহ পাওয়া যাবে কি না, তা নিশ্চিত নয়।

হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, বৃষ্টিকে খোঁজতে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড সেতু এলাকায় তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে। সেতুর আশেপাশের পানিতে ডুবুরি দল অনুসন্ধান চালাচ্ছে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ