খুলনা | শুক্রবার | ০৮ মে ২০২৬ | ২৫ বৈশাখ ১৪৩৩

বিপিএলে দুর্নীতিতে অভিযুক্ত পাঁচজনকে নিষিদ্ধ করল বিসিবি

ক্রীড়া প্রতিবেদক |
০৭:২৪ পি.এম | ০৭ মে ২০২৬


জরুরি সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অ্যাডহক কমিটির সভাপতি তামিম ইকবাল জানিয়েছিলেন, শিগগিরই বিপিএলে ফিক্সিংয়ে অভিযুক্ত পাঁচ জনের নাম জানাবে বিসিবি। সংবাদ সম্মেলন শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাঁদের নাম প্রকাশ করল বিসিবি। তাঁদের সাময়িক নিষেধাজ্ঞাও দিয়েছে ক্রিকেট বোর্ড।

বিসিবি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আইসিসির দুর্নীতিবিরোধী ধারা ভাঙার কারণে পাঁচ জনকে অভিযুক্ত করেছে। চট্টগ্রাম রয়্যালসের ম্যানেজার মোহাম্মদ লাবলুর রহমান, নোয়াখালী এক্সপ্রেসের সহ-স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ তাওহিদুল হক তাওহিদ, ঘরোয়া ক্রিকেটার অমিত মজুমদার, টিম ম্যানেজার রেজওয়ান কবির সিদ্দিক এবং ক্রিকেট সংগঠক সামিনুর রহমান—এই পাঁচ জনের বিরুদ্ধে ২০২৬ বিপিএলে দুর্নীতিতে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ইন্টেগ্রিটি ইউনিট (বিসিবিআইইউ) পরিচালিত তদন্তের ভিত্তিতে পাঁচ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছে। তদন্তে ২০২৬ বিপিএল ঘিরে দুর্নীতিমূলক আচরণ, জুয়া কার্যক্রম, দুর্নীতি দমন তদন্তে সহযোগিতা না করা এবং তদন্তে বাধা দেওয়ার বিষয়গুলো উঠে আসে। তদন্তে কথিত জুয়া সংক্রান্ত কার্যক্রম, দুর্নীতিমূলক প্রস্তাব ও নীতিমালার ৪.৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জারি করা ডিমান্ড নোটিশ মানতে ব্যর্থতা, সংশ্লিষ্ট গোপন যোগাযোগ মুছে ফেলা এবং মনোনীত দুর্নীতি দমন কর্মকর্তাকে (ড্যাকো) সহায়তা না করার অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত ছিল।

বিসিবির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) আইসিসি দুর্নীতি বিরোধী কোড বা বিধিমালার (দ্য ‘কোড’) বিভিন্ন ধারা লঙ্ঘনের দায়ে বেশ কয়েকজন খেলোয়াড়, দলের কর্মকর্তা, ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিক এবং অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছে। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ টি-টোয়েন্টি (বিপিএল টি-টোয়েন্টি) এর ১২তম আসরকে কেন্দ্র করে বিসিবি ইনটেগ্রিটি ইউনিটের (বিসিবিআইইউ) তদন্তের প্রেক্ষিতে এই অভিযোগগুলো আনা হয়েছে। তদন্তে দুর্নীতির চেষ্টা, বেটিং বা জুয়ায় সম্পৃক্ততা, তদন্তে সহযোগিতা না করা এবং তদন্ত কাজে বাধা দেওয়ার মতো অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অভিযোগগুলো মূলত জুয়া সংক্রান্ত কার্যক্রম, দুর্নীতির প্রস্তাব দেওয়া, বিধিমালার অনুচ্ছেদ ৪.৩ এর অধীনে জারি করা নোটিশ পালনে ব্যর্থতা, তথ্য আদান-প্রদানের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ গোপন বা মুছে ফেলা এবং নির্ধারিত দুর্নীতি বিরোধী কর্মকর্তার (ড্যাকো) সাথে সহযোগিতা না করার সাথে সম্পর্কিত।

কার বিরুদ্ধে কী অভিযোগ
লাবলুর রহমান (চট্টগ্রাম রয়্যালসের টিম ম্যানেজার):
ধারা ২.৪.৬ – এই ধারা অনুযায়ী সম্ভাব্য দুর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ডের তদন্তে ড্যাকোকে যৌক্তিক কারণ ছাড়া সহযোগিতা করতে ব্যর্থ হওয়া বা অস্বীকৃতি জানানো, যার মধ্যে ৪.৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জারি করা ডিমান্ড নোটিশ মানতে ব্যর্থতার বিষয়ও রয়েছে।
ধারা ২.৪.৭ – সম্ভাব্য দুর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ডের তদন্তে বাধা দেওয়া বা বিলম্ব ঘটানো, যার মধ্যে প্রাসঙ্গিক যোগাযোগ ও তথ্য গোপন, মুছে ফেলা বা ধ্বংস করাও অন্তর্ভুক্ত।

তৌহিদুল হক তৌহিদ (নোয়াখালী এক্সপ্রেসের সহ-স্বত্বাধিকারী)
ধারা ২.৪.৬ – ড্যাকো পরিচালিত তদন্তে সহযোগিতা না করা বা ডিমান্ড নোটিশ মানতে ব্যর্থ হওয়া।
ধারা ২.৪.৭ – তদন্তে বাধা দেওয়া, তথ্য গোপন করা বা তথ্য ধ্বংস করা।

অমিত মজুমদার (ঘরোয়া ক্রিকেটার)
ধারা ২.২.১ – ক্রিকেট ম্যাচের ফলাফল, অগ্রগতি, পরিচালনা বা অন্য কোনো বিষয়ের ওপর বাজি ধরা, গ্রহণ করা বা তাতে অংশ নেওয়া।

রেজওয়ান কবির সিদ্দিকী (টিম ম্যানেজার)
ধারা ২.২.১ – ক্রিকেট ম্যাচ সম্পর্কিত বেটিং কার্যক্রমে অংশ নেওয়া।
অভিযুক্তদের সাময়িক নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। অভিযোগপত্র পাওয়ার পর থেকে ১৪ দিনের মধ্যে তাদের জবাব দিতে হবে। বিসিবি আপাতত এই বিষয়ে আপাতত আর কোনো মন্তব্য করবে না।

উপরোক্ত চার জনের পাশাপাশি বিপিএলের ৯ম, ১০ম এবং ১১তম আসরে দুর্নীতির সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে সামিনুর রহমানের বিরুদ্ধে ‘বিসিবি এক্সক্লুডেড পারসন পলিসি’ (বহিষ্কৃত ব্যক্তি নীতিমালা) এর অধীনে একটি 'এক্সক্লুশন অর্ডার' বা বহিষ্কারাদেশ জারি করেছে বিসিবি। তদন্তে দেখা গেছে, তিনি জুয়া সংক্রান্ত কার্যক্রম, খেলোয়াড় ও এজেন্টদের দুর্নীতির প্রস্তাব দেওয়া এবং দেশি-বিদেশি বেটিং সিন্ডিকেটের সাথে যোগাযোগের মাধ্যমে ম্যাচ সংশ্লিষ্ট দুর্নীতিতে ভূমিকা রেখেছেন। নোটিশ পাওয়ার পর জনাব রহমান তার আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার ত্যাগ করে এই বহিষ্কারাদেশ মেনে নিয়েছেন।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ