খুলনা | রবিবার | ১০ মে ২০২৬ | ২৭ বৈশাখ ১৪৩৩

যোগ্য মুআল্লিম তৈরীর লক্ষ্যে খুলনায় দিনব্যাপী ট্রেনিং সম্পন্ন

খবর বিজ্ঞপ্তি |
০৫:৫৪ পি.এম | ১০ মে ২০২৬

 

দ্বীনি শিক্ষার সঠিক বিকাশ, যুগোপযোগী শিক্ষাদান পদ্ধতির প্রসার এবং আদর্শবান, দক্ষ ও দায়িত্বশীল মুআল্লিম তৈরীর উদ্দেশ্যে রাবেতাতুল মাদারিসিদ দ্বীনিয়্যাহ আল-মারকাযিয়্যাহ বাংলাদেশ-এর উদ্যোগে আয়োজিত দিনব্যাপী “মুআল্লিম ট্রেনিং” অত্যন্ত সুশৃঙ্খল, প্রাণবন্ত ও ভাবগম্ভীর পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে।

আজ রোববার (১০ মে) দক্ষিণ বঙ্গের ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি শিক্ষাকেন্দ্র, শাইখুল হাদিস আল্লামা মুফতি জিহাদুল ইসলাম প্রতিষ্ঠিত বয়রার রায়ের মহল জামিআ ইসলামিয়া উসওয়ে হাসানা খুলনায় এ ইলমী ও প্রশিক্ষণমূলক মহাসম্মেলনের আয়োজন করা হয়। দিনব্যাপী এ আয়োজনকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে আলেম-উলামা, শিক্ষক, ছাত্র ও দ্বীনপ্রেমী মানুষের উপস্থিতিতে এক মনোমুগ্ধকর ইলমী পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

খুলনা, যশোর, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, গোপালগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত তিন শতাধিক উলামায়ে কেরাম, মাদ্রাসা শিক্ষক ও তালিবুল ইলম এ ট্রেনিংয়ে অংশগ্রহণ করেন। পাশাপাশি স্থানীয় দ্বীনপ্রেমী সাধারণ মানুষের উপস্থিতিও ছিল অত্যন্ত লক্ষণীয়। পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে অংশগ্রহণকারীদের মাঝে ছিল ইলমের প্রতি গভীর আগ্রহ, শিক্ষার মানোন্নয়নের প্রত্যয় এবং উম্মাহর ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুশিক্ষিত করে গড়ে তোলার দৃঢ় অঙ্গীকার।

দিনব্যাপী এ ট্রেনিংয়ে বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষ দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দারুল উলূম হাটহাজারী মাদ্রাসার সম্মানিত শিক্ষকবৃন্দ ছাড়াও খুলনা, বাগেরহাট ও গোপালগঞ্জের বিভিন্ন মাদ্রাসার অভিজ্ঞ আলেম ও শিক্ষাবিদগণ গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী আলোচনা পেশ করেন। আলোচনায় বিশেষভাবে গুরুত্ব পায় একজন মুআল্লিমের চরিত্রগঠন, পাঠদানের কৌশল, ছাত্রদের মানসিক বিকাশ, আদব-আখলাক শিক্ষা, শিক্ষার প্রতি আন্তরিকতা এবং দ্বীনি খেদমতের আমানতদারী।

ট্রেনিংয়ের প্রধান অতিথি ছিলেন দারুল উলূম হাটহাজারী মাদ্রাসার সম্মানিত প্রধান মুফতি আল্লামা মুফতি জসীম উদ্দিন। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, “একজন মুআল্লিম কেবল পাঠদানকারী নন; বরং তিনি একটি জাতির ভবিষ্যৎ নির্মাতা। একজন আদর্শ শিক্ষক তাঁর ইলম, আমল, আখলাক ও প্রজ্ঞার মাধ্যমে ছাত্রদের হৃদয়ে দ্বীনের ভালোবাসা সৃষ্টি করেন।” তিনি আরো বলেন, বর্তমান যুগে দ্বীনি শিক্ষাকে কার্যকর ও ফলপ্রসূ করতে হলে শিক্ষকদেরকে যুগের চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে সচেতন হতে হবে এবং ছাত্রদের আত্মিক ও নৈতিক উন্নয়নের দিকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।

এছাড়াও প্রাঞ্জল ও জ্ঞানগর্ভ আলোচনা পেশ করেন বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন আল্লামা ওসমান ফয়জী। তিনি দ্বীনি শিক্ষকদের মাঝে ইখলাস, আত্মশুদ্ধি ও দায়িত্ববোধ সৃষ্টির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। মুফতি মাহমুদুল হাসান তাঁর বক্তব্যে ছাত্রদের সাথে সুন্দর আচরণ, পাঠদানের মনস্তাত্ত্বিক পদ্ধতি এবং শিক্ষকের ধৈর্য ও আন্তরিকতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

মুফতি ফুরকান আহমাদ শিক্ষকদের মাঝে পারস্পরিক সুসম্পর্ক, মাদ্রাসার পরিবেশ রক্ষা এবং শিক্ষাব্যবস্থার আধুনিকায়নের বিষয়ে আলোচনা করেন। ডক্টর নুরুল আবসার বর্তমান সময়ের শিক্ষাব্যবস্থায় দ্বীনি ও নৈতিক শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “শিক্ষক যদি আদর্শবান হন, তাহলে ছাত্ররাও আদর্শবান হবে; আর শিক্ষক যদি অবহেলাকারী হন, তাহলে সমাজের ভবিষ্যৎও দুর্বল হয়ে পড়বে।”

মাওলানা আনোয়ার শাহ আজহারী তাঁর বক্তব্যে মুআল্লিমদেরকে নববী আদর্শ অনুসরণের আহ্বান জানান। এছাড়াও মুফতি রাশেদুল ইসলাম, মুফতি আব্দুল হামিদ, হাফেজ মোহাম্মদ মোস্তফা, হাফেজ ক্বারী রেজওয়ান আহমেদ এবং মাওলানা নিজাম সাঈদ প্রমুখ আলেমে দ্বীন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও শিক্ষণীয় আলোচনা করেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ মেহমান ছিলেন খুলনা দারুল উলূম মাদ্রাসার মুহতামিম মোশতাক আহমেদ। বিশেষ মেহমান ছিলেন জামিআ ইসলামিয়া উসওয়ায়ে হাসানা (মাদ্রাসা) র-সম্মানিত সভাপতি ও বিশিষ্ট সমাজ সেবক মোঃ খান সাইফুল ইসলাম। সভায় আরো গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেন শাইখুল হাদিস মুফতি জিহাদুল ইসলাম।

দিনব্যাপী ইলমী আলোচনা, পরামর্শ, নসীহত ও প্রশিক্ষণ শেষে দেশ, জাতি, উম্মাহ ও দ্বীনি শিক্ষার উন্নতি কামনা করে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া পরিচালনা করেন দেশের বরেণ্য আলেমগণ। দোয়ার মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহর শান্তি, মাদ্রাসা শিক্ষার উন্নয়ন এবং যোগ্য আলেম ও মুআল্লিম তৈরীর জন্য আল্লাহ তাআলার নিকট বিশেষ প্রার্থনা করা হয়।

সবশেষে অংশগ্রহণকারী উলামায়ে কেরাম ও অতিথিবৃন্দ আয়োজক কর্তৃপক্ষের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের বৃহৎ পরিসরের মুআল্লিম ট্রেনিং ও ইলমী সম্মেলনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার আহ্বান জানান।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ