খুলনা | রবিবার | ১০ মে ২০২৬ | ২৭ বৈশাখ ১৪৩৩

রূপসায় সংসদ সদস্য হেলাল

পিঠাভোগকে রবী ঠাকুরের জীবনী চর্চার গবেষণাগার হিসেবে গড়ে তোলা হবে

রূপসা প্রতিনিধি |
০২:০৬ এ.এম | ১০ মে ২০২৬


খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য, বিএনপি’র তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল বলেছেন রূপসার পিঠাভোগকে রবী ঠাকুরের জীবনীচর্চার গবেষণাগার হিসাবে গড়ে তোলা হবে। গবেষণাগার তৈরি করতে যে সকল সরকারি সহযোগিণা ও পরিকল্পনা প্রয়োজন তা অতিসত্তর বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি বলেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর সাহিত্য কেবল বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির অলংকার নয়, বরং মানবুা, অসা¤প্রদায়িকতা, শান্তি ও সৌন্দর্যের এক চিরন্তন দিকনির্দেশনা। তাঁর সৃষ্টিকর্ম যুগে যুগে বাঙালির মনন, চিন্তা ও চেতনার গভীরে আলো জ্বালিয়ে এসেছে। কবিগুরু তাঁর কবিতা, গান, গল্প, উপন্যাস ও প্রবন্ধের মাধ্যমে এমন এক মানবিক সমাজের স্বপ্ন দেখিয়েছেন, যেখানে মানুষে মানুষে কোনো বিভেদ থাকবে না, ধর্ম, বর্ণ, জাতি কিংবা মতের ভিন্নতা মানুষকে আলাদা করতে পারবে না।
তিনি গতকাল শনিবার রূপসা উপজেলার পিঠাভোগ রবীন্দ্র স্মৃতি সংগ্রহশালায় বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় একথা বলেন। অনুষ্ঠানে আলোচ্য বিষয় ছিলো রবীন্দ্রনাথ ও অসা¤প্রদায়িকতা। এমপি বলেন, রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য আমাদের শিখিয়েছে কিভাবে মানবিক মূল্যবোধকে ধারণ করতে হয়, কিভাবে অন্যের প্রতি সহমর্মিতা ও শ্রদ্ধাবোধ বজায় রাখতে হয়। তাঁর লেখনীতে যেমন দেশপ্রেমের গভীর আহŸান রয়েছে, তেমনি রয়েছে বিশ্বমানবতার এক অসাধারণ বাণী। বাংলা সাহিত্যকে তিনি যে উচ্চতায় নিয়ে গেছেন, তা শুধু বাঙালি জাতির জন্য নয়, সমগ্র বিশ্বের জন্য গৌরবের বিষয়।
তিনি আরও বলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন অসা¤প্রদায়িক চেতনার এক উজ্জ্বল প্রতীক। তাঁর প্রতিটি সৃষ্টি আজও আমাদের সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে আছে। নতুন প্রজন্মকে রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য ও দর্শনের সঙ্গে আরও গভীর ভাবে পরিচিত করতে হবে। কারণ, রবীন্দ্রচর্চার মধ্য দিয়েই একটি মানবিক, উদার ও সংস্কৃতিমনা সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব। তাঁর সাহিত্য আমাদের কেবল আনন্দ দেয় না, বরং জীবনের গভীর দর্শন ও মানবতার প্রকৃত শিক্ষা প্রদান করে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন খুলনা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোঃ তরিকুল ইসলাম। স্মারক বক্তা ছিলেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ট্রেজারার, শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মোহাম্মদ মাজহারুল হান্নান। রূপসা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সানজিদা রিকতার সভাপতিত্বে আমন্ত্রিত অতিথি ছিলেন খুলনা সদর সহকারী কমিশনার (ভূমি) অপ্রতীম কুমার চক্রবর্তী, সহকারী কমিশনার মোঃ জাকারিয়া , জেলা বিএনপি’র যুগ্ম-আহবায়ক খান জুলফিকার আলী জুলু, মোল্লা খায়রুল ইসলাম, জিএম কামরুজ্জামান টুকু, জেলা বিএনপি’র সদস্য শেখ আব্দুর রশিদ, উপজেলা আহবায়ক মোল্লা সাইফুর রহমান, সদস্য সচিব জাবেদ হোসেন মল্লিক, উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি মোঃ ইফতেখারুল ইসলাম শামীম, থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ আব্দুর রাজ্জাক মীর, কৃষি কর্মকর্তা তরুন কুমার বালা, মৎস্য কর্মকর্তা জ্যোতি কনা দাস, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এস এ আনোয়ারুল কুদ্দুস, শিক্ষা কর্মকর্তা মুহাঃ আবুল কাশেম, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা শেখ বজলুর রহমান। সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন মাধ্যমিক শিক্ষা দপ্তরের একাডেমিক সুপার ভাইজার নিত্যানন্দ মন্ডল, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ফারহানা ইয়াসমিন এবং রূপসা প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি সাংবাদিক কৃষ্ণ গোপাল সেন। 
এ সময় উপস্থিত ছিলেন খুলনা জেলা মহিলাদলের সভাপতি এড. তসলিমা খাতুন ছন্দা, জেলা কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শেখ মোঃ আবু সাঈদ, জেলা মহিলাদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি শাহানাজ ইসলাম, জেলা বিএনপি’র সদস্য আরিফুর রহমান আরিফ, আনিসুর রহমান বিশ্বাস, মোল্যা রিয়াজুল ইসলাম, প্রকৌশলী সুখেন রায়, বিএনপি নেতা হুমায়ূন কবীর, এস এম আঃ মালেক, মিকাইল বিশ্বাস প্রমুখ।
এর পূর্বে এমপি রূপসায় হীড বাংলাদেশ খুলনা অঞ্চল আয়োজিত মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা বৃত্তি প্রদান ও মাদক সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্য কাজদিয়া সরকারি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কলেজ ভবনে  পটগান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাখেন। অনুষ্ঠানে মান্যবর অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হীড বাংলাদেশের নির্বাহী সদস্য রোজলীন অর্পিতা সরদার। সভাপতিত্ব করেন  হীড বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক আনোয়ার হোসেন এবং মাইক্রো ফাইন্যান্স উপ-পরিচালক আদিত্য কুমার বিশ্বাস। অনুষ্ঠানে মোট ৭১ জন মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে ৩ লাখ ৩৫ হাজার ৫শ’ টাকার শিক্ষা বৃত্তি প্রদান করা হয়। 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ