খুলনা | বৃহস্পতিবার | ০৭ মে ২০২৬ | ২৪ বৈশাখ ১৪৩৩

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়ে ‘তিস্তা চুক্তি’ নিয়ে আশাবাদী বাংলাদেশ

খবর প্রতিবেদন |
০১:৩৩ এ.এম | ০৭ মে ২০২৬


পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে প্রথমবারের মতো সরকার গঠন করতে যাচ্ছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। এতে তৃণমূল কংগ্রেসের ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটছে। আর বিজেপির এই জয়েই দুই দেশের মধ্যে অমীমাংসিু তিস্তা পানি বণ্টন চুক্তি নিয়ে নতুন করে আশার আলো দেখছে বাংলাদেশ। বর্তমান সরকারি দল জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ইতোমধ্যেই বিজেপিকে অভিনন্দন জানিয়েছে এবং এই ফলাফলকে পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে।
ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিএনপি’র তথ্য সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বিজেপির জয়ের প্রশংসা করেছেন। একই সঙ্গে বিজেপি ক্ষমুায় আসার কারণে দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত তিস্তা পানি বণ্টন সমস্যার সমাধানে সহজ হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি। 
হেলাল বলেন, ‘মমুা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণম‚ল কংগ্রেস সরকার তিস্তা ব্যারেজ চুক্তির পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তবে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার এখন বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের কাক্সিক্ষত এই চুক্তির বিষয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের সঙ্গে একযোগে কাজ করতে পারবে’।
তিনি আরও বলেন, শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বিজেপির বিজয় পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে সম্পর্ককে আরও জোরদার করতে পারে, কারণ ভারতীয় রাজ্যগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের সঙ্গে এই রাজ্যেরই দীর্ঘতম সীমান্ত রয়েছে। ক্ষমুার এই পরিবর্তন বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে সম্পর্ক উন্নত করার সম্ভাবনা তৈরি করেছে এবং ঢাকা ও কলকাতাকে ঘিরে দীর্ঘদিনের আন্তঃসীমান্ত সমস্যার প্রেক্ষাপটে এটিকে একটি ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে তুলে ধরেন তিনি।
তিস্তা প্রসঙ্গে হেলাল বলেন, ‘আসলে, আগে আমরা দেখেছি যে তিস্তা ব্যারেজ স্থাপনের পথে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই ছিলেন মূল বাধা। আমার মতে, এখন যেহেতু শুভেন্দুর নেতৃত্বে বিজেপি নির্বাচনে জিতেছে, তাই বাংলাদেশ সরকার ও মোদি সরকারের অত্যন্ত কাক্সিক্ষত তিস্তা ব্যারেজ চুক্তিটি বাস্তবায়নে শুভেন্দু সাহায্য করবেন। আমি মনে করি, তৃণমূল কংগ্রেসের পরিবর্তে বিজেপি ক্ষমুায় আসায় তাদের সরকারের অধীনেই তিস্তা ব্যারেজ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে।’ 
প্রসঙ্গত, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে অভিন্ন নদীগুলোর পানি বণ্টনের ক্ষেত্রে তিস্তা নদীর পানি বণ্টন বিবাদ দীর্ঘ চার দশকের বেশি সময় ধরে অন্যতম প্রধান অমীমাংসিত ইস্যু হিসেবে রয়ে গেছে। বাংলাদেশ তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা পাওয়ার জন্য দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষা করছে।
বাংলাদেশের অভিযোগ, শুষ্ক মাসগুলোতে ভারত পর্যাপ্ত পানি ছাড়ে না, যা ভাটির দিকে কৃষি ও জীবিকাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। জলবায়ু পরির্বুন নিয়ে উদ্বেগও কমে আসা পানির প্রাপ্যতা নিয়ে এই বিবাদকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
মূলত ১৯৮৩ সালে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে একটি অস্থায়ী চুক্তি হয়। ২০১১ সালে আরেকটি তিস্তা চুক্তির খসড়া তৈরি করে দুই দেশ, যেখানে শুকনো মওসুমে ভারতের ৩৭.৫ শতাংশ এবং বাংলাদেশের ৪২.৫ শতাংশ পানি পাওয়ার কথা হয়। কিন্তু রাজ্যের নিজস্ব পানির চাহিদা দেখিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমুা বন্দ্যোপাধ্যায় এই চুক্তির বিরোধিতা করেন। যেহেতু ভারতের সংবিধান অনুযায়ী পানির ওপর রাজ্যের অধিকার স্বীকৃত, তাই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর আপত্তি উপেক্ষা করে তিস্তা চুক্তি করা কার্যত সম্ভব নয় ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষে।
সর্বশেষ ২০১৫ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরেও একটি ন্যায্য ও সমতাভিত্তিক পানি বণ্টন চুক্তির মাধ্যমে পূর্বের মতপার্থক্যগুলো নিরসনের প্রত্যাশাও জাগিয়েছিল। তবে সেখানেও বাধা দেন মমতা। 
এদিকে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ৫৪টি নদী রয়েছে, কিন্তু এখন পর্যন্ত মাত্র দু’টি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে-গঙ্গা এবং কুশিয়ারা নদী চুক্তি। তিস্তা ও ফেনীসহ অন্যান্য নদীগুলো নিয়ে এখনও আলোচনা চলছে। 
এ বিষয়ে হেলাল বলেন, বিএনপি ও বিজেপির মধ্যে আদর্শগত পার্থক্য থাকা সত্তে¡ও তিস্তা ব্যারেজ এবং বাংলাদেশ-ভারতের বৃহত্তর সম্পর্কসহ কিছু নির্দিষ্ট বিষয়ে উভয় পক্ষ ঐক্যবদ্ধ। 
তিনি আরও বলেন, পশ্চিমবঙ্গের নতুন সরকার সেই সম্পর্ককে আরও ত্বরান্বিত করতে সাহায্য করতে পারে।
স‚ত্র: ইন্ডিয়া টুডে

প্রিন্ট

আরও সংবাদ