খুলনা | রবিবার | ১০ মে ২০২৬ | ২৭ বৈশাখ ১৪৩৩

ধর্ষণ, যৌন হেনস্তা বাড়ছেই আইনের শাসন নিশ্চিত করুন

|
১২:৩৭ এ.এম | ১০ মে ২০২৬


আমাদের নারীরা ঘরে-বাইরে কোথাও নিরাপদ নন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে চাকরিক্ষেত্র পদে পদে নারীরা যৌন হেনস্তার শিকার হচ্ছেন। সবচেয়ে বেশি ধর্ষণের শিকার হচ্ছে সাত থেকে ১২ বছরের শিশুরা। ভাবা যায়! পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে।
মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্যের বরাতে জানা গেছে, গত তিন মাসে দেশে ১২৮ জন নারী ও শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে সাত থেকে ১২ বছরের ১৪ জন শিশু নির্মমতার শিকার হয়েছে। সবচেয়ে উদ্বেগের কথা হলো, বিগত পাঁচ বছরে দেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা হ্রাসের কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি। ২০২০ সালে ২২ হাজার ৫১৭টি নারী নির্যাতনের মামলা হয়। ২০২৩-২৪ সালে এই সংখ্যা কিছুটা কমলেও ২০২৫ সালে পুনরায় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১ হাজার ৯৮৮-তে। ধারণা করা যায়, বাস্তবে এই সংখ্যা আরো বেশি। কেননা ধর্ষণ ও হেনস্তার অনেক ঘটনা অগোচরেই থেকে যায়।
স¤প্রতি মাদ্রাসা পড়–য়া ১১ বছরের এক শিশুশিক্ষার্থী অন্তঃসত্ত¡া হওয়ার খবর দেশব্যাপী আলোচিত হয়। এই পৈশাচিকতার সঙ্গে জড়িত মাদ্রাসা শিক্ষককে এরই মধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে। আরেক নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় প্রধান আসামি কাজলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। স¤প্রতি মানিকগঞ্জে সাত বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় এসেছে কিশোর অপরাধী নাঈমের নাম। এর পরই স্থানীয় লোকজন উত্তেজিত হয়ে নাঈমের বাবা ও চাচাকে পিটিয়ে হত্যা করে। মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, এই পরিস্থিতি রাষ্ট্রের জন্য গভীর সংকটের ইঙ্গিত।
একটি দেশে আইনের শাসনের সঙ্গে অপরাধ বৃদ্ধির সম্পর্ক সরাসরি। স¤প্রতি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট ও ব্র্যাকের যৌথ গবেষণায় দেখা গেছে, নারী ও শিশু নির্যাতন মামলায় সাজার হার মাত্র ৩ শতাংশ। বাকি প্রায় ৭০ শতাংশ মামলায় আসামিরা খালাস পায়। এই বিচারহীনতা একদিকে অপরাধীদের আশকারা দেয়, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিচারব্যবস্থা নিয়ে অনাস্থা তৈরি করে।
সাবেক আইজিপি নূর মোহাম্মদ অনেক ধর্ষণের ঘটনায় মামলা না হওয়া এবং মামলা হলেও বিচার না পাওয়ার জন্য আইনি জটিলতা ও তদন্তের সীমাবদ্ধতাকে দায়ী করেছেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো, তাহলে কি নারী ও শিশু নির্যাতনের কোনো প্রতিকার নেই? এটি কি বছরের পর বছর চলতে থাকবে?
আমরা মনে করি, আইনের যথাযথ প্রয়োগ হলে ধর্ষণ ও শিশু নিপীড়নের ঘটনা অবশ্যই কমে আসবে। বিচারব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষ যেন আস্থা পায়, সরকারকে সেই ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে সমাজে সুস্থ সংস্কৃতির বিকাশ অত্যন্ত জরুরি।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ