খুলনা | সোমবার | ১১ মে ২০২৬ | ২৮ বৈশাখ ১৪৩৩

উদ্ধার হয়নি লুটের মালামাল : নগরীতে ট্রিপল মার্ডার মামলায় গ্রেফতার ৬

নিজস্ব প্রতিবেদক |
০২:১১ এ.এম | ১১ মে ২০২৬


নগরীর লবণচরা থানা এলাকায় একই পরিবারের তিনজনকে হত্যার ঘটনায় সাতজন আসামির মধ্যে ছয়জন গ্রেফতার হয়েছে। তবে পাঁচ মাসের অধিক সময় অতিবাহিত হলেও এখনো লুটের মালামাল এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, এনআইডি কার্ড, জমির দলিলসহ  স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ টাকা উদ্ধার হয়নি। এদিকে লুটের মালামাল উদ্ধার এবং সাত আসামির মধ্যে অন্য একজন আসামি ধরা পড়লে মামলার চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল হবে বলে পুলিশের একটি সূত্রটি জানিয়েছে। 
তথ্যমতে, ২০২৫ সালের ১৬ নভেম্বর মহানগরীর লবণচরা এলাকায় নিজ বাড়িতে খুন হন একই পরিবারের তিনজন। নানী মহিতুন্নেছা (৫৩) এবং নাতি মুস্তাকিম (৮) ও নাতনি ফাতিহা (৬)। ঘটনার দিন বাড়ির মুরগির খামার থেকে নিহতদের ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহত দুই শিশুর বাবা খুলনা চেম্বার অব কমার্স ইন্ড্রাস্টিজ এর কর্মরত সেফার আহমেদ মুন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশ হত্যাকান্ডের মূল পরিকল্পনাকারী শামীম শেখকে গ্রেফতার করে। পরে হত্যার দায় স্বীকার করে শামীম আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। শামীম শেখ সম্পর্কে সেফার আহমেদের মামাতো ভাই।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সেফার আহম্মেদের ভাইয়ের সাথে দীর্ঘদিন ধরে জমি-জমা নিয়ে শামীম শেখের বিরোধ ছিল। তার সূত্র ধরে শেফার আহমেদের শাশুড়ি ও দুই সন্তানকে শামীম শেখ হত্যা করে। শামীম চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও অস্ত্র ব্যবসায়ী। সে বিদেশে পালিয়ে ছিল। দেশে এসে হত্যাকান্ডের পর শামীম ফের বিদেশে পাড়ি জমানোর চেষ্টা করে। কিন্তু চৌকস পুলিশের দল তাকে ধরে ফেলে। এর আগেও শামীম র‌্যাবের হাতে অস্ত্রসহ গ্রেফতার হয়।
মামলার বাদী সেফার আহম্মেদ বলেন, ২০২৩ সালে শামীম তার ভাইয়ের জমির অংশের জাল দলিল করে হস্তান্তর করে নিয়ে নেয়। বিষয়টি তারা জানতে পেরে মামলা করেন। শামীম জমির দলিল ডাকাতি করতে তার বাসায় সন্ত্রাসী নিয়ে আসে। এ সময় আমার শাশুড়ি ও সন্তানদের হত্যা করে। জমির দলিলসহ কাগজপত্র, ১৩ ভরি স্বর্ণালঙ্কার টাকা, ২ লক্ষ ৪০ হাজার নগদ অর্থ, চেক বই, পেনশন বই ও পাসপোর্ট লুট করে নিয়ে যায় প্রধান আসামি শামীম। শামীম গ্রেফতার হলেও আমার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ।
তিনি বলেন, এ হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক। তদন্ত করে অপরাধীদের দ্রুত শাস্তি দিলে এ ধরনের ঘটনা আর কেউ ঘটাতে সাহস পাবে না। 
খুলনা চীফ মেট্রোপিলটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবি রুহুল আমিন বলেন, লবনচরা থানাধীন এলাকায় নানী ও নাতি-নাতনি হত্যা মামলাটি আদালতে বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে। মামলায় এ পর্যন্ত ছয়জন আসামি গ্রেফতার হয়েছে। তবে দু’জন আসামি পুলিশের কাছে হত্যাকান্ডের ঘটনায় অপরাধ স্বীকার করেছেন বলে তিনি জানান।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা লবনচরা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ইউসুফ মোল্লা বলেন, এ মামলায় সাতজন আসামির মধ্যে ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মামলার দু’জন আসামি শামীম ও সালমান অপরাধ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে। তিনি আরো বলেন, বাকি একজন আসামিকে সনাক্ত করা হয়েছে। তাকে খুব শিগগিরই গ্রেফতার করা হবে। তবে হত্যার সময় লুণ্ঠিত মালামাল এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। লুন্ঠিত মালামাল খুব শিগগিরই উদ্ধার করার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি জানান।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ