খুলনা | বৃহস্পতিবার | ০৭ মে ২০২৬ | ২৪ বৈশাখ ১৪৩৩

চিতলমারীর পরিত্যক্ত হেলিপ্যাড হতে পারে প্রত্যাশিত মিনি স্টেডিয়াম

এস এস সাগর, চিতলমারী |
০২:১৩ এ.এম | ০৭ মে ২০২৬


বাগেরহাটের চিতলমারীর পরিত্যক্ত হেলিপ্যাড হতে পারে বহুদিনের কাক্সিক্ষত মিনি স্টেডিয়াম। বর্তমানে এ উপজেলার ক্রীড়ামোদি ও সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ এমন দাবী তুলেছেন। তাঁদের ভাষ্যমতে, এ উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে একটি মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণের আলোচনা চলছে। কিন্তু সুবিধামত জায়গা না পাওয়ায় সে পরিকল্পনা বার বার ভেস্তে গেছে। তাই তৃণমূল পর্যায়ে খেলাধুলার প্রসার, যুব সমাজকে মাদক ও অপরাধমুক্ত রাখা এবং দক্ষ খেলোয়াড় তৈরির লক্ষে হেলিপ্যাডের পরিত্যক্ত জমিতে একটি মিনি স্টেডিয়াম তৈরি করা যেতে পারে। ওখানে খেলার মাঠের পাশাপাশি শিশুদের বিনোদনের জন্য ছোটখাট রাইডার স্থাপন করলে এলাকার মানুষ কিছুটা হলেও চিত্তবিনোদনের সুযোগ পাবে। 
চিতলমারী সদর ইউনিয়ন ভূমি অফিস থেকে জানা গেছে, হুসাইন মোহাম্মদ এরশাদ সরকারের আমলে উপজেলার আড়–য়াবর্নী গ্রামে একটি হেলিপ্যাড নির্মাণ করা হয়। ওই হেলিপ্যাডের নামে মোট ৩ একর ৩৬ শতক জমি বিআরএস রেকর্ড হয়েছে। ওটা বর্তমানে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। কিছুটা অংশে বেদে স¤প্রদায়ের মানুষেরা আশ্রয় নিয়েছেন। 
চিতলমারী বাজার ব্যবসায়ী ব্যবস্থাপনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও হেডিপ্যাডের পাশের বাসিন্দা শেখ আসাদুজ্জামান বলেন, ‘ওখানে এখন আর হেলিকপ্টার ওঠানামা করে না। যুগ যুগ ধরে হেলিপ্যাডটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। স্থানীয় এক প্রভাবশালী ওখানে কলাগাছ পেঁপে গাছ লাগিয়ে বহু জায়গা দখল করে নিয়েছে। সারা বাজারের ময়লা-আবর্জনা ওখানে ফেলা হয়। দুর্গন্ধে বসবাস করা যায় না। রাতে মাদকসেবীদের আড্ডা হয়। তাই পরিত্যক্ত ওই হেলিপ্যাডে মিনি স্টেডিয়াম বা খেলার মাঠ করলে এলাকার যুব সমাজ সুস্থ ধারায় ফিরে আসবে। 
চিতলমারী উপজেলার বিশিষ্ট ক্রীড়া শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম বিন্দু, ক্রীড়াবিদ সত্যজিৎ মন্ডল ও জয়নুল পারভেজ সুমন জানান, এ উপজেলায় খেলার মাঠের অভাব। তাছাড়া একটি মিনি স্টেডিয়াম এলাকাবাসির দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা। তাই ওই হেলিপ্যাডে একটি মিনি স্টেডিয়াম অথবা খেলার মাঠ নির্মাণ করলে যুব সমাজ আবারও খেলার মাঠে ফিরবে। 
চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খাদিজা আক্তার বলেন, ‘প্রতিটি ইউনিয়নে একটি খেলার মাঠের জায়গা নির্ধারণের জন্য জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ থেকে জেলা প্রশাসককে চিঠি দিয়েছেন। জেলা প্রশাসক প্রত্যেক ইউনিয়নে খেলার মাঠের জায়গা নির্ধারণের জন্য আমাদের লিখিত ভাবে জানিয়েছেন। আমরা মাঠের জায়গা নির্ধারণের জন্য কাজ করছি। হেলিপ্যাডের জায়গাটি পড়ে আছে। ওখানে একটি মিনি স্টেডিয়াম বা চিতলমারী ইউনিয়নের খেলার মাঠ করা যেতে পারে।’ 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ