খুলনা | সোমবার | ১১ মে ২০২৬ | ২৮ বৈশাখ ১৪৩৩

পদ্মা সেতু জাদুঘরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন

মেগা প্রকল্পের নামে লুটপাটে অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত: সেতুমন্ত্রী

খবর প্রতিবেদন |
০৫:৪৩ পি.এম | ১১ মে ২০২৬

 

শরীয়তপুরে পদ্মা সেতুর দক্ষিণ প্রান্তে নির্মাণাধীন পদ্মা সেতু জাদুঘরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, বিগত সরকারের আমলে মেগা প্রকল্পের নামে ব্যাপক দুর্নীতি, অর্থপাচার ও অনিয়মের কারণে দেশের অর্থনীতি বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে। দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

আজ সোমবার (১১ মে) বেলা ১১টার দিকে শরীয়তপুরে পদ্মা সেতুর দক্ষিণ প্রান্তে নির্মাণাধীন পদ্মা সেতু জাদুঘর প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন মন্ত্রী। এ সময় সেতু বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পর মন্ত্রী প্রকল্প এলাকায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় পদ্মা সেতুর দক্ষিণ প্রান্তজুড়ে এক লাখ গাছের চারা রোপণ করা হবে। এতে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি এলাকাটিকে একটি দৃষ্টিনন্দন পর্যটন অঞ্চলে রূপ দেওয়া সম্ভব হবে।

অনুষ্ঠানে বক্তব্যকালে শেখ রবিউল আলম বলেন, “পদ্মা সেতু শুধু একটি সেতু নয়, এটি দেশের সক্ষমতা, আত্মবিশ্বাস ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির প্রতীক। এই সেতুর ইতিহাস, নির্মাণ প্রক্রিয়া এবং দেশের মানুষের আত্মত্যাগের গল্প ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতেই জাদুঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”

তিনি বলেন, “গত সরকারের সময় মেগা প্রকল্পের নামে সীমাহীন লুটপাট হয়েছে। প্রায় ৩০ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে এবং দেশের ওপর ২০ লাখ কোটি টাকার বৈদেশিক ঋণের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। ১৬টি মেগা প্রকল্পে বিপুল অর্থ ব্যয় করা হলেও অনেক প্রকল্পের কাজ এখনো অসম্পূর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে।”

মন্ত্রী অভিযোগ করে বলেন, “দুর্নীতি ও অনিয়মের কারণে আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থাগুলোর আস্থাও নষ্ট হয়েছিল। দাতা সংস্থাগুলো বিগত সরকারের অসহযোগিতা ও দুর্নীতিতে বিরক্ত হয়ে পড়েছিল। এর ফলে দেশের উন্নয়ন কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে।”

তিনি বলেন, “বর্তমান সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে। মেগা প্রকল্পে অনিয়ম ও অর্থপাচারের সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হবে।”

এ সময় শরীয়তপুর-ঢাকা মহাসড়কের চলমান উন্নয়ন কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার আশ্বাস দেন সেতুমন্ত্রী। বলেন, “মহাসড়কের উন্নয়ন শেষ হলে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও সহজ ও নিরাপদ হবে এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি সৃষ্টি হবে।”

সেতু বিভাগের সচিব মো. আব্দুর রউফ-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতু প্রতিমন্ত্রী মো. রাজীব আহসান, শরীয়তপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আহমেদসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ