খুলনা | শনিবার | ০৯ মে ২০২৬ | ২৬ বৈশাখ ১৪৩৩

অবশেষে ধরা খেলো পাইকগাছার ধূর্ত গৌতম

প্রতারণার ফাঁদে পৃথক দুই পরিবারের দ্বন্দ্ব চরমে, হয়রানী মামলায় নিরীহ বিধান বৈরাগী কারাগারে

বিশেষ প্রতিনিধি |
০২:০৭ এ.এম | ০৯ মে ২০২৬


দেখতে ভোলাভালা। যেন ভাঁজা  মাছ  উল্টে খেতে জানে না। নিজের প্রয়োজনে জমি বিক্রির নামে   গৌতমের ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে একই গ্রামের পৃথক দুই পরিবার প্রকাশ্যে দ্বন্দ্বে লিপ্ত হয়েছে। হামলা এবং মামলার ঘটনায় অসহায় এই পরিবার দু’টি নিঃস্ব হওয়ার পথে৷ ঘটনার নায়ক গৌতম সরদার খুলনা জেলার পাইকগাছা উপজেলার  নাবা গ্রামের গোপাল সরদারের ছেলে। পেশায় পাইপ মিস্ত্রি। এলাকাবাসী জানান,  যৌবনের শুরুতে বিয়ে করলেও  ধূর্ত গৌতমের অত্যাচারে কয়েক দিনের মধ্যেই ভেঙে যায় সংসার। 
দ্বিতীয় বিয়ে করে পূর্ব প্রেমিকা একই গ্রামের দেবযানিকে৷ স্থানীয় আনন্দ মন্ডল জানান, পরিবারে অর্থের টান পড়ায় জমি বিক্রির কথা বলে একই গ্রামের বিধান বৈরাগীর নিকট থেকে দুই একর জমির বায়নাবাবদ নগদ অর্থ নেওয়া শুরু করে স্টাম্পে চুক্তির মাধ্যমে৷ তিন দফায় সাড়ে দশ লাখ টাকা গ্রাম্য সাক্ষিদের উপস্থিতি নিলেও নির্ধারিত সময়ে জমি রেজিস্ট্রিতে তালবাহানা করতে থাকে৷ স্টাম্পে চুক্তিনামা থাকা সত্তে¡ও জমি রেজিস্ট্রি না পেয়ে স্থানীয় বিভিন্ন গণ্যমান্য ব্যক্তিদের শরণাপন্ন হলেও তার বোধোদয় হয়নি৷ গৌতম  দিনের পর দিন ঘোরাতে থাকে বিধান বৈরাগীকে৷ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিসহ জনপ্রতিনিধিরা শত চেষ্টা করেও বিষয়টি মীমাংসা করতে ব্যর্থ হয়৷ নিরুপায় হয়ে বিধান দ্বারস্থ হয় আদালতের৷ আদালত মামলাটি গ্রহণ করে (নং ৬৮০/২৫) তাকে আপোষ মীমাংসার মাধ্যমে বিষয়টা সুরাহা করার জন্য নির্দেশ দিলেও গৌতম অবজ্ঞা করে তার হটকারী কার্যক্রম চালাতে থাকে৷ একসময় স্থানীয় লোকজনের চাপে ও আদালতের সমন জারি হওয়ায় এলাকা ত্যাগ করে সে যশোরে বসবাস করা শুরু করে৷ তার ধারণা ছিল অন্য থানা কিংবা জেলায় গেলে তাকে আর পুলিশ খুঁজে পাবে না৷ ইতোমধ্যে সে আরেকটি ভয়ানক খেলা খেলে যার খেসারত দিতে হয় বিপদের দিনে সাহায্যকারি বিধান বৈরাগীকে৷ গৌতম যে জমি বাবদ বায়নাসূত্রে টাকা গ্রহণ করে সে জমি তার মা ও ভাই মারফত বিধানকে চাষের জন্য দেয়। অন্যদিকে প্রতারক গৌতম তৃতীয় ব্যক্তি একই গ্রামের দুলাল সরদারকে লীজ দেয় ৷ 
এদিকে গৌতম সরদারের ভাই দিপক ও তার মায়ের কাছ থেকে জমি দখলে নিয়ে মাছ চাষ শুরু করে বিধান বৈরাগী।  একদিন হঠাৎ  সেখানে এসে হাজির হয় লীজ গ্রহণকারী দুলাল সরদার৷ বিধান বৈরাগীর ছাড়া মাছ দুলাল সরদার ধরতে আসলে বাধে বিপত্তি, দু’জনের ধাক্কাধাক্কি গড়াই মামলা পর্যন্ত (নং-০৯, তাং- ১৪/৪/২৬)৷ বিধানকে মারধরের মামলায় যেতে হয় জেলে৷ জমি ক্রয় করতে এসে জেল খাটার ঘটনা হতবাক এলাকাবাসী। এলাকাবাসীর প্রশ্ন ঘটনার অন্তরালের মেঘদুত কি মেঘের আড়ালেই থেকে যাবে? এরই মধ্যে এ যেন, ধর্মের কল বাতাসে নড়ে।  
অবশেষে পুলিশ ঘটনার অন্তরালের অনুঘটক গৌতমকে আটক করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করেছেন৷ এবার কি ধূর্ত গৌতমের প্রতারণার ফাঁদ থেকে থেকে রক্ষা পাবে অসহায় দু’টি পরিবার? নিরীহ বিধান কি ফিরে পাবে জমি? 
এ ঘটনায় এলাকাবাসী প্রকৃত সত্য ঘটনা করে, হয়রানি মূলক মামলা হতে সহজ সরল বিধানের  মুক্তি  এবং  প্রতারণ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।  

প্রিন্ট

আরও সংবাদ