খুলনা | মঙ্গলবার | ০৫ মে ২০২৬ | ২২ বৈশাখ ১৪৩৩

নাহিদের দুর্দান্ত বোলিং ও হার্ডির অলরাউন্ড নৈপুণ্যে চ্যাম্পিয়ন পেশাওয়ার জালমি

ক্রীড়া প্রতিবেদক |
০২:০৫ এ.এম | ০৪ মে ২০২৬


হুনাইন শাহর লেংথ ডেলিভারি লেগ সাইডে খেললেন ফারহান ইউসুফ। ঝাঁপিয়ে পড়ে আটকাতে পারলেন না কিপার উসমান খান। তার পাশ দিয়ে বল চলে গেল বাউন্ডারিতে। ডাগ আউট থেকে মাঠে ছুটে গেলেন পেশাওয়ার জালমির ক্রিকেটাররা। দুই ব্যাটসম্যানকে কোলে তুলে নিলেন কেউ কেউ। চলল তাদের আনন্দ-উল্লাস। আট মৌসুম পর আবার পিএসএল চ্যাম্পিয়ন হলো পেশাওয়ার জালমি।

পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) একাদশ আসরের ফাইনালে বাবর আজমের দলের জয় ৫ উইকেটে। লাহোরে রোববার আসরের নবাগত দল হায়দরাবাদ কিংসমেনের ১২৯ রান ২৮ বল হাতে রেখে পেরিয়ে যায় জালমি।

সপ্তম ওভারে ২ উইকেটে ৭১ রানের শক্ত অবস্থানে ছিল কিংসমেন। তবে নাহিদ রানা, অ্যারন হার্ডিদের দুর্দান্ত বোলিংয়ে পথ হারিয়ে দুই ওভার বাকি থাকতেই গুটিয়ে যায় তারা। ৪৮ রানের মধ্যে হারায় শেষ ৭ উইকেট।

নিজের প্রথম ওভারে ১৩ রান দিলেও, পরের তিন ওভারে একটি মেডেনে স্রেফ ৯ রান দিয়ে গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ও হুনাইন শাহর উইকেট নেন নাহিদ। চার ওভারে ২২ রানে ওই ২ উইকেট শিকার করেন বাংলাদেশের ফাস্ট বোলার।

অলরাউন্ড নৈপুণ্যে ফাইনালের নায়ক হার্ডি। বোলিংয়ে চার ওভারে ২৭ রানে ৪ উইকেট নেন অস্ট্রেলিয়ার এই পেস বোলিং অলরাউন্ডার। পরে চাপের মুখে ব্যাটিংয়ে নেমে ৯ চারে ৩৯ বলে ৫৬ রানের ইনিংসে দলের জয় নিয়ে ফেরেন তিনি।

পিএসএলে জালমির দ্বিতীয় শিরোপা এটি। প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল তারা ২০১৭ সালে দ্বিতীয় আসরে।

ছোট লক্ষ্যে নেমে শুরুতে ধাক্কা খায় পেশোয়ার। প্রথম ওভারে মোহাম্মদ হারিস ও বাবর আজমকে এক বলের বিরতি দিয়ে ফেরান মোহাম্মদ আলি। দারুণ ফর্মে থাকা বাবর গোল্ডেন ডাক মারেন। হারিস করেন ৬ রান।

৭ রানে দুই উইকেট পড়ার পর রানের গতি বাড়াতে গিয়ে ফের হোঁচট খায় পেশোয়ার। পাওয়ার প্লেতেই ৭ রানের ব্যবধানে কুশল মেন্ডিস ও মাইকেল ব্রেসওয়েলকে হারায় তারা। এরপর এরন হার্ডি ও আব্দুল সামাদের অপরাজিত জুটিতে জয় দেখছিল পেশোয়ার। কিন্তু সামাদকে ৪৮ রানে ফিরিয়ে ৮৫ রানের জুটি ভেঙে দেন আলি। ফারহান ইউসুফ চার মেরে জয় নিশ্চিত করেন। ১৫.২ ওভারে ৫ উইকেটে ১৩০ রান করে পেশোয়ার। হার্ডি ৩৯ বলে ৯ চারে ৫৬ রানে অপরাজিত ছিলেন।

এর আগে ভালো শুরুর পরও বড় রান করতে পারেনি হায়দরাবাদ কিংসম্যান। সাইয়ুম আইয়ুবের ব্যাটে যে শক্ত ভিত পেয়েছিল দল, সেটা কেউই কাজে লাগাতে পারেনি। মিডল অর্ডার ব্যর্থতায় দেড়শ রানের আগেই অলআউট মার্নাস ল্যাবুশেনের দল।

লাহোরে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে ১৮ ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে ১২৯ রান করে হায়দরাবাদ। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৫৪ রান করেন সাইয়ুম। নাহিদ রানা ২২ রানে শিকার করেছেন দুই উইকেট।

শুরুতেই সাজঘরে ফেরেন মাজ সাদাকাত। ৬ বলে ১১ রান করে ভালো শুরুর ইঙ্গিত দলেও উইকেটে থিতু হতে পারেননি তিনি। আরেক ওপেনার ল্যাবুশেন করেছেন ১২ বলে ২০।

তিনে নেমে দুর্দান্ত ব্যাটিং করেছেন সাইয়ুম। ৪২ বলে করেছেন ব্যক্তিগত ফিফটি। তবে কেউই তাকে যোগ্য সঙ্গ দিতে পারেননি। ফলে এক প্রান্তে সাইয়ুম দারুণ ব্যাটিং করলেও আরেক প্রান্তে ছিল ব্যাটারদের আসা-যাওয়ার মিছিল। ফলে ১২৯ রানেই থেমেছে হায়দরাবাদের ইনিংস।

পেশোয়ারের হয়ে ২৭ রানে ৪ উইকেট শিকার করে ইনিংসের সেরা বোলার হার্ডি। এ ছাড়া নাহিদ রানা ২ টি, মোহাম্মদ বাসিত ও সুফিয়ান মুকিম একটি করে উইকেট শিকার করেছেন।

প্রথমবার পিএসএলে খেলতে গিয়েই শিরোপার স্বাদ পেলেন নাহিদ। অভিষেক ম্যাচে ভালো না করলেও, পরের তিন ম্যাচে দুর্দান্ত বোলিংয়ে তিনি উইকেট নেন ৭টি। এরপর নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ খেলতে দেশে ফেরেন ২৩ বছর বয়সী পেসার।

ওয়ানডে সিরিজের পর প্রাথমিকভাবে তাকে আর পিএসএলে খেলার ছাড়পত্র না দিলেও, পরে ফাইনালের জন্য অনুমতি দেয় বিসিবি। চমৎকার বোলিংয়ে দলের শিরোপা জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেন তিনি। সব মিলিয়ে আসরে পাঁচ ম্যাচে নাহিদের শিকার ৯ উইকেট। ওভারপ্রতি রান দিয়েছেন তিনি স্রেফ ৫.৪৪ করে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:
হায়দরাবাদ কিংসমেন: ১৮ ওভারে ১২৯ (লাবুশেন ২০, সাদাকাত ১১, সাইম ৫৪, উসমান ৮, ইরফান ১, ম্যাক্সওয়েল ০, পেরেরা ১, হাসান ১২, হুনাইন ৯, আলি ১*, আকিফ ৫; ইফতিখার ২-০-২১-০, বাসিত ৩-০-২২-১, হার্ডি ৪-০-২৭-৪, নাহিদ ৪-১-২২-২, মুকিম ৪-০-২৩-১, ব্রেসওয়েল ১-০-১১-০)

পেশাওয়ার জালমি: ১৫.২ ওভারে ১৩০/৫ (হারিস ৬, বাবর ০, মেন্ডিস ৯, হার্ডি ৫৬*, ব্রেসওয়েল ৪, সামাদ ৪৮, ইউসুফ ৪*; আলি ৪-০-৩৮-৩, আকিফ ৪-০-২৯-১, হুনাইন ৩.২-০-২৬-১, হাসান ৩-০-২২-০, সাইম ১-০-১৩-০)

ফল: ৫ উইকেটে জিতে চ্যাম্পিয়ন পেশাওয়ার জালমি

ম্যান অব দা ম্যাচ: অ্যারন হার্ডি

প্রিন্ট

আরও সংবাদ