খুলনা | সোমবার | ২৭ এপ্রিল ২০২৬ | ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩

কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যা: চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়ার দাবি র‍্যাবের

খবর প্রতিবেদন |
০১:৪৬ পি.এম | ২৭ এপ্রিল ২০২৬


‎চট্টগ্রাম থেকে বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ শেষে কুমিল্লায় ফেরার পথে নিখোঁজ হন কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী (৩৫)। মধ্যরাতে কুমিল্লার জাগরঝুলি এলাকায় বাস থেকে নামার পর একটি সিএনজিতে উঠেন। এ সময় সিএনজিতে আগে থেকেই ওত পেতে থাকা একটি সংঘবদ্ধ ছিনতাই চক্র তাঁকে ‘টার্গেট’ করেন। সিএনজিতে তুলে কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেটকে মারধর ও ছিনতাইয়ের পর চলন্ত গাড়ি থেকে ফেলে দেন ছিনতাইকারীরা। ছিনতাইকারীদের আঘাত এবং চলন্ত সিএনজি থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ায় ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় বুলেট বৈরাগীর।

আজ ‎সোমবার (২৭ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার ইন্তেখাব চৌধুরী এসব তথ্য জানান।

র‍্যাব কর্মকর্তা আরও জানান, ‎এ ঘটনায় সিএনজিতে থাকা চারজনসহ মোট ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব। গতকাল রোববার কুমিল্লার বিভিন্ন এলাকা থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তাররা হলেন—মো. সোহাগ, ইসমাইল হোসেন জনি, এমরান হোসেন হৃদয়, রাহাত হোসেন জুয়েল ও সুজন।

‎ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, গত ২৪ এপ্রিল রাত আনুমানিক ১১টার দিকে চট্টগ্রাম থেকে প্রশিক্ষণ শেষে কুমিল্লায় ফেরার পথে নিখোঁজ হন বুলেট বৈরাগী। প্রায় ১২ ঘণ্টা পর ২৫ এপ্রিল সকাল পৌনে ৯টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কোটবাড়ি এলাকায় একটি হোটেলের পাশ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নামতি হাইওয়ে থানা পুলিশ। মরদেহে আঘাতের একাধিক চিহ্ন ছিল।

‎এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ মডেল থানায় অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

‎র‍্যাব জানায়, ঘটনার পরপরই গোয়েন্দা টিম মাঠে নামে, এরপর গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ায়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ২৬ এপ্রিল কুমিল্লার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়। সিএনজিতে থাকা চারজনকে কুমিল্লার বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া বুলেটের ব্যবহত মোবাইল ফোনসহ সুজন নামের আরেকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি সিএনজি, চাপাতি, সুইস গিয়ার, হাতুড়িসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়।

‎প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, গ্রেপ্তাররা একটি সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের সক্রিয় সদস্য। তারা মূলত দূরপাল্লার যাত্রীদের টার্গেট করে সিএনজিতে তুলে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ছিনতাই ও ডাকাতি করত।

‎ঘটনার রাতে কুমিল্লায় বাস থেকে জাগরঝুলি এলাকায় নামেন বুলেট। এই সময়ে ওঁৎ পেতে থাকা অবস্থায় ভুক্তভোগীকে টার্গেট করা হয়। পরে সিএনজিতে তুলে তাঁকে মারধর ও ছিনতাইয়ের পর চলন্ত গাড়ি থেকে ফেলে দেওয়া হয়। এতে মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।

‎র‍্যাব আরও জানায়, গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় চুরি, ডাকাতি ও মাদক সংক্রান্ত একাধিক মামলা রয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ