খুলনা | বৃহস্পতিবার | ৩০ এপ্রিল ২০২৬ | ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩

বিএনপির আমলে আগেও শেয়ারবাজারে লুটপাট ছিল না, এবারও হবে না : সংসদে অর্থমন্ত্রী

খবর প্রতিবেদন |
০৫:৩৪ পি.এম | ৩০ এপ্রিল ২০২৬

 

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বিএনপি সরকারের কোনো সময়েই শেয়ারবাজারে লুটপাটের কোনো সুযোগ ছিল না। এবারও কেউ লুটপাটের সুযোগ পাবে না বলে নিশ্চিত করেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে তিনি এসব কথা বলেন।

এদিন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইন, ১৯৯৩ অধিকতর সংশোধনের জন্য [বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (সংশোধন) বিল, ২০২৬] বিশেষ কমিটির সুপারিশ বিবেচনার প্রস্তাব দেন অর্থমন্ত্রী।

এই বিলের ওপর জনমত যাচাইয়ের প্রস্তাব দেন সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। তিনি শেয়ারবাজার লুটপাটে জড়িত ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানিয়ে বলেন, দেশের অর্থনীতিকে টেকসই ও শক্তিশালী করতে যে কয়েকটি স্তম্ভ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, এর অন্যতম হচ্ছে পুঁজিবাজার।

সংসদে তিনি বাংলাদেশের শেয়ারবাজার ১৯৯৬ ও ২০১০ সালে ভয়াবহ রকম পতনের শিকার হয়েছে বলে উল্লেখ করেন।

এ সময় অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে প্রকাশিত শ্বেতপত্রের বিষয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, গত ১৫ বছরে শেয়ারবাজার থেকে লুট হয়েছে এক লাখ কোটি টাকার ওপরে। এগুলো সাধারণ মানুষের টাকা। যারা তাদের সব সঞ্চয় হয়তো শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করেছেন। এসব টাকা বিশেষ কিছু ব্যবসায়ীর মাধ্যমে লুটপাট করেছে একটি বিশেষ গোষ্ঠী। কিন্তু তাদের কখনোই বিচারের আওতায় আনা হয়নি।

তিনি আশা করে বলেন, ‘আমি আশা করব, অর্থমন্ত্রী শেয়ারবাজার লুটপাটের সঙ্গে জড়িতদের যেমন জবাবদিহির আওতায় আনবেন। একই সঙ্গে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে দক্ষ ও যোগ্য মানুষের সম্মিলন ঘটিয়ে শেয়ারবাজারকে একটি আস্থার জায়গায় নিয়ে যাবেন।’

রুমিন ফারহানার সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু বলেন, ‘যেহেতু বিশেষ কমিটি এই বিলটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছে, তারপর সংসদে এসেছে। সুতরাং এটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য দেওয়ার দরকার আছে বলে আমি মনে করি না।’

পরে এই বিলের ওপর জনমত যাচাই-বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব অধিবেশনে কণ্ঠভোটে নাকচ হয়।

এদিকে ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের নিয়োগ ও বিদায়সহ যেসব পরিবর্তন এসেছে, কোনোটিই দেশের জনগণ ও গণতন্ত্র সমর্থন করে না। যোগ্য লোকদের যোগ্য জায়গায় বসানো দরকার। খেলার মাঠটা পর্যন্ত আমরা উন্মুক্ত রাখতে পারলাম না। ওখানেও গিয়ে আমরা ঝাঁপিয়ে পড়লাম। এভাবে চললে দেশ আগাবে কীভাবে? দেশ এগিয়ে যাচ্ছে এমন কোনো কিছু দৃশ্যমান কিছু হচ্ছে না।

জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের বর্তমান গভর্নরের পারফরম্যান্স আগের যেকোনো গভর্নরের চেয়ে ভালো। ফিন্যান্সিয়ালি সেক্টরে কোনো পলিটিক্যাল নিয়োগ হবে না, এমন সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। আগামীতে এমন কোনো নিয়োগ হয় কি না আপনারাও দেখুন।

এরপর বিরোধীদলীয় উপনেতা ও কুমিল্লা-১১ আসনের সংসদ সদস্য ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, বর্তমান গভর্নর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য ছিলেন। তাহলে তাকে পরিবর্তন করে নতুন নিয়োগ দেওয়া হবে কি না?

এর জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, দলকে সমর্থন করা মানে দলের লোক নয়।

এরপর বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ সংশোধন বিল-২০২৬ সংসদে কণ্ঠ ভোটে পাস হয়। তবে দুটি বিলেই বিরোধী দলের আপত্তি ছিল। আলোচনার জন্য সময় চাওয়া হলে বিলটির ওপর জনমত যাচাই ও বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব কণ্ঠভোটে নাকচ হয়।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ