খুলনা | রবিবার | ১০ মে ২০২৬ | ২৭ বৈশাখ ১৪৩৩

চিতলমারীর ইউএনও ও শিক্ষা কর্মকর্তাসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা

বাগেরহাট ও চিতলমারী প্রতিনিধি |
০২:০৫ এ.এম | ১০ মে ২০২৬


বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এবং ভারপ্রাপ্ত মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আল মুরাদসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে। চর কচুড়িয়া দাখিল মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচনী তফশীল স্থগিত করায় তিনজন অভিভাবক বাদী হয়ে সিভিল জজ আদালতে এ মামলা করেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী বলাই চাঁদ বিশ্বাস এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মামলার বিবরণে জানা গেছে, চর কচুড়িয়া দাখিল মাদ্রাসার এডহক কমিটির মেয়াদ আগামী ৮ জুন শেষ হবে। সে কারণে নিয়মিু কমিটি গঠনের জন্য উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা প্রিজাইডিং কর্মকর্তা মনোনীত হন। কিন্তু তার বদলীর কারণে ওই অফিসের সহকারি আল মুরাদ ভারপ্রাপ্ত মাধ্যমিক কর্মকর্তার দায়িত্ব পান। দায়িত্ব পেয়ে তিনি ৯ এপ্রিল চর কচুড়িয়া দাখিল মাদ্রাসার জারীকৃত নির্বাচনী তফশীল স্থগিণ ঘোষণা করেন। ওই স্থগিণ আদেশ অন্যায়, বেআইনী, ন্যায়-নীতি পরিপন্থি ও অবৈধ ঘোষণার দাবিতে বাদীপক্ষ এই মামলা দায়ের করেন।
মামলায় অন্যান্য বিবাদীরা হলেন, চর কচুড়িয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার শেখ মোঃ বাকী বিল্লাহ, র্বুমান এডহক কমিটির সভাপতি মুহাম্মদ মনিরুজ্জামান, শিক্ষক প্রতিনিধি সদস্য মুহাম্মদ লিয়াকত আলী, অভিভাবক সদস্য মোঃ কামরুল হাসান ও বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের রেজিস্ট্রার।
মামলার বাদী আজীজ গাজী, আবু বক্কর গাজী ও হাফিজুল ইসলাম বলেন, ‘চর কচুড়িয়া দাখিল মাদ্রাসার ভোটার তালিকার চূড়ান্ত অনুমোদনের পর নির্বাচনের জন্য প্রিজাইডিং অফিসার নিয়োগের ব্যাপারে আমরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে আবেদন করি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে প্রিজাইডিং অফিসার নিয়োগ করেন। তফশীল অনুযায়ী সব প্রক্রিয়া শেষ হলেও নির্বাচনের আগে ভারপ্রাপ্ত মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আল মুরাদ নির্বাচনী তফশীল স্থগিত করেন। এই স্থগিতাদেশ সম্পূর্ণ অন্যায়। ওই স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের দাবি করেছি আদালতে। আশাকরি আমরা ন্যায় বিচার পাব।
চর কচুড়িয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার শেখ মোঃ বাকী বিল¬াহ জানান, ভারপ্রাপ্ত মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আল মুরাদ অত্র উপজেলার সহকারি মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা। সে অফিস সহকারি থেকে কর্মকর্তা হয়েছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে আবেদন করলে প্রথম শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তাকে প্রিজাইডিং অফিসার করার কথা। কিন্তু আল মুরাদ ১০ গ্রেডে চাকরি করেন। তাই তিনি সম্পূর্ণ অন্যায় ও অবৈধ ভাবে নির্বাচনী তফশীল স্থগিত করেছেন। 
চিতলমারী উপজেলা ভারপ্রাপ্ত মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আল মুরাদ জানান, তিনি আদালত থেকে মামলার নোটিশ পেয়েছেন। বৈধ ভাবেই নির্বাচনী তফশীল স্থগিত করা হয়েছে। বাদীপক্ষ ক্ষিপ্ত হয়ে এ মামলা করেছেন।তবে চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাদিজা আক্তার বলেন, ‘মামলার ব্যাপারে আমার কিছু জানা নেই। আমি এখনও আদালত থেকে কোন নোটিশ পাইনি।’

প্রিন্ট

আরও সংবাদ