খুলনা | সোমবার | ২৭ এপ্রিল ২০২৬ | ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩

১৭৩ দিন হরতাল করে অর্থনীতি ধ্বংসকারীদের ভূত এখন অন্যের কাঁধে: প্রধানমন্ত্রী

খবর প্রতিবেদন |
০৩:০৯ পি.এম | ২৭ এপ্রিল ২০২৬

 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, যারা ১৭৩ দিন হরতাল ডেকে দেশের অর্থনীতি ধ্বংস করেছিল, তাদের ভূত এখন অন্য কারও কাঁধে আছর করেছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, কিছু ব্যক্তি ও দল গণঅভ্যুত্থানের রায়কে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। তারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে জনগণের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করতে চায়। এসব ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে দেশবাসীকে সজাগ থাকতে হবে।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) দুপুরে যশোরের শার্শা উপজেলায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক ‘উলশী-যদুনাথপুর’ খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে এক সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিশাল জনশক্তিকে দেশ গড়ার কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে অলস বসিয়ে রাখলে চলবে না। বিএনপির রাজনীতি মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের রাজনীতি। আমরা যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, তিলে তিলে রক্ত দিয়ে হলেও তা পালন করা হবে।’

উলশী খালের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, গত ৫০ বছর ধরে এই খাল ভরাট ও দখল হয়ে পড়ে ছিল। ৪ কিলোমিটার এই খাল পুনঃখননের ফলে ২০ হাজার কৃষক সরাসরি উপকৃত হবে এবং প্রায় ১৪০০ টন বাড়তি খাদ্যশস্য উৎপাদন হবে। আগামী ৫ বছরে সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার ‘জিয়া খাল’ খননের মহাপরিকল্পনা ঘোষণা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এতে গ্রামীণ অর্থনীতি সচল হবে এবং মা-বোনেরা হাঁস পালন করে বাড়তি আয় করতে পারবেন।

নারীদের ক্ষমতায়নে বড় ঘোষণা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন,মেয়েদের শিক্ষা এখন থেকে ডিগ্রি পর্যন্ত অবৈতনিক করা হবে। নারী প্রধান পরিবারগুলোকে মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা সরাসরি দেওয়া হবে। রান্নার কষ্ট লাঘবে দেওয়া হবে বিশেষ এলপিজি কার্ড।

সরকারের কাজের খতিয়ান তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, ‘ওয়াদা অনুযায়ী ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফের কাজ সরকার গঠনের ১০০ দিনের মধ্যেই শুরু হয়েছে। বন্ধ কলকারখানা চালুর প্রক্রিয়া চলছে। এছাড়া মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও অন্য ধর্মের ধর্মীয় গুরুদের জন্য সরকারি সম্মানি ভাতার কাজও ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে।’

৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানকে স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘স্বৈরাচার বিদায় হয়েছে, এখন দেশ গড়ার পালা। জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় সব দল মিলে স্বাক্ষরিত ‘জুলাই সনদ’-এর প্রতিটি শব্দ আমরা বাস্তবায়ন করব।” বক্তব্যের শেষে তিনি নতুন স্লোগান দেন- ‘গড়বো কাজ, গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।’

সিঙ্গাপুরের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সিঙ্গাপুর যদি ৫০ বছরে বদলে যেতে পারে, তবে বাংলাদেশ কেন পারবে না? ১৯৭১ ও ২০২৪-এ এদেশের মানুষ অসাধ্য সাধন করেছে, এবারও দেশ গড়তে তারা সফল হবে।

সমাবেশ শেষে স্থানীয়দের দাবির প্রেক্ষিতে উলসী খালের ওপর একটি আধুনিক ব্রিজ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন প্রধানমন্ত্রী। এর আগে তিনি নিজ হাতে কোদাল দিয়ে মাটি কেটে খাল পুনঃখনন কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ