খুলনা | শনিবার | ০২ মে ২০২৬ | ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩

এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা, যার ৮০ শতাংশ হবে নারী : প্রধানমন্ত্রী

খবর প্রতিবেদন |
০২:৩৯ পি.এম | ০২ মে ২০২৬

 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, শহরকেন্দ্রিক কিছুটা স্বাস্থ্যসেবা থাকলেও এখনো আমরা সেভাবে গ্রামে তা পৌঁছে দিতে পারিনি। আমরা চাই, আরও বেশি নাগরিকের কাছে স্বাস্থ্য সেবা পৌঁছে দিতে। তাই মানুষ অসুস্থ হওয়ার আগে তাকে যদি স্বাস্থ্য বিষয়ক সচেতন করতে পারি, তাহলে সেই মানুষটি পরবর্তী সময়ে ডাক্তারের কাছে গেলে বেটার সার্ভিস পাবে।

শনিবার (২ মে) দুপুর সাড়ে ১২টায় সিলেট নগরের সুরমা নদীর উভয় তীরের সৌন্দর্যবর্ধন ও বন্যা প্রতিরোধী অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন শেষে নগর ভবনে আয়োজিত সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা দেশে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ করার পরিকল্পনা করছি, যার ৮০ শতাংশ হবে নারী। এই মানুষগুলোর দায়িত্ব হবে গ্রামে ঘরে ঘরে মানুষের কাছে যাওয়া, শহরেও তারা থাকবে। ঘরে ঘরে গিয়ে তারা মানুষকে সচেতন করবে, বিশেষ করে নারীদের। তারা সচেতন করবে কোন খাবার খেলে কার্ডিয়াক সমস্যা হবে না, কোন খাবারটি খেলে কিডনি রোগ হবে না, হয়ে তারা সবাইকে সচেতন করবে। আমাদের লক্ষ্য দেশের মানুষকে সুস্থ রাখা, বিষয় তাদের সচেতন করা।

তারেক রহমান বলেন, অসুস্থ মানুষের সংখ্যা যখন কম হবে তখন মেডিকেলে আমাদের সার্ভিস দিতে, টেক-কেয়ার করতে বড় ধরনের সুবিধা পাওয়া যাবে।

তিনি বলেন, দেশের অনেক জায়গায় কলকারখানা বন্ধ হয়ে পড়ে আছে, আমরা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি দ্রুত এসব চালু করব। প্রয়োজনে প্রাইভেটাইজ করা হবে, যারা এ বিষয়ে আগ্রহী আছেন তাদের দিয়ে। এটা করতে পারলে সারাদেশে কিছু কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে। এছাড়া আমরা চেষ্টা করছি দেশে এবং বিদেশে যেসব বিনিয়োগকারীরা রয়েছেন তাদের সম্পৃক্ত করতে, যেন এসবের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়। এছাড়া আমাদের যেসব ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট রয়েছে সেগুলোকে আমরা আরও কার্যকর করতে চেষ্টা করব। যাতে এখানে যারা রয়েছে তাদের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়, দেশে ও দেশের বাইরে।

সারাদেশে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করতে চাই
প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, শুধুমাত্র ঢাকা-সিলেট নয়, সারাদেশে ডাবল লাইনের মাধ্যমে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নত করতে ইতোমধ্যে আমরা কাজ শুরু করেছি। আমরা সারাদেশের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নত করতে চাই।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের সময় যখন আমি এসেছিলাম, প্লেনে এসেছিলাম। কিন্তু যাওয়ার সময় আমি বাইরোডে গিয়েছিলাম। নির্বাচনী জনসভা করতে করতে এবং সেদিন আমি বলেছিলাম যে সিলেট থেকে লন্ডন যেতে খুব সম্ভব নয় সাড়ে ঘণ্টা সময় লাগে। কিন্তু বাইরোডে ঢাকা যেতে রাস্তার অবস্থা এতই খারাপ যে, ঢাকা থেকে সিলেট যেতে মনে হয় প্রায় ১০ ঘণ্টা সময় লেগে যায়।

তিনি বলেন, সেদিন বলেছিলাম আমরা সরকার গঠন করতে সক্ষম হলে ইনশাল্লাহ এই কাজটিতে হাত দেবো। যাতে যোগাযোগটা দ্রুত হয়। সরকার গঠন করার পর এই দায়িত্বে যে মন্ত্রণালয় রয়েছে আমি তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। তখন জানতে পারলাম খুব সম্ভবত কাজটি যখন শুরু হয়, তখন বিভিন্ন জায়গায় জমি একোয়ার করতে সমস্যা হয় এবং বিভিন্ন কারণে ১১টি জায়গায় সমস্যা রয়েছে, প্রশাসনিক সমস্যাও রয়েছে। এছাড়া কিছু সমস্যা আছে যে কারণে কাজটি বন্ধ হয়ে পড়েছিল।

তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় উদ্যোগ নিয়েছে। আমি আশা করছি দ্রুততম সময়ে এই কাজটি শুরু করতে পারবো। রাস্তার কাজ আমরা শুরু করতে পারবো, সময় লাগবে। তবে কাজটি শুরু করলে ইনশাল্লাহ শেষ তো একসময় হবে। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে আমরা এটা ইনশাল্লাহ শেষ করতে পারব। এর ফলে মানুষের যাতায়াতে এত কষ্ট ভোগ করতে হবে না।

তিনি আরও বলেন, শুধু রাস্তা আমাদের বাড়ালেই যে সমস্যার সমাধান হবে তা না। একই সঙ্গে আমরা যদি রেলওয়েটাকে ডেভেলপ করতে পারি তাহলে কম খরচে যাতায়াত করা যাবে। একই সঙ্গে ব্যবসায়ীরাও তাদের ব্যবসায়িক মাল আনা নেওয়ার ক্ষেত্রেও কম খরচে আনতে পারেন। বর্তমান সরকার এ বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করছি।

তারেক রহমান বলেন, সারাদেশে রেল যোগাযোগ কীভাবে সম্প্রসারণ করা যায়, সে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে ভাবা হচ্ছে। রেলব্যবস্থা উন্নত হলে স্বাভাবিকভাবেই অধিকাংশ মানুষ এই মাধ্যমে যাতায়াতে আগ্রহী হবে, ফলে যাতায়াত ব্যয় কমবে এবং ব্যবসায়িক খরচও হ্রাস পাবে। অন্যদিকে, যতই সড়ক সম্প্রসারণ করা হোক, ততই নতুন যানবাহন যুক্ত হবে এবং ট্রাফিক চাপ বাড়বে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, জনসংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশ বিশ্বে সম্ভবত অষ্টমস্থানে রয়েছে। আয়তনের দিক থেকে তুলনামূলকভাবে ছোট। পাশাপাশি, বাংলাদেশ একটি কৃষিপ্রধান দেশ। ফলে নির্বিচারে সড়ক নির্মাণ করলে কৃষিজমি নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে, যা খাদ্য নিরাপত্তার জন্য হুমকি হতে পারে। বিপুল জনগোষ্ঠীর খাদ্য চাহিদা বিদেশ থেকে আমদানির মাধ্যমে পূরণ করা সম্ভব নয়। তবে বর্তমানে দেশ মোটামুটি খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং এই সক্ষমতা ধরে রাখা জরুরি।

তিনি করেন, সড়ক যোগাযোগের উন্নয়ন অব্যাহত থাকবে, তবে রেলখাতকে আরও অগ্রাধিকার দিয়ে উন্নয়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ঢাকা-সিলেট রুটের উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে ডাবল লাইন স্থাপনের মাধ্যমে রেল যোগাযোগকে আরও দ্রুত ও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার গুলশানের বাসা থেকে রওনা হয়ে সকাল ৯টা ২০ মিনিটে হয়রত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যান। পরে ঢাকা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি প্লেনে করে রওয়া হয়ে সকাল ১০টায় সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

সকালে বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, শ্রম ও প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী, বিভাগীয় কমিশনার মশিউর রহমান এবং জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমসহ স্থানীয় নেতারা ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ