খুলনা | মঙ্গলবার | ০৫ মে ২০২৬ | ২২ বৈশাখ ১৪৩৩

তামিলনাড়ুর ৪৯ বছরের যে রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছেন বিজয়

খবর বিনোদন |
০৩:২৬ পি.এম | ০৫ মে ২০২৬

 

নিজের প্রথম নির্বাচনেই তাক লাগিয়ে দিয়েছেন জোসেফ বিজয় চন্দ্রশেখর, দক্ষিণ ভারতের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে যিনি ‘থালাপতি বিজয়’ নামে বিখ্যাত। তামিলনাড়ুর বিধান সভা নির্বাচনে শুধু বড় জয় প্রাপ্তির পাশাপাশি ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় এ রাজ্যের ৪৯ বছরের একটি রেকর্ডও ভাগ বসিয়েছেন সাবেক এই তারকা চিত্রনায়ক।

ফিল্মের জগৎ থেকে এসে রাজনৈতিক দল গঠন, তারপর নির্বাচন এবং তাতে জয়ী হয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হওয়া— এমন ঘটনা তামিলনাড়ুর ইতিহাসে এর আগে একবারই ঘটেছিল। ১৯৭৭ সালে তামিল সিনেমার তৎকালীন অন্যতম তারকা অভিনেতা এমজি রামাচন্দ্রান নির্বাচনে জিতে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন। ১৯৮৭ সালে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন তিনি। তার রাজনৈতিক দলের নাম এআইএডিএমকে।

পরে অবশ্য তামিল ফিল্মের সাবেক অভিনেত্রী জয়ারাম জয়ললিতা তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রীর পদে এসেছিলেন, তবে নিজে কোনো রাজনৈতিক দল তিনি গঠন করেননি। এমজি রামাচন্দ্রানের দল এআইএডিএমকে-তে যোগ দিয়ে সেই দলের প্রভাব বিস্তার করে শীর্ষ নেত্রী হয়েছিলেন। সেই সুবাদে মুখ্যমন্ত্রীও হয়েছিলেন।

বারবার চেষ্টা এবং বিপুল ভক্তকুল থাকা সত্ত্বেও, এরপর থেকে কোনো অভিনেতা-অভিনেত্রীই সেই চূড়ান্ত নির্বাচনী সীমা অতিক্রম করতে পারেননি। জয়ললিতা, একজন বড় চলচ্চিত্র তারকা হওয়া সত্ত্বেও, নিজের কোনো নতুন রাজনৈতিক দল তৈরি না করে, বরং এমজিআর-এর বিদ্যমান এআইএডিএমকে-কে উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়ে, সংহত করে এবং অবশেষে তার ওপর আধিপত্য বিস্তার করেই মুখ্যমন্ত্রীর পদে পৌঁছেছিলেন। জয়ললিতার পর আর কোনো অভিনেতা/অভিনেত্রীকে রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত হতে দেখা যায়নি।

তবে এবারের বিধানসভা নির্বাচনে আবারও ১৯৭৭ সালের সেই চিত্র অনকটাই ফিরিয়ে এনেছেন বিজয় এবং তার রাজনৈতিক দল তামিলাগা ভেট্টরি কোঝাগাম (টিভিকে)। তামিলনাড়ুর বিধানসভায় মোট আসন ২৩৪; কোনো দল যদি সরকার গঠন করতে চায়— তাহলে সেই দল বা জোটকে অবশ্যই ১১৮ আসনে জয়ী হতে হবে। এবারের বিধানসভা নির্বাচনে বিজয় নিজে তো জয়ী হয়েছেনই— উপরন্তু তার দল টিভিকে ১০৮টি আসনে জয় পেয়েছে। ২০২৪ সালে গঠিত একটি একটি রাজনৈতিক দলের জন্য এই ফলাফল রীতিমতো চমকপ্রদ।

পার্লামেন্টের বিধি অনুযায়ী অবশ্য এককভাবে সরকার গঠন করতে পারবে না টিভিকে। কোনো না কোনো দলের সঙ্গে জোট করতে হবে; কিন্তু জোট গঠিত হলেও সেটির চলকের আসনে থাকবে টিভিকে এবং বিজয় যে তামিলনাড়ুর পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন— তা নিশ্চিত। এভাবেই, এই নির্বাচনের মধ্যে দিয়েই এম জি রামাচন্দ্রানের রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছেন জোসেফ বিজয় চন্দ্রশেখর।

এবং এমজি রামাচন্দ্রান রাজনীতিতে যে কৌশল অবলম্বন, বিজয়ও তা অনুসরণ করেছেন। এমজি রামজচন্দ্রান নিজের বিশাল ভক্তশ্রেনীকে একই সঙ্গে ভোটার এবং রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে গড়ে তুলেছিলেন। এই ভক্তকূলই ছিল তার মূল রাজনৈতিক চালিকাশক্তি।

বিজয়ও একই কাজ করেছেন। ২০০৯ সালের শুরু থেকে নিজের ভক্তদের সংগঠিত করা শুরু করেন তিনি। ভক্তদের বিভিন্ন গ্রুপের সমন্বয়ে বিজয় মাক্কাল ইয়াক্কাম নামে একটি ঐক্যমোর্চাও গঠন করেন বিজয়। এই ঐক্যমোর্চা রাজনৈতিকভাবেও সক্রিয় ছিল। ২০১১ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত এমজি রামাচন্দ্রানের দল এআইডিএমকে- সমর্থন দিয়েছে বিজয় মাক্কাল ইয়াক্কাম।

তবে ২০২১ সালে এআইডিএমকে থেকে সমর্থন তুলে নেয় মাক্কাল ইয়াক্কাম এবং এটিকে রাজনৈতিক দল হিসেবে সংগঠিত করতে মনোযোগ দেন বিজয়। ২০২৪ সালে নিজের রাজনৈতিক দল তামিলাগা ভেট্টরি কোজাগাম আত্মপ্রকাশ করে এবং সেই দলের প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচনে জিতে বর্তমানে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রীর শপথ গ্রহণের অপেক্ষায় আছেন বিজয়।
সূত্র : এনডিটিভি

প্রিন্ট

আরও সংবাদ