খুলনা | বৃহস্পতিবার | ০৭ মে ২০২৬ | ২৪ বৈশাখ ১৪৩৩

ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদন

যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ২২৮ স্থাপনা ধ্বংস করেছে ইরান

খবর প্রতিবেদন |
০৫:১৩ পি.এম | ০৭ মে ২০২৬

 

ইরানের সঙ্গে ৪০ দিনের সংঘাতে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর ব্যবহৃত ঘাঁটি বা স্থাপনাগুলোর অন্তত ২২৮টি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে বুধবার প্রকাশিত এক বিশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদপত্র ওয়াশিংটন পোস্ট।

মার্কিন সংবাদমাধ্যমটি জানায়, এসব হামলায় লক্ষ্যবস্তু ছিল মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোর বিমান সংরক্ষণ কাঠামো, ব্যারাক, জ্বালানি ডিপো, বিমান, এবং গুরুত্বপূর্ণ রাডার, যোগাযোগ ও বিমান প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কখনো স্বীকার বা এর আগে কোনো প্রতিবেদনে উঠে আসা যে কোনো তথ্যের চেয়ে অনেক বেশি।

কয়েক দিন আগে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন একই ধরনের এক প্রতিবেদনে অঞ্চলের অন্তত ১৬টি মার্কিন ঘাঁটিতে ‘ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির’ কথা জানিয়েছিল।

তবে বর্তমানে ওয়াশিংটন পোস্ট জানাচ্ছে, কর্মকর্তাদের মতে, বিমান হামলার হুমকি মধ্যপ্রাচ্যের কিছু মার্কিন ঘাঁটিকে স্বাভাবিকভাবে সেনা মোতায়েনের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক করে তুলেছে, এবং কমান্ডাররা যুদ্ধ শুরুর সময় থেকেই তাদের বাহিনীর একটি বড় অংশকে ইরানি হামলার আওতার বাইরে সরিয়ে নিয়েছেন।

তবে এক সামরিক মুখপাত্র ওয়াশিংটন পোস্টকে জানান, ঘাঁটিগুলোর ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে বিশেষজ্ঞদের বর্ণনাকে ব্যাপক ধ্বংস বা ব্যর্থতার লক্ষণ হিসেবে ব্যাখ্যা করা উচিত নয়। কারণ, ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ জটিল এবং কিছু ক্ষেত্রে ‘ভুল ধারণা সৃষ্টি করতে পারে’।

ওই মুখপাত্র আরও বলেন, যুদ্ধ শেষ হলে সামরিক কমান্ডাররা ইরানের হামলা সম্পর্কে আরও পূর্ণাঙ্গ চিত্র দিতে পারবেন।

গত সপ্তাহে মার্কিন যুদ্ধমন্ত্রী পিট হেগসেট কংগ্রেসে ঘোষণা দেন যে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের ব্যয় হবে ২৫ বিলিয়ন বা ২৫০০ কোটি ডলার। তবে একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেন, এই যুদ্ধে ব্যবহৃত গোলাবারুদ ও সামরিক সরঞ্জাম পুনরায় সংগ্রহ করতে মাস বা বছর লেগে যেতে পারে।

এদিকে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের কাছে ২০২৭ অর্থবছরের জন্য ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি বাজেট চেয়েছে, যা আগের তুলনায় ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি নির্দেশ করে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে হামলায় চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। আক্রান্ত হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও মার্কিন স্বার্থ সংশ্লিষ্ঠ স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালায় ইরান। ফলে যুদ্ধ পুরো অঞ্চলজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। যুক্তরাষ্ট্রকে চাপে ফেলতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেয় তেহরান। উল্টো ইরানের অর্থনীতিকে ভঙ্গুর করতে দেশটির ‍উপকূলীয় সব বন্দর ও বন্দরে আসা-যাওয়া করা জাহাজের ওপর অবরোধ আরোপ করে ওয়াশিংটন।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ