খুলনা | রবিবার | ২৬ এপ্রিল ২০২৬ | ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩

শেষবার কোথায় দেখা গিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রে হত্যার শিকার দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে?

খবর প্রতিবেদন |
০৩:৩৫ পি.এম | ২৬ এপ্রিল ২০২৬


যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চতর পড়াশোনা করতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন বাংলাদেশি দুই শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি। সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই দুই ডক্টরাল শিক্ষার্থীই ছিলেন প্রতিশ্রুতিশীল তরুণ গবেষক। তাদের দু’জনকে শেষ কোথায় দেখা গিয়েছিল তা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন।

প্রতিবদেন অনুসারে, জামিল লিমনকে সবশেষ গত ১৬ এপ্রিল সকালে টাম্পায় সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে প্রায় তিন ব্লক দূরে তার বাড়িতে দেখা গিয়েছিল। নাহিদা বৃষ্টিকে সবশেষ একইদিন সকালে ক্যাম্পাসের প্রকৃতি ও পরিবেশ বিজ্ঞান ভবনে দেখা যায় বলে জানিয়েছে সিএনএন।

লিমনের ভাই জুবায়ের আহমেদের উদ্ধৃতি দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, বৃষ্টি ও লিমন দু’জনেই ছিলেন ২৭ বছর বয়সি সম্ভাবনাময় বাংলাদেশি ডক্টরাল শিক্ষার্থী, যাদের শুরুটা হয়েছিল বন্ধু হিসেবে এবং সময়ের সাথে সাথে একে অপরের প্রতি অনুভূতি তৈরি হয়—এমনকি তারা বিয়ের কথাও ভাবছিলেন।

১৭ এপ্রিল এক পারিবারিক বন্ধুর মাধ্যমে লিমন ও বৃষ্টি নিখোঁজ হওয়ার খবর জানানো হয় এবং দিন গড়ানোর সাথে সাথে ফ্লোরিডায় থাকা তাদের বন্ধুরা ও বিদেশে থাকা আত্মীয়রা উত্তর জানার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠেন।

গেল শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) টাম্পার হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজে লিমনের মরদেহ পাওয়া যায়। এ ঘটনার হিলসবরো কাউন্টি শেরিফ চ্যাড ক্রনিস্টার বলেন, এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক একটি ঘটনা, যা আমাদের সম্প্রদায়কে নাড়া দিয়েছে।

শেরিফের কার্যালয় জানিয়েছে, লিমনের রুমমেটের বিরুদ্ধে লিমন ও বৃষ্টিকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে বৃষ্টির মরদেহ এখনও পাওয়া যায়নি।

সিএনএন বলছে, টাম্পা বে এলাকা থেকেও লিমন-বৃষ্টির অভাব বহুদূর পর্যন্ত অনুভূত হচ্ছে। উভয় শিক্ষার্থীই তাদের গ্রীষ্মের ছুটিতে বাংলাদেশ ভ্রমণের পরিকল্পনা করেছিলেন।

বৃষ্টির ভাই সিএনএন-এর সহযোগী ডব্লিউটিএসপি-কে জানিয়েছেন, লিমন এবং সন্দেহভাজনের যৌথ অ্যাপার্টমেন্টে পাওয়া রক্তের পরিমাণের ভিত্তিতে তদন্তকারীরা বাংলাদেশে বৃষ্টি’র পরিবারকে ফোন করে জানিয়েছেন যে, তাদের ধারণা বৃষ্টিকেও হয়তো হত্যা করা হয়েছে। বিস্তারিত জানতে বৃষ্টির ভাই এবং শেরিফের কার্যালয়ের সাথে যোগাযোগ করেছে সিএনএন।

লিমনের পরিবার সিএনএনকে জানিয়েছে, সবসময় হাসিখুশি থাকা এই তরুণ গবেষকের সঙ্গে কী হয়েছে তা জানার জন্য তারা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।

শুক্রবার ভাইয়ের মরদেহ খুঁজে পাওয়ার আগে জুবায়ের আহমেদ সিএনএন-কে বলেন, এটা আমাদের জন্য অত্যন্ত মর্মান্তিক। আমরা গভীর শোকে মুহ্যমান।

আন্তর্জাতিক শিক্ষা বিনিময়-বিষয়ক ২০২৪ ওপেন ডোরস রিপোর্টের বরাত দিয়ে বাংলাদেশে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস জানিয়েছে, মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোতে ভর্তি হওয়া ১৭ হাজারেরও বেশি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মধ্যে লিমন এবং বৃষ্টিও ছিলেন।

জুবায়ের আহমেদ শনিবার (২৫ এপ্রিল) সিএনএন-কে টেক্সট মেসেজের মাধ্যমে জানান, দয়া করে আমার প্রিয় ভাইকে আপনাদের দোয়ায় রাখবেন।

এদিকে মার্কিন তদন্তকারী সংস্থার ধারণা, বৃষ্টিকে হত্যার পর তার দেহ কয়েক টুকরো করে নদীতে ফেলা দেয়া হয়েছে।

লিমন ও বৃষ্টিকে হত্যায় অভিযুক্ত হয়েছে লিমনের রুমমেট ফিলিস্তিনী বংশোদ্ভূত হিশাম আবুঘরবেহ। তদন্তকারী সূত্রগুলো বলছে, হিশাম শুরুর দিকে পুলিশকে সহযোগিতা করলেও এখন মুখ খুলছে না। শনিবার ফ্লোরিডার হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের অফিস জানিয়েছে, অভিযুক্ত হিশামের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দু’টি হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে এমন হত্যাকে ‘ফার্স্ট ডিগ্রি মার্ডার’ বলে।

এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। তারা অভিযুক্ত হিশামের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। এছাড়া দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখছে ওয়াশিংটনের বাংলাদেশ দূতাবাস ও ফ্লোরিডা কনস্যুলেট। মার্কিন গণমাধ্যমও গুরুত্ব দিয়ে প্রচার করেছে চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের খবর।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ