খুলনা | শুক্রবার | ০৮ মে ২০২৬ | ২৫ বৈশাখ ১৪৩৩

শাপলা চত্বর ‘হত্যা’: দীপু মনি, বাবু, রূপার ভূমিকা খতিয়ে দেখছে প্রসিকিউশন

খবর প্রতিবেদন |
০২:০২ এ.এম | ০৮ মে ২০২৬


ঢাকার মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে হত্যার মামলায় সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি, সাংবাদিক মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রূপার ভ‚মিকা খতিয়ে দেখার কথা জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলি মোঃ আমিনুল ইসলাম। প্রসিকিউশন এ ঘটনাকে ‘সিস্টেমেটিক ক্রাইম’ (পরিকল্পিত অপরাধ) হিসেবে দেখছে বলেও জানান তিনি।
বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। আমিনুল ইসলাম বলেন, “শাপলা চত্বরের ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে এসব ব্যক্তির সুনির্দিষ্ট ও পরিকল্পিত ভ‚মিকা ছিল বলে মনে করছে প্রসিকিউশন। এই কারণে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ট্রাইব্যুনাল আগামী তারিখে তাদের প্রোডাকশন (আদালতে হাজির করার নির্দেশ) চাইতে পারে এবং প্রয়োজনে এই মামলায় তাদের গ্রেফতার দেখানো হতে পারে।”
প্রসিকিউশন অফিস জানায়, এদিন সকালে হেফাজতে ইসলামের একটি প্রতিনিধি দল ট্রাইব্যুনালে প্রধান কৌঁসুলির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে শাপলা চত্বর মামলার তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেয়। এ সময় প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকেও তাদের কাছে অধিকতর তথ্য ও নিহতদের পরিবারের সন্ধান চাওয়া হয়।
শাপলা চত্বরের ঘটনার পর একাত্তর টেলিভিশনে প্রচারিত ‘সমীকরণ’ শীর্ষক প্রতিবেদনের প্রসঙ্গ টেনে প্রধান কৌঁসুলি বলেন, “সারা দেশব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টিকারী ওই ঘটনাকে ভিন্ন খাতে নিতে সাংবাদিক ফারজানা রূপা কিছু বিতর্কিত মানুষের বক্তব্য নিয়ে একটি রিপোর্ট তৈরি করেন এবং সারা দুনিয়াতে প্রকৃত ঘটনাকে আড়াল করেন।
“এই ক্ষেত্রে একাত্তর টেলিভিশন, মোজাম্মেল বাবু এবং ফারজানা রূপার যে ভ‚মিকা ছিল, আমাদের কাছে মনে হয়েছে-এটিও একটি সিস্টেমেটিক ক্রাইমের মধ্যেই ছিল।”
আমিনুল ইসলাম বলেন, “তারা পূর্বপরিকল্পনা মাফিক কাজটা করেছেন। তাদের এই রিপোর্টের একেবারেই কোনো সত্যতা ছিল না এবং বিশেষ কিছু ব্যক্তিদের তারা সাক্ষাৎকার নিয়েছেন, যারা খুব বিতর্কিত। এই মামলার তদন্তের স্বার্থে তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা খুব প্রয়োজন।”
সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনির ভ‚মিকা প্রসঙ্গে আমিনুল ইসলাম বলেন, “দীপু মনি ইন্টারভিউ দিয়ে শেখ হাসিনার কথারই অবিকল প্রতিধ্বনি করেছেন। তিনিও বলেছিলেন, ‘তারা (হেফাজত কর্মীরা) রং মেখে শুয়ে ছিল, পুলিশ আসতে দেখে দৌড় দিয়েছে’।
“বিদেশি সাংবাদিকদের সঙ্গে এ রকম একটি উদ্ভ‚ট ইন্টারভিউ দিয়ে তিনি ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করেন। এতে মনে হচ্ছে, সরকারের এই পরিকল্পিত কাজের মধ্যে তারও সম্পৃক্ততা ছিল।”
এ তিনজনকেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, “তাদেরকে আগামী তারিখে হয়তো আমরা প্রোডাকশন চাইব এবং এই মামলায় এ্যারেস্ট দেখাব। এরপর সেফ হোমে নিয়ে প্রয়োজনীয় জিজ্ঞাসাবাদ করব। সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাদেরকে এই মামলার আওতায় আনা হবে।”
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধান কৌঁসুলি বলেন, “ঘটনার পরদিনই তারা যে অনুসন্ধানী রিপোর্ট করল, তার মোটিভ কী ছিল? সেখানে তারা বলছে যে, কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
“তারা বেনজীরের (সাবেক আইজিপি) এবং যুবলীগ, ছাত্রলীগের লোকদের দিয়ে বলিয়েছে যে, ওখানে কোনো হতাহত হয়নি। শেখ হাসিনাও পার্লামেন্টে একই কথা বলেন।”
আমিনুল ইসলাম বলেন, “আমাদের মনে হচ্ছে, ঘটনার আগে থেকেই তাদের প্ল্যান ছিল যে, এমন ঘটনা ঘটাবে এবং এমন বিবৃতি দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করবে। এটি একটি জয়েন্ট এন্টারপ্রাইজ (যৌথ অপরাধ)। তারা সকলে সম্মিলিত ভাবেই হেফাজতকে ম্যাসাকার করার জন্য এই কাজ করেছে।”
শাপলা চত্বরে অভিযানের রাতে ইন্টারনেট শাটডাউন এবং বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার বিষয়ে তিনি বলেন, “এসব বিষয় আমরা তদন্তে নিয়ে আসছি। যারা সেদিন ব্ল্যাকআউট ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিল, তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।”
ওই রাতেই দিগন্ত টিভি এবং ইসলামিক টিভি বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনায় তৎকালীন পুলিশ কর্মকর্তা মোল্লা নজরুল ইসলামকে আসামি করা হবে কি না-এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, “যে দুটি টেলিভিশন চ্যানেল লাইভ টেলিকাস্ট করছিল, তাদের বন্ধ করার ঘটনায় কার সম্পৃক্ততা রয়েছে, আমরা সব তদন্ত করে দেখছি। কেউ পার পাবে না।”
হেফাজতের দাবি অনুযায়ী লাশ গুমের বিষয়ে তিনি বলেন, “আমাদের তদন্ত চলছে। আরেকটু সুযোগ দেন, আমরা সব জানাব।”
এ মামলার পরবর্তী দিন ৭ জুন ধার্য রয়েছে বলে জানান প্রধান কৌঁসুলি আমিনুল।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ