খুলনা | রবিবার | ১০ মে ২০২৬ | ২৭ বৈশাখ ১৪৩৩

পরকীয়ার জেরে যুবক হত্যা

শার্শায় নিখোঁজের এক মাস পর গোয়ালের মাটি খুঁড়ে মরদেহ উদ্ধার

শার্শা (যশোর) প্রতিনিধি |
০২:০৪ এ.এম | ১০ মে ২০২৬


যশোরের শার্শায় পরকীয়া সম্পর্ক ও আর্থিক বিরোধকে কেন্দ্র করে ইকরামুল কবির (২৫) নামে এক যুবককে হত্যার পর মরদেহ গোপনে মাটিচাপা দেওয়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনা উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। নিখোঁজের এক মাস পাঁচদিন পর শনিবার সন্ধায় অভিযুক্তদের বাড়ির গোয়ালঘরের মাটি খুঁড়ে তার অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এক দম্পতিকে আটক করেছে পুলিশ।নিহত ইকরামুল কবির পুটখালী ইউনিয়নের দক্ষিণ বারোপোতা গ্রামের আব্দুল রশিদের ছেলে।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে বসুপুর পূর্বপাড়া এলাকার আল ফুরাদের স্ত্রী মুন্নী বেগমের (২২) সঙ্গে ইকরামুল দীর্ঘদিনের পরকীয়া সম্পর্ক ছিল বলে এলাকায় আলোচনা চলছিল। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মুন্নী ও তার স্বামীর মধ্যে প্রায়ই দাম্পত্য কলহ লেগে থাকত। প্রায় এক মাস আগে ইকরামুল তার প্রেমিকা মুন্নীর কাছে পাওনা টাকা আনতে গিয়ে নিখোঁজ হন। এরপর পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি।
দীর্ঘদিন নিখোঁজ থাকার ঘটনায় সন্দেহ সৃষ্টি হলে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। তদন্তের এক পর্যায়ে অভিযুক্ত স্বামী আলফুরাদকে আটক করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার বিকেলে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বসুপুর গ্রামে অভিযান চালায়। এ সময় তাদের বাড়ির গোয়ালঘরের মেঝে খনন করে মাটিচাপা অবস্থায় ইকরামুলের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
লাশ উদ্ধারের খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে শত শত উৎসুক জনতা ঘটনাস্থলে ভিড় জমায়। দীর্ঘ এক মাস পর মাটি খুঁড়ে মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় পুরো এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়রা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
শার্শা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মারুফ হোসেন জানান, হত্যাকান্ডের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত আছে কিনা তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। আটক দুইজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ