খুলনা | মঙ্গলবার | ২৮ এপ্রিল ২০২৬ | ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩

অর্থের অভাবে আর কেউ বিচারবঞ্চিত থাকবে না: প্রধানমন্ত্রী

খবর প্রতিবেদন |
০২:৩৬ পি.এম | ২৮ এপ্রিল ২০২৬

 

রাষ্ট্রের কোনো নাগরিক কেবল অর্থের অভাবে আইনের আশ্রয় বা ন্যায্য বিচার থেকে বঞ্চিত থাকবে- এটি একটি আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি দেশের বিচার ব্যবস্থাকে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।

আজ মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাজধানীর শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে ‘জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি ন্যায়বিচারকে কেবল একটি আইনি প্রক্রিয়া হিসেবে না দেখে একে একটি ‘জীবন্ত মানবিক মূল্যবোধ’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার আহ্বান জানান।

বক্তব্যের শুরুতে দাপ্তরিক জরুরি কাজের কারণে অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে কিছুটা বিলম্ব হওয়ায় আমন্ত্রিত অতিথিদের কাছে আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা, ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি মাইকেল মিলার, ইউএনডিপি প্রতিনিধি স্টিফেন ইলারসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী তার ব্যক্তিগত জীবনের কঠিন অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে তাকে দীর্ঘ সময় কারাগারে কাটাতে হয়েছে। সেই সময় তিনি দেখেছেন যে, অনেক দরিদ্র মানুষ শুধুমাত্র একজন আইনজীবী নিয়োগের সামর্থ্য না থাকায় বছরের পর বছর বিনা বিচারে জেলে ধুঁকছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ন্যায়বিচার যদি কেবল সামর্থ্যবানদের জন্য থাকে, তবে সেই রাষ্ট্র প্রকৃত গণতান্ত্রিক হতে পারে না।

দেশের বিচার ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন। পরবর্তীতে বেগম খালেদা জিয়া ‘লিগ্যাল এইড ফান্ড’ গঠন করেন। বর্তমান সরকার সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে লিগ্যাল এইড কর্মসূচিকে আরও আধুনিক ও শক্তিশালী করতে আইনি সংস্কার সম্পন্ন করেছে।

আদালতের মামলার জট কমাতে প্রধানমন্ত্রী ‘বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি’ বা মধ্যস্থতার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, বিচার বিলম্বিত হওয়া মানেই বিচার অস্বীকার করা। তাই আদালতের বাইরে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা ইতিমধ্যে সফলভাবে হাজার হাজার মানুষের হয়রানি ও রাষ্ট্রের ব্যয় কমিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী সাধারণ মানুষের আইনি সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষে সরকারি ‘লিগ্যাল এইড হেল্পলাইন’ আরও কার্যকর করার ওপর জোর দেন। তিনি বিশ্বাস করেন, বিপদের সময় রাষ্ট্র নাগরিকের পাশে দাঁড়ালে সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা সুদৃঢ় হয়।

পরিশেষে, দেড় দশকের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এখন নতুন করে গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করেছে। তিনি একটি বৈষম্যহীন এবং সমমর্যাদার সমাজ গঠনের লক্ষ্যে দেশের সকল বিচারক ও আইনজীবীদের একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ