খুলনা | বুধবার | ০৬ মে ২০২৬ | ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩

ভাড়া বাড়িতেই ৯ বছর : অবশেষে স্থায়ী ক্যাম্পাস পেতে যাচ্ছে খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

এন আই রকি |
০১:৩৭ এ.এম | ০৬ মে ২০২৬


প্রতিষ্ঠার ৯ বছর পেরিয়ে গেলেও নিজস্ব ক্যাম্পাসের দেখা পায়নি খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (খুকৃবি)। আবাসন সংকট আর ভাড়া করা ভবনের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে অবশেষে স্থায়ী ক্যাম্পাসের স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে নতুন করে আশার আলো দেখা দিয়েছে। নতুন উপাচার্য যোগদানের পর ভূমি অধিগ্রহণ ও উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) পুনর্গঠনের মাধ্যমে শুরু হয়েছে দৃশ্যমান তৎপরতা। বিশ্ববিদ্যালয়টির অস্থায়ী ক্যাম্পাসের পার্শ্ববর্তী এলাকা নিয়ে স্থায়ী ক্যাম্পাস করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে প্রায় আড়াইশ’ একর জমি অধিগ্রহণের জন্য একটি সীমানা তৈরি করে সে প্রস্তাবনা মোতাবেক কার্যক্রম চলমান আছে। 
জানা যায়, ২০১৫ সালের ৫ জুলাই ‘খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়’ আইন পাস হওয়ার পর ২০১৮ সালে প্রথম উপাচার্য নিয়োগের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। ২০১৯ সালে মাত্র ৮০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে পাঠদান শুরু হলেও বর্তমানে পাঁচটি অনুষদে বিদেশি শিক্ষার্থীসহ প্রায় ৭০০ শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন।
কিন্তু দীর্ঘ এই সময়েও বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব কোনো অবকাঠামো গড়ে ওঠেনি। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন, ছাত্র-ছাত্রী হোস্টেল, লাইব্রেরি এবং দুইটি ক্যাম্পাসসহ সবকিছুই চলছে অস্থায়ীভাবে ভাড়া করা ভবনে। নগরীর গোয়ালখালি মোড়ে একটি ভাড়া ভবনে চলে প্রশাসনিক কার্যক্রম। দৌলতপুর থানার দেয়ানা গ্রামে ছাত্র হোস্টেল, লাইব্রেরি ও দুইটি  ক্যাম্পাস এবং বয়রা এলাকায় রয়েছে ছাত্রী হোস্টেল। এর মধ্যে একটি ক্যাম্পাস সিটি কর্পোরেশনের একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভাড়া করে চালানো হচ্ছে। নিজস্ব ল্যাবরেটরি, পর্যাপ্ত গবেষণার মাঠ ও শিক্ষক-কর্মচারীদের আবাসন সংকটের কারণে প্রতি মাসে সরকারকে ভাড়াবাবদ বিপুল অংকের টাকা গুণতে হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালে ইউজিসির মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি মাস্টার প্ল্যান প্রস্তাব করা হয়েছিল, যেখানে ১০ হাজার কোটি টাকা এবং ১৫০০ একর জমি চাওয়া হয়। তবে ২০২২-২৩ অর্থবছরে সরকার এটি কমিয়ে ২৫০ একরের মধ্যে মাস্টার প্ল্যান করার নির্দেশ দেয় এবং তৎকালীন ব্যয় নির্ধারণ করা হয় প্রায় ২১০০ কোটি টাকা। ২০২৪ সালের শুরুতে অর্থ ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে ইতিবাচক সংকেত পাওয়া গেলেও রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের কারণে কাজ কিছুটা পিছিয়ে পড়ে। ২০২৪ সালের ৩০ অক্টোবর নতুন উপাচার্য হিসেবে অধ্যাপক ড. মোঃ নাজমুল আহসান দায়িত্ব গ্রহণের পর স্থবিরতা কাটতে শুরু করেছে। যদিও ২০২৫ সালের মার্চ মাসে প্লানিং কমিশন থেকে ফাইলটি পুনরায় ডিপিপি তৈরির নির্দেশনায় ফেরত আসে। বর্তমানে প্রকল্পের ইভোলিউশন বা মূল্যায়নের কাজ চলছে।
অধিগ্রহণে যে এলাকাগুলো গুরুত্ব পাচ্ছে : বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট সূত্র ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ২৫০ একর জমির একটি খসড়া করা হয়েছে। ভূমি অধিগ্রহণের প্রস্তাবিত তালিকায় রয়েছে- দেয়ানা মোল­াপাড়ার একাংশ, খুদের খাল, দেয়ানা দক্ষিণপাড়ার একাংশ, দেয়ানা ও রায়েমহলের মাঝামাঝি অংশ এবং আড়ংঘাটা থানা এলাকার পাহাড়পুর এলাকা। সোমবার দুপুরে খুলনা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে ভূমি কর্মকর্তার উপস্থিতিতে সার্ভেয়ারদের নিয়ে এ বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। নতুন প্রকল্প অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের সবুজ সংকেত পাওয়ার পর ফাইলটি এখন ইউজিসি, শিক্ষা ও অর্থ মন্ত্রণালয় হয়ে একনেকে ওঠার অপেক্ষায় রয়েছে।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস স্থাপন নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি অনুযায়ী, খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল নির্বাচনকালীন সময়ে প্রতিশ্র“তি দিয়েছিলেন যে, খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস দেয়ানা এলাকাতেই হবে। একইসঙ্গে তিনি প্রতিশ্র“তি দিয়েছিলেন, এই বিশ্ববিদ্যালয়ের কারণে এলাকার উন্নয়ন হবে এবং স্থানীয় মানুষ তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরির সুযোগ পাবেন। বর্তমানে স্থায়ী ক্যাম্পাসের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় সেই প্রতিশ্র“তির প্রতিফলন দেখছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ নাজমুল আহসান  বলেন, “আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই এই বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি উচ্চমানের শিক্ষা ও গবেষণা কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছি। ডিপিপি পুনর্গঠনের কাজ চলছে এবং উচ্চপর্যায়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। আমরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে জমি অধিগ্রহণ ও স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণের কাজ শুরু করতে চাই। তিনি আরো বলেন বিশ্ববিদ্যালয়টির বেশির ভাগ অংশই দৌলতপুর ও খালিশপুর  এলাকার ভিতর থাকবে।”

প্রিন্ট

আরও সংবাদ