খুলনা | বৃহস্পতিবার | ৩০ এপ্রিল ২০২৬ | ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩

একযুগের সাজানো সংসার বজ্রপাতে ছাই, ঘরে না থাকায় তিনজনের প্রাণ রক্ষা

চিতলমারী প্রতিনিধি |
০৩:১৮ পি.এম | ৩০ এপ্রিল ২০২৬


দিনমজুর আনন্দ মিস্ত্রি (৪০) ও লোপা হালদার (৩৩) দম্পতি। পঞ্চম শ্রেণীতে পড়–য়া এগারো বছরের মেয়ে সংগীতাকে নিয়ে সুখের সংসার। বজ্রপাতে তাঁদের একযুগ ধরে তিলে তিলে গড়া সেই সাজানো সংসার ছাই হয়েছে। পরনের কাপড় ছাড়া পুড়তে সুতাটুকু বাকী নেই। সব হারিয়ে আজ তাঁরা নিঃস্ব। ঘটনার সময় পরিবারের সদস্যরা ঘরে না থাকায় তাঁদের প্রাণ রক্ষা পেয়েছে। বুধবার (২৯ এপ্রিল) রাত পোনে ১২ টায় হৃদয়বিদারক ঘটনাটি বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার দড়িউমাজুড়ি গ্রামে ঘটেছে।

খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০ টায় চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খাদিজা আক্তার ও বাগেরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মশিউর রহমান খানের প্রতিনিধি উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা গাজী মুনিরুজ্জামান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে শুকনা খাবার প্রদান করেন এবং জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

ক্ষতিগ্রস্থ আনন্দ মিস্ত্রি ও লোপা হালদার জানান, দিনমজুরি করে তাঁদের সংসার চলে। বার বছর ধরে তাঁরা খেয়ে না খেয়ে সংসার সাঁজিয়েছে। আজ তাঁদের তিলে তিলি গড়া সংসার বজ্রপাতে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। পরনের কাপড় ছাড়া পুড়তে সুতাটুকু বাকি নেই। মেয়েটির স্কুলে যাওয়া এখন বন্ধ। আত্মীয়র বাড়িতে না গেলে তাঁরাও হয়তো পুড়ে মারা যেতেন।

চিতলমারী ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সের লিডার এস এম আব্দুর রহিম জানান, খবর পেয়ে রাতেই তাঁরা ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। কিন্তু তাঁরা ঘটনাস্থলে পৌছানোর আগে আনন্দ মিস্ত্রি ও লোপা হালদার দম্পতির সর্বস্ব পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাদিজা আক্তার বলেন, ‘খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে শুকনা খাবার প্রদান করেছি। ক্ষতিগ্রস্থদের আবেদনের প্রেক্ষিতে পরবর্তীতে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সহযোগিতা করা হবে।’

প্রিন্ট

আরও সংবাদ