খুলনা | বুধবার | ০৬ মে ২০২৬ | ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩

খুলনায় হত্যাকাণ্ডের ২২ বছর পর ২ জনের যাবজ্জীবন

নিজস্ব প্রতিবেদক |
০৫:৫৮ পি.এম | ০৬ মে ২০২৬


খুলনায় পাইকগাছা উপজেলার চরমলই গ্রামের নেছার আলী মোড়ল হত্যা মামলায় দুই আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।  

বুধবার (৬ মে) খুলনার বিভাগীয় দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মঞ্জুরুল ইমাম এ রায় দেন।  

দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- সাতক্ষীরার তালা উপজেলার সাহাজাতপুর গ্রামের বাসিন্দা রেজোয়ান বিশ্বাসের ছেলে শহিদুল এবং খুলনার পাইকগাছা উপজেলার মনোসা বিশ্বাসের ছেলে সাধন হাওলাদার।

এজাহারের বরাত দিয়ে ওই আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. মাজাহারুল ইসলাম জানান, ২০০৪ সালের ১ জানুয়ারি সকালে উপজেলার চরমলই গ্রামের বাসিন্দা নেছার আলী মোড়ল হলুদ বিক্রির জন্য কপিলমুনি বাজারে যায়। হলুদ বিক্রি করে হিতামপুর গ্রামের সম্মিরন সাধু ও সন্তোষ কুমারের ইটের ভাটার উত্তর-পশ্চিম কোনায় পৌঁছালে শহিদুল ও ভোলাসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজন নেছার আলী মোড়লের সাথে কথা বলার জন্য বেড়ি বাঁধের দিকে আসতে থাকে। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ওই দুইজন নেছার আলী মোড়লের কানের কাছে আগ্নেয়াস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি করে। এরপর তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে। চিকিৎসকরা পরবর্তীতে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় নিহতের ভাই আনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে ঘটনার দিন থানায় মামলা করেন।

এজাহারে হত্যাকাণ্ডের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়, ঘটনার কয়েকদিন পূর্বে পাওনা টাকা আনতে নেছার আলী মোড়ল উপজেলার হিতামপুর গ্রামের কেনারারম বিশ্বাসের বাড়িতে যান। সেখানে গিয়ে তার মেয়ে রত্না বিশ্বাস ওরফে আদুরীকে আসামি শহিদুলের সাথে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলে। এ সময় নেছার আলী মোড়ল শহিদুলকে গালমন্দ করেন। এ ঘটনার জের ধরে শহিদুল ও তার সহযোগী ভোলাসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজন নেছার আলী মোড়লকে হত্যা করেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পাইকগাছা থানার এসআই নাসির উদ্দিন ২০০৫ সালের ৩০ এপ্রিল শহিদুল ও ভোলাকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ