খুলনা | রবিবার | ০৩ মে ২০২৬ | ২০ বৈশাখ ১৪৩৩

ঢাবি শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা: শিক্ষক সুদীপ চক্রবর্তী ৩ দিনের রিমান্ডে

খবর প্রতিবেদন |
০৩:৫৩ পি.এম | ০৩ মে ২০২৬

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী মুনিরা মাহজাবিন মিমোর আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় একই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সুদীপ চক্রবর্তীকেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।

আজ রোববার (৩ মে) তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো.মনজুরুল ইসলাম এ আদেশ দেন। রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

গত বুধবার তদন্ত কর্মকর্তা বাড্ডা থানার উপ-পরিদর্শক কাজী ইকবাল হোসেন আসামিকে আদালতে হাজির করে তিন দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। তবে আদালত রিমান্ড শুনানির জন্য রোববার ধার্য করেন।

আদালতে রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন। তিনি বলেন, ‘ভিক্টিমের বাবা ঘটনার পরে রাত ১টার সময় যে চ্যাটিং দেখেছেন, তার ভিত্তিতেই মামলা করেছেন। তদন্ত কর্মকর্তা দুইজনের চ্যাট চেক করেছেন। এতে তার সঙ্গে ছাত্রীর যে রিলেশন তা উঠে আসছে। এছাড়াও আসামির সঙ্গে মিমোর বান্ধবী হানিসহ অনেকের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল। এমনিতেই একজন মানুষ সুইসাইড করেননি। এটার পেছনে শেল্টার দিয়েছেন আসামি সুদীপ। এজন্য ন্যায় বিচারের স্বার্থে তাকে রিমান্ডে পাঠানো হোক।’

আসামিপক্ষের আইনজীবী আবু সায়েমসহ অন্যান্যরা আদালতে রিমান্ড বাতিলের আবেদন করেন। তারা আদালতে বলেন, কোন ডেভেলপমেন্টের উপরে তদন্ত কর্মকর্তা রিমান্ড চাইলেন? ডিজিটাল যুগে অনেকসময় অনেক কিছু করা যায়। তার (মিমোর) মায়ের একটি রেকর্ড আছে সেটা শুনলে আশা করি সব স্পষ্ট হয়ে যাবে। পরে আদালতে পেন ড্রাইভে থাকা রেকর্ডিং সাবমিট করেন।

আসামিপক্ষের অন্যান্য আইনজীবীরা আদালতে বলেন, ভিক্টিমের আগে একটা বিয়ে ছিল। এর পাশাপাশি সে অন্য একটি ছেলের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িত ছিলেন। এমনকি ভিক্টিম প্রায়ই জুনিয়র ছেলেদের নিয়ে বাসায় যেতেন। যেটি তার বান্ধবী ও মায়ের (অডিও) কথোপকথনে রয়েছে। এছাড়াও তিনি মানসিক ভাবে সাইকো ছিলেন।

আইনজীবীরা অডিও রেকর্ড নিয়ে আরও বলেন, ২১ মিনিটের অডিও রেকর্ড রয়েছে তার মা ও বান্ধবীর। যেখানে বান্ধবী তার মাকে জিজ্ঞেস করছিল ‘এখনো কি মিমো ব্লেড দিয়ে শরীর কাটে?’

আইনজীবীরা আদালতকে বলেন, এর মাধ্যমেই বোঝা যায় তিনি মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। এ জন্যই তার পরিবারের অনুরোধে আসামী সুদীপ ভিক্টিমকে আলাদাভাবে দেখতো, শুধুমাত্র মানসিক সাপোর্ট দেওয়ার জন্য। কারণ সে নাটকে ভালো পারফরম্যান্স করতো। এরজন্য আলাদা একটা সফট কর্ণার ছিল।

আসামি সুদীপ বাবুকে নির্দোষ দাবি করে আইনজীবী বলেন, সে একজন মেধাবী শিক্ষক। তাকে রিমান্ডে না নিয়ে জেলগেটে জিজ্ঞাসা করা হোক।

রিমান্ড আবেদন অনুযায়ী আসামি সুদীপ চক্রবর্তীর সঙ্গে ভিক্টিম মিমোর সম্পর্ক ছিল। ঘটনার আগে গত ২৬ তারিখ রোববার মিমোর সঙ্গে ভিডিও কলে কথা হয়। সেখান থেকেই মিমো আত্মহত্যার প্ররোচনা পান। গ্রেপ্তারের পর আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদে বিভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। এসব তথ্য যাচাই ও ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটনের জন্য তাকে রিমান্ডে নেওয়া দরকার।

উল্লেখ্য, মুনিরা মাহজাবিন মিমো ছিলেন ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। পরিবারের সঙ্গে বাড্ডার বাসায় থাকতেন। নিজের ঘর থেকে ওই শিক্ষার্থীকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন। তার কক্ষ থেকে একটি চিরকুট পাওয়া যায়।

সেখানে লেখাছিল, “সুদীপ স্যারকে ৫০ হাজার টাকা দিতে হবে। হানি আর সুদীপ স্যার ভালো থাকো। স্যারের দেওয়া গিফটগুলো ফেরত দেওয়া...।”

দুপুরের দিকে শিক্ষার্থীর বাবা মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ এনে সহযোগী অধ্যাপক সুদীপ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে মামলা করেন।

মামলা দায়েরের পরে সুদীপকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করা। তার পক্ষে আইনজীবী জামিন চেয়ে আবেদন করেছিলেন। আদালত জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ