খুলনা | বৃহস্পতিবার | ০৭ মে ২০২৬ | ২৪ বৈশাখ ১৪৩৩

পশ্চিমবঙ্গে শুভেন্দুর ব্যক্তিগত সহকারীকে গুলি করে হত্যা

খবর প্রতিবেদন |
১২:৪৩ এ.এম | ০৭ মে ২০২৬

 

ভারতে বিধানসভার নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই পশ্চিমবঙ্গে ফিরে এল রক্তাক্ত রাজনীতি। বুধবার রাতে উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামের দোহাড়িয়া এলাকায় গুলিতে নিহত হয়েছেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিগত সহকারী চন্দ্রনাথ রথ। ভারতের বিভিন্ন গণমাধ্যম পুলিশ সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, তার মাথায় পরপর তিনটি গুলি লেগেছে।

নিহত চন্দ্রনাথ রথ শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে কাজ করতেন। স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে পশ্চিমবঙ্গের সংবাদমাধ্যম ‘আনন্দবাজার’ জানিয়েছে, রাতে চন্দ্রনাথের গাড়ি লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। অভিযোগ উঠেছে, দুর্বৃত্তরা তাঁর গাড়ির পিছু নেয় এবং মধ্যমগ্রামের দোহারিয়া এলাকায় পৌঁছালে গাড়ি লক্ষ্য করে অন্তত চার রাউন্ড গুলি ছোড়ে।

গুলিবিদ্ধ অবস্থায় চন্দ্রনাথকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। হামলায় তাঁর সঙ্গে থাকা আরেক ব্যক্তি বুদ্ধদেব বেরা আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

চন্দ্রনাথ রথের বাড়ি পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় হলেও তিনি উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রাম এলাকাতেই বসবাস করতেন। রাজনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের ভবানীপুর বিধানসভা উপনির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর পক্ষে যে টিম কাজ করেছিল, চন্দ্রনাথ ও বুদ্ধদেব দুজনই সেই দলের সক্রিয় সদস্য ছিলেন।

বিগত পাঁচ বছর ধরে চন্দ্রনাথ ছিলেন শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক ও ছায়াসঙ্গী। শুভেন্দুর সব রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত কাজকর্ম, যোগাযোগ, সভা-সমাবেশের তদারকি সবকিছুর দায়িত্ব সামলাতেন তিনি। সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে শুভেন্দু ভবানীপুর ও নন্দীগ্রাম থেকে জয়ী হয়েছেন। ৯ মে বিজেপি সরকার গঠন করতে চলেছে এবং সম্ভাব্য মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে শুভেন্দুর নাম সবার উপরে। ঠিক এই সময়ে তার সবচেয়ে বিশ্বস্ত সহকারীর উপর এমন হামলা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার গন্ধ ছড়াচ্ছে।

ঘটনার পর এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ, র‍্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স ও কেন্দ্রীয় বাহিনী দ্রুত পৌঁছে এলাকা ঘিরে ফেলে। গুলিবিদ্ধ গাড়িটি উদ্ধার করে পুলিশ হেফাজতে নিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পেছনের কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

খবর পেয়ে বিজেপির একাধিক নেতা-বিধায়ক ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে ছুটে যান। এই হত্যাকাণ্ডকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বলে অভিহিত করেছেন অনেকে।

মধ্যমগ্রামের মতো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এমন দিনেদুপুরে গাড়ি আটকে গুলি চালানোর ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে। পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে, কিন্তু এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ