খুলনা | শুক্রবার | ০৮ মে ২০২৬ | ২৫ বৈশাখ ১৪৩৩

ভবদহে ১০ লাখ মানুষের সামনে আশার আলো

খবর প্রতিবেদন |
০৪:৫২ পি.এম | ০৮ মে ২০২৬

 

যশোরের ভবদহ অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরেই জলাবদ্ধতার জটিল সমস্যায় ভুগছেন ১০ লাখেরও বেশি মানুষ। কিন্তু অবশেষে তাদের এই দুর্ভোগ লাঘব হতে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ অঞ্চলের ৬টি নদীর পুনঃখনন কাজের ৫৫ শতাংশ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) খুলনা অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী বি এম আব্দুল মোমিন জানান, প্রতিদিন ১০০টিরও বেশি এস্কেভেটর দিয়ে এসব নদীর তলদেশ খনন করা হচ্ছে। গতকাল ৫ মে ১০৯টি এবং ৪ মে ১১২টি এস্কেভেটর দিয়ে এ কাজ পরিচালিত হয়।

প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্বে থাকা আব্দুল মোমিন আরও জানান, আগামী ৩০ জুনের মধ্যে নদীগুলোর প্রায় ৮০ শতাংশ খনন কাজ শেষ হবে। বাকি কাজ শেষ করতে আগামী বছর জুন পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে। এ জন্য প্রকল্পের মেয়াদ এক বছর বাড়ানোর প্রস্তাব ইতোমধ্যে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে।

তবে এ বছরের ভারী বৃষ্টিপাত ও সাম্প্রতিক ডিজেল সংকটের কারণে খনন কাজ কিছুটা বিলম্বিত হয়েছে বলেও জানান এই কর্মকর্তা। গত বছরের শেষ দিকে যশোর সেনানিবাসের বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের তত্ত্বাবধানে প্রকল্পটির কাজ শুরু হয়।

উল্লেখ্য, ভবদহ অঞ্চলের দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা নিরসনে সরকার সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে ১৪০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছে। এর আওতায় ওই অঞ্চলের ৬টি নদীর ৮১ দশমিক ৫ কিলোমিটার অংশ পুনঃখনন করা হচ্ছে।

যশোর পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ব্যানার্জী বলেন, ‘জলাবদ্ধতা নিরসনে সরকার ব্যাপক কর্মসূচি হাতে নেওয়ায় আসন্ন বর্ষা মৌসুমে ভবদহ এলাকায় নতুন করে পানি জমার আশঙ্কা খুবই কম।’

তিনি আরও বলেন, ‘এ বছরের ৩০ জুনের মধ্যে ৬টি নদীর পুনঃখনন প্রকল্পের ৮০ শতাংশের বেশি কাজ শেষ হবে। এ ছাড়া বর্ষা শুরুর আগেই ভবদহ এলাকার ৩৩টি স্লুইস গেটের মধ্যে ২৯টি পুরোপুরি সচল ও পরিষ্কারের কাজ চলছে।’

পলাশ কুমার জানান, জমে থাকা পানি নিষ্কাশনের জন্য কয়েক বছর আগে ভবদহের ২১ কপাটবিশিষ্ট স্লুইস গেটে ৩৫ কিউসেক ক্ষমতাসম্পন্ন ৪টি সেচ পাম্প বসানো হয়েছিল। কিন্তু পানি নিষ্কাশনের জন্য তা যথেষ্ট ছিল না। এবার সেখানে আরও ৫টি এবং বিল খুকশিয়ার ৩ কপাটবিশিষ্ট স্লুইস গেটে আরও ৩টি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন পাম্প বসানো হবে।

পাশাপাশি উজান থেকে ভাটিতে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ রাখতে এলাকার সব সংযোগ খাল পরিষ্কার করা হবে এবং পাম্প সচল রাখতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে একটি বৈদ্যুতিক সাব-স্টেশন স্থাপন করা হবে বলে জানান এই কর্মকর্তা।

প্রসঙ্গত, যশোরের মনিরামপুর, কেশবপুর, অভয়নগর ও সদর উপজেলার একাংশের প্রায় ১০ লাখ মানুষ গত কয়েক দশক ধরে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার শিকার হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
সূত্র: বাসস

প্রিন্ট

আরও সংবাদ