খুলনা | বৃহস্পতিবার | ৩০ এপ্রিল ২০২৬ | ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩

হাম-ডেঙ্গু মোকাবেলায় সরকারের যথেষ্ট সক্ষমতা রয়েছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

খবর প্রতিবেদন |
০১:৪১ পি.এম | ৩০ এপ্রিল ২০২৬

 

সারাদেশে বাড়ছে হাম ও ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। এমতাবস্থায় সারাদেশে হাম ও ডেঙ্গু মোকাবেলায় সরকারের যথেষ্ট সক্ষমতা রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের ২৫০ শয‍্যা বিশিষ্ট বক্ষব‍্যাধি হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে তিনি এ কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ভ‍্যাকসিনসহ মানবসম্পদ কোনো কিছুরই সংকট নেই। নির্ধারিত বাজেট থাকলেও গত ১৭ বছরে স্বাস্থ্য খাতে যথাযথ ব্যয় করেনি কোনো সরকার। এবারের বাজেটের পর সক্ষমতা আরও বাড়ানো হবে। এছাড়া, মে মাসের মধ‍্যেই হামের প্রকোপ কমে যাবার অথবা জিরো শতাংশে চলে আসার আশা প্রকাশ করেন মন্ত্রী।

সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ৬ লাখ জিনএক্সপার্ট কার্টিজ ও ১১ হাজার শিশুর জন্য যক্ষ্মা প্রতিরোধী ওষুধ হস্তান্তর করা হয়েছে। যা যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখবে। ভ্যাক্সিন ও সিরিঞ্জের কোনো সংকট নেই, আগামীকাল দেশের সব কেন্দ্রে পৌঁছে যাবে।

ভ্যাকসিন সংকট নিয়ে একটি খবরের প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, মিরপুর নগর স্বাস্থ্য কেন্দ্রে পোলিও ভ্যাকসিন সংকট নিয়ে গতকাল একটা নিউজ হয়েছে। আমরা বিষয়টির খোঁজ নিয়েছি। রোগী ভ্যাকসিন হাতে পেলেও যাওয়ার সময় ব্যাগে আর নেয়নি। পরে এসে বলেছে পোলিও ভ্যাকসিনটা নাই। আর সাংবাদিক হয়তো পুরাটা শুনে বা না শুনে ভুলভাবে লিখে দিয়েছে। পোলিও ভ্যাকসিনের কোনো সংকট নেই। আমার কাছে সব হিসাব রয়েছে।

টাকা থাকলেও এসব ব্যবস্থাপনা নিয়ে গত ১৭ বছর কোনো কাজ হয়নি দাবি করে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ঠিকমতো কোনো কিছু বাস্তবায়ন হয়নি। আমি কাউকে দোষ দেবো না। আমরা স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালাচ্ছি।

হামের সংক্রমণ ও টিকাদান সম্পর্কে তিনি বলেন, গত ছয়টা বছর হাম প্রতিরোধে শিশুদের কোনো ভ্যাক্সিনেশন হয়নি। আমরা জরুরি ভিত্তিতে তা শুরু করি। ইউনিসেফ, গ্যাভি, ওয়ার্ল্ড ব্যাংক এবং আমেরিকা যৌথভাবে যদি হেল্প না করত, তাহলে দেশের এই মানচিত্র আজকে অন্যরকম হতে পারত। আরও অনেক বেশি ক্ষতি হতো।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বরেন, আগামী মাসের পাঁচ তারিখে সারাদেশে ভ্যাকসিন দেয়ার কথা ছিল। আমি সেটা ১৪ দিন এগিয়ে এনেছি। আমরা যখন হামের টিকা হাতে পেয়েছি, নির্ধারিত সময়ের জন্য আর অপেক্ষা করিনি। আমরা ২০ এপ্রিল থেকেই কাজ শুরু করে দিয়েছি।

বর্তমানে টিকাদানের অগ্রগতি সম্পর্কে তিনি বলেন, লক্ষ্যমাত্রার ৬১ শতাংশ আমরা কাভার করে নিয়েছি। আগামী এক সপ্তাহে শতভাগ শিশু হামের টিকার আওতায় চলে আসবে। এরইমধ্যে অনেক জায়গায় শতভাগ হয়ে গেছে। হামের টিকা কার্যক্রম শুরু করা প্রথম ৩০টি উপজেলায় এখন একটাও হামের রোগী নাই।

রোগীদের চাপ সামলানো এবং ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, রোগীর চাপ সামলাতে আমরা তাঁবুরও ব্যবস্থা করছি। আগামীকাল থেকে ইউনিভার্সিটি প্লেগ্রাউন্ডে তাঁবু স্থাপন শুরু হয়ে যাবে। আমরা চাই না ডেঙ্গু রোগী আসুক। আমি চিকিৎসার জন্য চেষ্টা করতে পারব, কিন্তু সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ হলো প্রতিরোধ করা। কাজেই আমরা সিটি করপোরেশনকে বলেছি যাতে ওনারা মশক নিধনে গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো করেন।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ