খুলনা | বৃহস্পতিবার | ০৭ মে ২০২৬ | ২৪ বৈশাখ ১৪৩৩

কেসিসি’র তেল চোরকে ধরতে তিন দফা কমিটি

নিজস্ব প্রতিবেদক |
০২:১৩ এ.এম | ০৭ মে ২০২৬


খুলনা সিটি কর্পোরেশনের কেসিসি তেল চোর চক্রকে ধরতে কর্তৃপক্ষ তিন দফা কমিটি গঠন করেছেন। সর্বশেষ গত ৪ মে তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির আহবায়ক কেসিসির নির্বাহী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) মোঃ আনিসুজ্জামান। সদস্য হলেন কেসিসির কনজারভেন্সি অফিসার মোহাম্মদ আনিসুর রহমান ও উপসহকারী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) মোহাম্মদ সেলিমুল আজাদ। 
গত ৪ মে কেসিসি’র প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা রহিমা সুলতানা বুশরা স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ কমিটি গঠন করা হয়। পত্রে উল্লেখ করা হয় গত ১৯ মার্চ দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে খালিশপুর বি-অঞ্চলের এসটিএস এর সুপারভাইজার নুরুজ্জামান সুমন, কেসিসির প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে মুঠোফোনে জানান, খালিশপুর নিউমার্কেট এসটিএস এর ভিতর এসটিএস এর একটি ব্যাক হুইল লোডার জ্বালানি ট্যাংকির মুখ খুলে জ্বালানি তেল চুরি হচ্ছে। প্রশাসকের নির্দেশনায় দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে একটি জ্বালানি তেলের ক্যানে কয়েক লিটার তেলসহ ক্যানটি জব্দ করা হয়। তাৎক্ষণিকভাবে ওই ব্যাক হুইল লোডার চালক এনায়েত হোসেন বাবলুকে গাড়ি চালানো হতে বিরত রাখা হয়। এ ঘটনার তদন্তের জন্য উল্লেখিত কমিটি গঠন করা হয়। বিষয়টি তদন্ত করে আগামী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়। 
ঘটনার পরপরই তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির একজন সদস্যকে নিয়ে আপত্তি থাকায় প্রশাসকের নির্দেশনায় ওই সদস্যকে কমিটি থেকে বাদ দিয়ে পুনরায় নতুন করে কমিটি গঠন করা হয়। বাদ দেওয়া সদস্যদের নাম হল কেসিসির এস্ট্রেট অফিসার গাজী সালাউদ্দিন। তাকে বাদ দিয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) মোঃ আনিসুজ্জামানকে ওই কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
দ্বিতীয় দফায় গঠিত কমিটির প্রধান করা হয় কেসিসির নির্বাহী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) মোঃ আনিসুজ্জামানকে। ওই কমিটির একজন সদস্য কেসিসির কনজারজেন্সি অফিসার মোঃ অহেদুজ্জামান ব্যক্তিগত অজুহাত খাড়া করে কমিটি থেকে পদত্যাগ করেন।ওই কমিটির তদন্তের মেয়াদ দেয়া হয়েছিলো পাঁচ কর্মদিবস। তদন্ত চলাকালীন সময়ে একজন সদস্য পদত্যাগ করায় তৃতীয় দফায় পুনরায় কমিটি গঠন করা হয়েছে। 
উল্লেখ্য, সাবেক মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান এর সময় দুই ড্রাম চোরাই তেলসহ দুইজনকে আটক করে কেসিসি কর্তৃপক্ষ। ওই ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও তদন্ত প্রতিবেদন এখনো আলোর মুখ দেখেনি। ওই তদন্ত রিপোর্ট আবারো খতিয়ে দেখলে কেসিসি’র চোরাই চক্রটির মুখোশ উন্মোচন হবে বলে ধারণা করছেন সাধারণ চালকরা।
নতুন তদন্ত কমিটির সদস্য কনজারভেন্সী অফিসার মোঃ আনিসুর রহমান বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি এ ঘটনার বাদী। আমাকে কোন নিয়মে কমিটির সদস্য করা হলো।’

প্রিন্ট

আরও সংবাদ