খুলনা | বুধবার | ০৬ মে ২০২৬ | ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩

দেড় মণ বোরো ধানের দামে একজন কৃষি শ্রমিকের মজুরি

আল মাহমুদ প্রিন্স |
০১:৫০ এ.এম | ০৬ মে ২০২৬


এপ্রিলে খুলনার আকাশে হঠাৎ বৃষ্টি। মে মাসের প্রথম পাঁচ দিনেও তা থেমে থাকেনি। বোরো ক্ষেতে সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। এই সুযোগে কৃষি শ্রমিক দৈনিক মজুরি হাকায় ১৩শ’ টাকা। যা দেড় মণ নতুন বোরো ধানের মূল্যের সমান। অতিবৃষ্টির পাকা ধান ঘরে তোলা নিয়ে বিপাকে পড়েছে জেলার রূপসা, দাকোপ, ডুমুরিয়া ও পাইকগাছা উপজেলার তিন হাজার কৃষক। ধান গোলায় ওঠানোর আগেই অতিবৃষ্টি লোকসানের মুখে দাঁড় করিয়েছে খুলনার প্রান্তিক কৃষকদের।  
রোবো ধান কৃষকের গোলায় ওঠার মুহূর্তে প্রাকৃতিক দুর্যোগ অতিবৃষ্টির কবলে পড়ে। এপ্রিল এবং মে মাসের প্রথমার্ধের বৃষ্টিতে খুলনার চাষির বোরো ধান ও শীতকালীন শাক-সবজির ক্ষতি হয়েছে। বৃষ্টিতে খুলনা জেলার ৮৭৩ হেক্টর জমির ধান ও সবজি ক্ষেত ডুবেছে। ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলাগুলো হচ্ছে রূপসা, দাকোপ, পাইকগাছা ও ডুমুরিয়া। বীজ, সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের মজুরি বেশি হওয়ায় বেড়েছে উৎপাদন খরচ। মৌসুমের শুরুতে বীজতলা, রোপণ ও এপ্রিল-মে’তে কৃষি শ্রমিকের মজুরি বাড়ে। ধান কাটা মৌসুমে দৈনিক একজন কৃষি শ্রমিকের মজুরি ছিল ৭শ’ থেকে ১ হাজার টাকা। জেলার রূপসা, ডুমুরিয়া ও তেরখাদায় ১২শ’ থেকে ১৩শ’ টাকা দিয়ে দৈনিক সকাল ৭টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত শ্রমঘন্টা কিনতে হয়।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের সূত্রের তথ্য, এপ্রিলে স্বাভাবিকের চেয়ে ৭৫ শতাংশ বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। নয় বছরের মধ্যে এপ্রিলে এবারে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয়েছে। গেল মাসে জেলায় গড়ে ৩৩ দশমিক ৭০ মিলিমিটার, ১ মে ১৯ মিলিমিটার, ৩ মে ১০ মিলিমিটার, ৪ মে ৪ মিলিমিটার ও ৫ মে ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। 
জেলায় এবারের বোরো মৌসুমে ৬৬ হাজার হেক্টর জমিতে আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে কৃষি স¤প্রসারণ বিভাগ। ৬৫ হাজার ৭৭৮ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়। সবচেয়ে বেশি আবাদি এলাকা ডুমুরিয়া ও পাইকগাছা উপজেলা। এ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, কেজিপ্রতি উৎপাদন খরচ গতবারের চেয়ে দু’টাকা করে বেড়েছে। অন্তর্বতীকালীন সরকারের বিদায়ের মূহুর্তে সারের সংকট দেখা দেয়। তারপরও জেলায় হেক্টর প্রতি ৪ দশমিক ৭৪ মেট্রিক টন চাল উৎপাদনের কথা তুলে ধরেন কৃষি স¤প্রসারণের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক সুবীর কুমার বিশ্বাস। এ কৃষি কর্মকর্তা বলেছেন, উৎপাদন বাড়ানোর জন্য কৃষকরা হীরা-১, হীরা-২, হীরা-১৯, সুবর্ণ-৩, ছক্কা ও সিনজেনটা-১২০৩ জাতের হাইব্রীড বোরো বীজ রোপণ করে।
এ দপ্তরের তথ্যে উলে­খ করা হয়েছে, এপ্রিলের শেষ ও মে মাসের প্রথম  পাঁচ দিনে বোরো ছাড়াও শ্রীষ্মকালীন সবজি, তরমুজ, ভূট্টা, মুগ ও তিলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। মে মাসের প্রথম দু’দিনে অতিবৃষ্টিতে ধান ক্ষেতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। ডুমুরিয়ার শিংয়ের বিল, সাহাপুর ও মধুগ্রাম, রূপসা উপজেলার বিল জাবুসায় বৃষ্টিতে শীষ থেকে ঝরে পড়ে। দাকোপ, পাইকগাছা ও ডুমুরিয়ায় ৭৭০ হেক্টর জমির বোরো ক্ষেত বৃষ্টিতে ভিজেছে। 
রূপসা উপজেলার বাগামারা গ্রামের কৃষক খোরশেদ আলম, মোঃ ওমর আলী শেখ ও আলেমান শেখ অতিবৃষ্টিতে বিল জাবুসায় বোরো ক্ষেত তলিয়ে যায়। ইলাইপুর গ্রামের কৃষক মোঃ ইব্রহিম হোসেন বলেন, এবছর অতিবৃষ্টির কারণে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ