খুলনা | রবিবার | ০৩ মে ২০২৬ | ২০ বৈশাখ ১৪৩৩

খুলনার সেমিনারে মিয়া গোলাম পরওয়ার

গণভোটের রায় অস্বীকারে দেশকে সংকটে ঠেলে দিচ্ছে সরকার

খবর বিজ্ঞপ্তি |
০২:৩২ এ.এম | ০৩ মে ২০২৬


গণভোটে জনগণের প্রত্যক্ষ রায়কে পাশ কাটিয়ে সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে দেশকে এক গভীর রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে এমন অভিযোগ তুলেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, জুলাই সনদের আড়ালে গণভোটের রায়কে অস্বীকার করা হচ্ছে। এটি কেবল রাজনৈতিক কৌশল নয়, সরাসরি জনগণের ম্যান্ডেটের বিরুদ্ধে অবস্থান।
গতকাল শনিবার সকাল ১০টায় খুলনা প্রেসক্লাবের ব্যাংকুয়েট হলে মহানগর জামায়াত আয়োজিত “গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে সরকার ঃ সংকটের মুখোমুখি দেশ” শীর্ষক  সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। 
জামায়াতের মহানগর আমীর মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতের খুলনা অঞ্চল টিম সদস্য মাওলানা আবুল কালাম আজাদ এমপি, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মাস্টার শফিকুল আলম, জামায়াতের জেলা আমীর মাওলানা এমরান হুসাইন। “গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে সরকার ঃ সংকটের মুখোমুখি দেশ” শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ল’ ইয়ার্স কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি এড. মুহাম্মদ শাহ্ আলম। 
মহানগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি প্রিন্সিপাল শেখ জাহাঙ্গীর আলমের পরিচালনায় প্রবন্ধের উপর আলোচনা করেন ও উপস্থিত ছিলেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপসচিব শ ম আবু তালিব, খুলনার সরকারি মজিদ মেমোরিয়াল সিটি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর শামসুজ্জামান, অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুর রহমান, এনসিপি’র খুলনা মহানগ প্রধান সমন্বয়ক আহম্মদ হামীম রাহাত, মহানগর খেলাফত মজলিসের সভাপতি এফএস হারুন অর রশীদ, সাংগঠনিক সম্পাদক এইচএম সাজ্জাদ হোসেন চঞ্চল, মহানগর ছাত্রশিবিরের সভাপতি রাকিব হাসান, মহানগর জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা আবু বকর সিদ্দিক, মাওলানা শেখ মোঃ অলিউল্লাহ, অধ্যাপক ইকবাল হোসেন, জিএম আব্দুল গফুর, এড. শফিকুল ইসলাম লিটন, ইঞ্জিনিয়ার মোল্লা আলমগীর, খুলনা সদর থানা আমীর এসএম হাফিজুর রহমান, সোনাডাঙ্গা থানা আমীর জি এম শহিদুল ইসলাম, দৌলতপুর থানা আমীর মুশাররফ হুসাইন আনসারী, লবণচরা থানা আমীর মোশাররফ হোসেন, হরিণটানা থানা আমীর মোঃ সেলিম, সদর থানা সেক্রেটারি মোঃ আব্দুস সালাম, সোনাডাঙ্গা থানা সেক্রেটারি জাহিদুর রহমান নাঈম, দৌলতপুর থানা সেক্রেটারি মাওলানা মোঃ মহিউদ্দিন প্রমুখ। সেমিনারের শুরুতে কুরআন তেলাওয়াত ড. মোঃ তহিরুল আহসান তোহা, কবিতা আবৃত্তি করেন দেশজ খুলনার সেক্রেটারি গাজী শাহ মাখদুম প্রমুখ। এছাড়া গণভোটের দলীয় সংগীত পরিবেশন করেন টাইফুন শিল্পীগোষ্ঠী খুলনার শিল্পীবৃন্দ।  
মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও অভিযোগ করেন, সরকার সচেতনভাবেই জুলাই সনদ এবং গণভোটের রায় এই দুই বিষয়কে আলাদা করে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করছে। তার দাবি, সরকার ও মন্ত্রীরা সংসদে দাঁড়িয়ে বারবার জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রতিশ্র“তি দিলেও গণভোটে জনগণের দেওয়া সরাসরি রায়ের বিষয়ে নীরবতা বজায় রাখছে। তিনি বলেন, একবারও কোনো মন্ত্রী বলেননি গণভোটের রায় অক্ষরে অক্ষরে মানা হবে। কারণ তারা জানে, সেটি মানলে তাদের রাজনৈতিক হিসাব ভেঙে পড়বে।
জামায়াতের এই সেক্রেটারি জেনারেল প্রশ্ন তোলেন, গণভোটের আগে দীর্ঘ চার মাস সময় থাকা সত্তে¡ও সরকার বা সংশ্লিষ্টরা কেন কোনো আপত্তি তোলেনি।  ১৭ অক্টোবর জুলাই সনদে স্বাক্ষর, ১৩ নভেম্বর রাষ্ট্রপতির আদেশ, ২৫ নভেম্বর গণভোটের অধ্যাদেশ, ফেব্র“য়ারিতে ভোট এই পুরো সময়জুড়ে কেউ বলেননি এসব অসাংবিধানিক। অথচ ক্ষমতায় বসেই সবকিছু অবৈধ বলা হচ্ছে। এটি সুস্পষ্ট দ্বিচারিতা।
সংবিধান সংস্কারের ৮৪টি প্রস্তাবের মধ্যে ৪৭টি আইনি ও সাংবিধানিক সংস্কারের কথা উল্লেখ করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, এসব বিষয়ে ঐকমত্য থাকলেও ১০টি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে বিএনপি নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছে, যা বাস্তবে সংস্কারের মূল কাঠামোকেই দুর্বল করে দেয়।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, গণভোটে প্রায় পাঁচ কোটি মানুষের সরাসরি অংশগ্রহণে যে রায় এসেছে, সেটি সংসদের ডেলিগেটেড ক্ষমতার চেয়েও শক্তিশালী। সংসদ সদস্যরা জনগণের প্রতিনিধি তারা ডেলিগেটেড পাওয়ার এক্সারসাইজ করেন। কিন্তু গণভোটে জনগণ সরাসরি সিদ্ধান্ত দেয়। সেই সিদ্ধান্ত অস্বীকার করা মানে জনগণের সার্বভৌমত্ব অস্বীকার করা।
সেক্রেটারি জেনারেল স্পষ্টভাবে বলেন, পার্লামেন্টে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হলে আন্দোলনের পথেই যেতে বাধ্য হবে সংশ্লিষ্টরা। পাঁচ কোটি মানুষ যে রায় দিয়েছে, তা যদি সংসদে বাস্তবায়ন না হয়, আমরা আবার জনগণের কাছে ফিরে যাবো। আন্দোলনই তখন একমাত্র পথ, বলেন তিনি। তিনি সরকারকে সংসদে ফিরে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের আহŸান জানান। তবে সতর্ক করে দেন, সময় দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে। এখনো সুযোগ আছে সংকট এড়াতে হলে জনগণের ম্যান্ডেটকে সম্মান করতে হবে। অন্যথায় এর দায় সরকারকেই নিতে হবে, বলেন তিনি।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ