খুলনা | বৃহস্পতিবার | ০৭ মে ২০২৬ | ২৪ বৈশাখ ১৪৩৩

বাংলাদেশ সিরিজে ‘প্রতিশোধ’ শব্দে আপত্তি সালমানের

ক্রীড়া প্রতিবেদক |
০৪:১৬ পি.এম | ০৭ মে ২০২৬

 

রাওয়ালপিন্ডির সেই স্মৃতি পাকিস্তানের জন্য সুখকর নয়। নিজেদের মাঠে এগিয়ে থেকেও ম্যাচ হাতছাড়া, সিরিজ হার, বাংলাদেশের ঐতিহাসিক সাফল্য, সব মিলিয়ে ২০২৪ সালের সেই সিরিজ পাকিস্তান ক্রিকেটের জন্য ছিল বড় ধাক্কা। কিন্তু মিরপুরে নতুন সিরিজ শুরুর আগে সালমান আলী আগা সেই অতীতকে ‘প্রতিশোধ’ দিয়ে মাপতে চান না।

বাংলাদেশের বিপক্ষে মিরপুর টেস্টের আগের সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের টেস্ট অধিনায়ক পরিষ্কার জানালেন, তাদের ড্রেসিংরুমে প্রতিশোধের ভাষা নেই। বরং বাংলাদেশের কৃতিত্বকেই সামনে আনলেন তিনি।

সালমান বলেছেন, ‘আমাদের দলে প্রতিশোধ-জাতীয় কোনো শব্দের সঙ্গে নিজেদের জড়াই না। ২০২৪ সালে বাংলাদেশ যেভাবে প্রস্তুতি নিয়ে এসে খেলেছিল, তাদের কৃতিত্ব দিতেই হবে।’

পাকিস্তান ভেবেছিল, ঘরের কন্ডিশনে তারা বাংলাদেশকে চাপে রাখতে পারবে। কিন্তু ম্যাচের ভেতরে বাংলাদেশ বারবার ফিরে এসেছিল। বিশেষ করে ২৬ রানে ৬ উইকেট হারানোর পরও লড়াই করে ম্যাচ জেতার উদাহরণ আলাদা করে টানলেন সালমান। তার মতে, সেটিই বাংলাদেশের দক্ষতা ও মানসিক শক্তির প্রমাণ।

সালমানের ভাষায়, ‘আমরা ভেবেছিলাম, ওই কন্ডিশনে আমরা তাদের চেয়ে ভালো করব। কিন্তু তারা খুব ভালো ক্রিকেট খেলেছে। তাদের স্কিল ও সামর্থ্যের প্রমাণ ছিল, তারা এমন কিছু পরিস্থিতি থেকেও ফিরে এসেছে, যেখানে আমরা ম্যাচে এগিয়ে ছিলাম। ২৬ রানে ৬ উইকেট হারানোর পরও তারা লড়াই করে ম্যাচ জিতেছে।’

এই অভিজ্ঞতাই পাকিস্তানকে আরও সতর্ক করছে। সালমান জানালেন, বাংলাদেশকে কোনোভাবেই হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই। তার কথা, ‘আমরা কোনো প্রতিপক্ষকে হালকাভাবে নেব না। প্রতিশোধ শব্দটা খুঁজব না। আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলো প্রক্রিয়া এবং আমরা কীভাবে খেলি।’

পাকিস্তানের সামনে এবার বড় পরীক্ষা শুধু ম্যাচ জেতা নয়, জেতার অবস্থান থেকে ম্যাচ শেষ করা। আগের সিরিজে সেই জায়গাতেই ধাক্কা খেয়েছিল তারা। এবার সালমান চান, দল ভালো অবস্থানে গেলে সেটি আর হাতছাড়া না করুক।

তিনি বলেন, ‘আমাদের ইচ্ছা হলো, যখন আমরা জেতার অবস্থানে যাব, তখন যেন ম্যাচ শেষ করতে পারি এবং ভালো ব্র্যান্ডের ক্রিকেট খেলতে পারি।’

বাংলাদেশের বর্তমান দলকেও শক্তিশালী প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখছেন পাকিস্তান অধিনায়ক। তার চোখে এই দল ব্যাটিং, পেস বোলিং ও স্পিন, তিন বিভাগেই ভারসাম্যপূর্ণ। আগের সিরিজের দলের সঙ্গে বর্তমান দলকে বেশ কাছাকাছিই মনে হচ্ছে তার।

সালমান বলেন, ‘বাংলাদেশ দল এখনো খুব প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ, খুব স্কিলফুল। ব্যাটিং, পেস বোলিং, স্পিন, সব বিভাগেই তারা কভারড।’

পাকিস্তানের ব্যাটিং অর্ডার নিয়েও বেশ আত্মবিশ্বাসী অধিনায়ক। তার মতে, মিডল অর্ডার একটি দলের ইঞ্জিনরুম। সেখানে বাবর, মোহাম্মদ রিজওয়ান, সৌদ শাকিল ও নিজে সালমান আলী আগা, বেশ কিছুদিন ধরে একসঙ্গে খেলছেন। এই স্থিতিই পাকিস্তানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

উর্দুতে দেওয়া উত্তরে সালমান বলেন, ‘মিডল অর্ডার ইঞ্জিনরুম। বাবর, রিজওয়ান, সৌদ শাকিল ও সালমান আলী আগা অনেক দিন ধরে আছে। টপ অর্ডারে বেশির ভাগ পরিবর্তন এসেছে ইনজুরি বা অনুপস্থিতির কারণে।’

ইমাম-উল-হকের ফেরা নিয়েও ইতিবাচক পাকিস্তান অধিনায়ক। তার মতে, গত তিন-চার বছরে ইমামও টেস্ট ইউনিটের নিয়মিত অংশ ছিলেন। অভিজ্ঞতা ও টেস্ট রান নিয়ে তিনি দলে ফিরেছেন, যা পাকিস্তানকে ভালো সুযোগ দিচ্ছে।

সালমান বলেন, ‘ইমামকে যদি গত তিন-চার বছরে দেখেন, প্রায় একই সেটলড টেস্ট ইউনিট খেলছে। তারা বিভিন্ন কন্ডিশনে খেলেছে, নিজেদের সঙ্গে অভিজ্ঞতা ও টেস্ট রান নিয়ে আসে। এটা আমাদের এখানে পারফর্ম করার সেরা সুযোগ দেয়।’

তবে মিরপুরে কাজটা সহজ হবে না, সেটিও জানেন সালমান। বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণ নিয়ে তার মূল্যায়ন বেশ উঁচু। বাঁহাতি পেসার, ডানহাতি পেসার, গতি ও স্কিল, সব মিলিয়ে বাংলাদেশকে ভারসাম্যপূর্ণ আক্রমণ বললেন তিনি।

সালমানের ভাষায়, ‘বাংলাদেশের আক্রমণ খুবই ভারসাম্যপূর্ণ। বাঁহাতি পেসার আছে, ডানহাতি পেসার আছে, গতি আছে, স্কিলও আছে। এটি খুব ভালো আক্রমণ। আমার দেখা সম্ভবত সেরা বাংলাদেশ আক্রমণ।’

প্রিন্ট

আরও সংবাদ